ধান্যকুড়িয়া হাসপাতালে আশা কর্মীদের বিক্ষোভ
নতুন পয়গাম, মনিরুল ইসলাম তপন, বসিরহাট: বসিরহাট ২ নম্বর ব্লকের অন্তর্গত ধান্যকুড়িয়া গ্রামীণ হাসপাতালে মঙ্গলবার আশা কর্মীদের বিক্ষোভ আন্দোলনে উত্তাল হয়ে ওঠে হাসপাতাল চত্বর। একাধিক ন্যায্য দাবিতে প্রায় দুশো আশা কর্মী সকাল থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত অবস্থান বিক্ষোভে সামিল হন। ২২ ডিসেম্বর থেকে রাজ্যজুড়ে শুরু হওয়া এই আন্দোলনের পরও এখনও পর্যন্ত স্বাস্থ্য দপ্তর বা মুখ্যমন্ত্রীর পক্ষ থেকে কোনো আশ্বাস না মেলায় ক্ষোভ ক্রমশ বাড়ছে।পশ্চিমবঙ্গ আশা কর্মী ইউনিয়নের বসিরহাট শাখার নেত্রী সিমলা খাতুন জানান, ন্যূনতম ১৫ হাজার টাকা মাসিক ভাতা, কর্মরত অবস্থায় মৃত আশা কর্মীদের পরিবারকে এককালীন ৫ লক্ষ টাকা ক্ষতিপূরণ, চার মাসের বকেয়া উৎসাহ ভাতা ও সমস্ত বকেয়া ইনসেনটিভ (এক বছরের পিএলআই সহ) অবিলম্বে পরিশোধ, মোবাইল ব্যবহারে শর্ত প্রত্যাহার ও নিয়মিত ফুল রিচার্জ প্যাক দেওয়া, কেন্দ্রীয় সরকারের ঘোষিত ইনসেনটিভ দ্রুত কার্যকর করা, ভাগে ভাগে ইনসেনটিভ দেওয়া বন্ধ, বছরে ২৪ দিনের ক্যাজুয়াল লিভ ও ৩০ দিনের মেডিকেল লিভ, সরকার ঘোষিত সমস্ত ছুটি এবং মেটারনিটি লিভ ১৮০ দিনে বৃদ্ধি—এই দাবিগুলি পূরণ না হওয়া পর্যন্ত আন্দোলন চলবে।
তিনি আরও বলেন, “গ্রামের মা ও শিশুর সমস্ত স্বাস্থ্য পরিষেবার দায়িত্ব আশা কর্মীদের কাঁধে। কার্যত ২৪ ঘণ্টাই কাজ করতে হয়, অথচ কোনো নির্দিষ্ট ছুটি নেই। মাসে মাত্র ৫২০০ টাকার ভাতায় সংসার চালানো অসম্ভব।” বিক্ষোভকারীদের অভিযোগ, সরকার একদিকে মেলা-খেলা-উৎসবে কোটি কোটি টাকা ব্যয় করছে, অন্যদিকে রাজ্যের প্রাথমিক স্বাস্থ্য ব্যবস্থার মেরুদণ্ড হয়ে থাকা আশা কর্মীরা বছরের পর বছর বঞ্চিত থেকে যাচ্ছেন। উপরন্তু নিত্য নতুন কাজের বোঝা চাপিয়ে দিয়ে তাঁদের জীবনকে দুর্বিষহ করে তোলা হয়েছে। বিক্ষোভ মঞ্চ থেকে আশা কর্মীরা স্পষ্ট হুঁশিয়ারি দেন, দাবি মানা না হলে আগামী দিনে আন্দোলন আরও বৃহত্তর রূপ নেবে।








