উলুবেড়িয়া শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় মেডিকেল কলেজে মহিলা চিকিৎসকের ওপর হামলার প্রতিবাদে বিক্ষোভ
অতসী মন্ডল, নতুন পয়গাম, উলুবেড়িয়া:
উলুবেড়িয়া শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় মেডিকেল কলেজে কর্তব্যরত অবস্থায় এক জুনিয়র মহিলা চিকিৎসকের ওপর নৃশংস হামলার ঘটনায় চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে। ঘটনার প্রতিবাদে বুধবার হাসপাতাল প্রাঙ্গণে বিক্ষোভে ফেটে পড়েন চিকিৎসক, নার্স ও স্বাস্থ্যকর্মীরা। সার্ভিস ডক্টরস ফোরাম, মেডিকেল সার্ভিস সেন্টার এবং নার্সেস ইউনিটির যৌথ উদ্যোগে এই বিক্ষোভ ও ডেপুটেশন কর্মসূচি অনুষ্ঠিত হয়।
বিক্ষোভে নেতৃত্ব দেন সার্ভিস ডক্টরস ফোরামের সাধারণ সম্পাদক ডা. সজল বিশ্বাস, কোষাধ্যক্ষ ডা. স্বপন বিশ্বাস, মেডিকেল সার্ভিস সেন্টারের পক্ষ থেকে ডা. মেহেতাব আলি এবং নার্সেস ইউনিটির পক্ষ থেকে সিস্টার উন্নতি চ্যাটার্জি। তাঁরা প্রিন্সিপাল ও এম.এস.ভি.পি.-এর নিকট একগুচ্ছ দাবি-সংবলিত ডেপুটেশন জমা দেন।
ডা. সজল বিশ্বাস জানান, প্রিন্সিপাল স্বীকার করেছেন যে ঘটনাদিনে হাসপাতালের মধ্যস্থ পুলিশ ফাড়িতে কেউ উপস্থিত ছিলেন না এবং সিকিউরিটি কর্মীর সংখ্যাও ছিল অপর্যাপ্ত। পরিকাঠামোগত ঘাটতির কথাও তিনি কার্যত মেনে নিয়েছেন।
বিক্ষোভকারীরা অভিযোগ করেন, দীর্ঘদিন ধরেই হাসপাতালের নিরাপত্তা ব্যবস্থার ঘাটতি রয়েছে। এর ফলেই চিকিৎসক ও স্বাস্থ্যকর্মীরা প্রায়শই আক্রান্ত হচ্ছেন। মুখ্যমন্ত্রীর ঘোষণার পরও হাসপাতাল চত্বরে স্থায়ী পুলিশ ফাড়ি এখনও চালু হয়নি। চিকিৎসক সমাজের দাবি, অবিলম্বে সেই ফাড়ি কার্যকর করা হোক এবং পর্যাপ্ত সংখ্যক নিরাপত্তাকর্মী নিয়োগ করা হোক। পাশাপাশি হাসপাতালের সামগ্রিক পরিকাঠামো উন্নয়নের দাবিও তোলেন তাঁরা।
চিকিৎসক ও স্বাস্থ্যকর্মীদের অভিযোগ, হামলাকারীদের বিরুদ্ধে এখনও পর্যন্ত যথাযথ ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি। তাঁরা দাবি জানান, মেডিকেয়ার অ্যাক্ট অনুযায়ী হামলাকারীদের বিরুদ্ধে জামিন অযোগ্য ধারায় মামলা রুজু করে উচ্চ পর্যায়ের তদন্ত কমিটি গঠন করতে হবে এবং দোষীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দিতে হবে।
প্রিন্সিপাল ও এম.এস.ভি.পি. প্রতিনিধিদলের দাবির সঙ্গে সহমত পোষণ করেন বলে জানা যায়। তবে দাবি দ্রুত বাস্তবায়িত না হলে আগামী দিনে আরও বৃহত্তর আন্দোলনের পথে নামার হুঁশিয়ারি দিয়েছেন ডা. সজল বিশ্বাস ও অন্যান্য নেতৃবৃন্দ।








