বিক্ষোভ: চারটি মূল দাবিতে উত্তাল লেহ
নতুন পয়গাম,লেহ, বিশেষ প্রতিবেদনঃ
লাদাখের রাজধানী লেহ অস্থির হয়ে উঠেছে। তরুণদের বিক্ষোভে উত্তাল এই অঞ্চল, যার নেতৃত্ব দিচ্ছে ‘লেহ অ্যাপেক্স বডি’ নামের এক স্বাধীন সংগঠন। গত দুই দিন ধরে সংগঠনের নেতারা সতর্ক করেছিলেন, জনতার ধৈর্যের বাঁধ ভেঙে যাচ্ছে। বুধবার তা সত্যি প্রমাণিত হলো। তবে এই আন্দোলন হঠাৎ শুরু হয়নি; চার বছরের বেশি সময় ধরে লাদাখবাসী এই দাবি নিয়ে কেন্দ্রীয় সরকারের সঙ্গে আলোচনায় রয়েছে।
লেহ অ্যাপেক্স বডি’র যুব শাখা বুধবার একটি বৃহৎ বিক্ষোভের ডাক দেয় এবং কেন্দ্রীয় সরকারের সঙ্গে পরবর্তী বৈঠকের দাবি জানায়। তাদের সদস্যরা ১০ সেপ্টেম্বর থেকে অনশন ধর্মঘট চালিয়ে যাচ্ছিল। স্বরাষ্ট্র মন্ত্রক জানিয়েছে, ৬ অক্টোবর পরবর্তী আলোচনা হবে, যা শেষ বৈঠকের পর দীর্ঘদিন ধরে চলছিল। লাদাখবাসীর মতে, কেন্দ্রীয় সরকার একতরফা তারিখ নির্ধারণ করেছে, যা তাদের অসন্তুষ্ট করেছে।
বিক্ষোভের পেছনের মূল দাবি চারটি:
১. লাদাখকে রাজ্যের মর্যাদা দেওয়া – কেন্দ্রশাসিত অঞ্চলের মর্যাদা তাদের স্বশাসন ও সুরক্ষা দাবি পূরণ করতে পারেনি।
২. উপজাতি মর্যাদা রক্ষা – লাদাখের উপজাতি সম্প্রদায়ের স্বাতন্ত্র্য এবং সংস্কৃতি সংরক্ষণের জন্য ভারতীয় সংবিধানের ষষ্ঠ তফসিলে অন্তর্ভুক্তি।
৩. পৃথক পাবলিক সার্ভিস কমিশন – বেকারত্ব কমাতে এবং স্থানীয়দের সরকারি চাকরিতে অগ্রাধিকার দেওয়ার জন্য।
৪. দুটি সংসদীয় আসন – লাদাখের কণ্ঠস্বর কেন্দ্রে জোরালো করতে। বর্তমানে লাদাখে মাত্র একটি আসন রয়েছে।
কেন্দ্র শুধুমাত্র শেষ দুই দাবিতে আলোচনা করতে রাজি হয়েছে। তাদের বক্তব্য, লাদাখ ইতিমধ্যেই কেন্দ্রশাসিত অঞ্চলের মর্যাদা পেয়েছে। তবে লাদাখবাসীর কাছে এ পর্যাপ্ত নয়।
ষষ্ঠ তফসিল অন্তর্ভুক্তি লাদাখের জন্য গুরুত্বপূর্ণ কারণ এটি উপজাতি অধ্যুষিত অঞ্চলগুলির মতো বৃহত্তর স্বায়ত্তশাসন নিশ্চিত করে। স্বায়ত্তশাসিত জেলা পরিষদ স্থানীয় সম্পদ, কর, আইন এবং সামাজিক রীতি-নীতি পরিচালনার ক্ষমতা রাখে। বর্তমানে লাদাখ স্বায়ত্তশাসিত পাহাড় উন্নয়ন পরিষদ (LAHDC) জেলা-স্তরে পরিকল্পনা ও উন্নয়নের দায়িত্ব পালন করে, কিন্তু আরও বিস্তৃত স্বায়ত্তশাসন চাইছে লাদাখবাসী।
তরুণদের ক্ষোভের অন্যতম কারণ বেকারত্ব। সরকারি সমীক্ষা অনুযায়ী, লাদাখে স্নাতক পাশ করা তরুণদের ২৬.৫% কর্মহীন। দেশের মধ্যে দ্বিতীয় সর্বোচ্চ হার। ২০২৪ সালে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রকের সঙ্গে আলোচনায় লাদাখিদের জন্য সরকারি চাকরিতে ৯৫% সংরক্ষণের প্রস্তাব দেওয়া হয়েছিল।
লেহ-এ বিক্ষোভ শুধুমাত্র রাজ্যের মর্যাদা নয়, স্থানীয় স্বায়ত্তশাসন, চাকরির সুযোগ ও রাজনৈতিক প্রতিনিধিত্বের দাবিতেই শুরু হয়েছে। কেন্দ্র ও স্থানীয় জনগণের মধ্যে আলোচনার মাধ্যমে সমস্যার সমাধানই একমাত্র পথ বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা।








