উলুবেড়িয়া মহকুমা অফিসে আশা কর্মী ইউনিয়নের বিক্ষোভ ও ডেপুটেশন
নতুন পয়গাম, অতসী মন্ডল, হাওড়া: বর্তমান সময়ে আশা কর্মীদের কর্মপরিস্থিতি চরম অনিশ্চয়তা ও অবহেলার আবর্তে পড়েছে। কাজ বন্ধ করার উপায় নেই, অথচ নিরলস পরিশ্রমের পরেও প্রাপ্য ভাতা ও ইনসেন্টিভ থেকে বঞ্চিত হতে হচ্ছে—এমনই অভিযোগ তুলে ২৩ ডিসেম্বর থেকে লাগাতার কর্মবিরতির পথে হাঁটেন পশ্চিমবঙ্গ আশা কর্মী ইউনিয়ন (এআইইউটিইউসি অনুমোদিত)। দাবি আদায় না হওয়া পর্যন্ত ধাপে ধাপে আন্দোলন তীব্র করার কর্মসূচির অংশ হিসেবে ৩১ ডিসেম্বর হাওড়া গ্রামীণ জেলার প্রতিটি মহকুমা অফিসে বিক্ষোভ ও ডেপুটেশনের ডাক দেওয়া হয়। সেই কর্মসূচি অনুযায়ী এদিন উলুবেড়িয়া স্টেশনে আশা কর্মীরা জমায়েত হন। সেখান থেকে একটি সুসংগঠিত ও সুশৃঙ্খল বিক্ষোভ মিছিল মহকুমা শাসকের দপ্তরের উদ্দেশে রওনা হয়।
উলুবেড়িয়া স্টেশনে অনুষ্ঠিত সভায় বক্তব্য রাখেন হাওড়া গ্রামীণ জেলার আশা কর্মী ইউনিয়নের সম্পাদক নেত্রী রিনা ভট্টাচার্য। মিছিলটি গরুহাটা মোড়ে কিছু সময়ের জন্য পথ অবরোধ করে, যেখানে জেলা সম্পাদিকা মধুমিতা মুখার্জি আন্দোলনের দাবিদাওয়া তুলে ধরেন। পরে মিছিলটি মহকুমা শাসকের দপ্তরে পৌঁছে বিক্ষোভ প্রদর্শন করে। তহমিনা বেগমের নেতৃত্বে একটি প্রতিনিধি দল মহকুমা শাসকের হাতে ডেপুটেশন জমা দেয়। আন্দোলনরত আশা কর্মীদের দাবি—ন্যূনতম মাসিক ১৫ হাজার টাকা ভাতা প্রদান, কর্মরত অবস্থায় মৃত আশা কর্মীর পরিবারকে এককালীন ৫ লক্ষ টাকা ক্ষতিপূরণ, চার মাসের বকেয়া উৎসাহ ভাতা ও সমস্ত বকেয়া ইনসেন্টিভ অবিলম্বে মেটানো, এক বছরের পিএলআই সহ সকল পরিষেবার টাকা প্রদান, মোবাইল কেনা ও ব্যবহারে শর্ত প্রত্যাহার এবং প্রতি মাসে নিয়মিত ফুল রিচার্জ প্যাক দেওয়া।
পাশাপাশি সরকার ঘোষিত সমস্ত ছুটি কার্যকর করা, কেন্দ্রীয় সরকারের ঘোষিত ইনসেন্টিভ দ্রুত চালু করা, ভাগে ভাগে ইনসেন্টিভ দেওয়ার প্রথা বন্ধ, বছরে ২৪ দিনের ক্যাজুয়াল লিভ ও ৩০ দিনের মেডিকেল লিভ এবং মেটারনিটি লিভ বাড়িয়ে ১৮০ দিন করার দাবিও তোলা হয়। আশা কর্মীদের স্পষ্ট বক্তব্য, সরকার ও প্রশাসন যদি অবিলম্বে এই দাবিগুলির সদুত্তর না দেয়, তবে আগামী দিনে তাঁদের আন্দোলন আরও বৃহত্তর ও তীব্র রূপ নেবে।








