সরকারি বিদ্যালয়ের দেয়ালে বেসরকারি স্কুলের বিজ্ঞাপন
আবু রাইহান, নতুন পয়গাম, কালিয়াচক:
ব্রিটিশ আমলে প্রতিষ্ঠিত ঐতিহ্যবাহী কালিয়াচক হাই স্কুলের দেয়ালে এখন সাঁটা রয়েছে একাধিক বেসরকারি বিদ্যালয়ের বিজ্ঞাপন। ১৯৩৮ সালে প্রতিষ্ঠিত এই সরকারি বিদ্যালয়টি কালিয়াচক চৌরঙ্গী থেকে থানার রাস্তা পেরিয়ে সিলামপুর গ্রামীণ হাসপাতালের সামনে, কালিয়াচক গার্লস স্কুলের পাশেই অবস্থিত। ব্যস্ততম রাস্তায় অবস্থান হওয়ায় বিজ্ঞাপনগুলির দৃশ্যপট যেন আরও স্পষ্ট হয়ে উঠেছে। শিক্ষিত সমাজের একাংশের অভিযোগ, সরকারি বিদ্যালয়ের দেয়ালে বেসরকারি স্কুলের বিজ্ঞাপন লাগানো অত্যন্ত লজ্জাজনক ও প্রশাসনিক উদাসীনতার প্রমাণ। একসময় এই বিদ্যালয় থেকেই বহু ছাত্র-ছাত্রী ডাক্তার, শিক্ষক, ইঞ্জিনিয়ার ও সরকারি অফিসার হিসেবে প্রতিষ্ঠিত হয়েছেন। কিন্তু আজ সরকারি শিক্ষা ব্যবস্থার প্রতি আগ্রহ ক্রমেই হ্রাস পাচ্ছে। বিদ্যালয়ের দেয়ালে লাগানো বিজ্ঞাপন এবং দেয়ালে জন্মানো আগাছা— দুই-ই ঐতিহ্যবাহী এই প্রতিষ্ঠানটির ভাবমূর্তি নষ্ট করছে বলে অভিযোগ উঠেছে।
এই বিষয়ে কমরেড সাইয়াদ ইকবাল মিয়া বলেন,
“রাজ্য সরকার পরিকল্পিতভাবে সরকারি শিক্ষা ব্যবস্থাকে গুটিয়ে দিচ্ছে। সরকারি স্কুলগুলো ধ্বংসের মুখে চলে যাচ্ছে। কালিয়াচকের তিনটি ব্লক মিলিয়ে প্রায় ৫০০ বেসরকারি বিদ্যালয় রয়েছে, যেগুলোর মাধ্যমে সরকার করের আয় পাচ্ছে— তাই সরকারি শিক্ষার গুরুত্ব হারাচ্ছে।” অন্যদিকে, বিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক সায়েম আসগার জানান,
“আমরা কোনোভাবেই এই বিজ্ঞাপন লাগানোর অনুমতি দিইনি। রাতের অন্ধকারে কারা এসে লাগিয়ে যায়, তা বোঝা যায় না। প্রতিবছর পরীক্ষার আগে শ্রমিক লাগিয়ে আমরা এই বিজ্ঞাপনগুলো খুলে ফেলি। এবারও দ্রুত তা সরিয়ে ফেলার ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”
স্থানীয়দের মতে, ঐতিহ্যবাহী এই বিদ্যালয়ের মর্যাদা রক্ষায় প্রশাসনের সক্রিয় হস্তক্ষেপ প্রয়োজন।








