নতুন ঠিকানায় প্রধানমন্ত্রীর দফতর
নতুন পয়গাম, নয়াদিল্লি: দীর্ঘ ৭৮ বছরের ইতিহাসের অবসান। স্বাধীনতার পর এই প্রথম সাউথ ব্লক ছেড়ে নতুন ঠিকানায় সরছে প্রধানমন্ত্রীর দফতর পিএমও। সব কিছু ঠিক থাকলে, আগামী ১৪ জানুয়ারি মকর সংক্রান্তিতে সেন্ট্রাল ভিস্তা পুনর্গঠন প্রকল্পের অংশ হিসেবে নবনির্মিত কমপ্লেক্স ‘সেবা তীর্থ’-তে কাজ শুরু করবেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী।
‘সেবা তীর্থ’ প্রায় ১,১৮৯ কোটি টাকা ব্যয়ে নির্মিত এই বিশাল প্রশাসনিক চত্বরে প্রধানমন্ত্রী, ক্যাবিনেট সচিবালয় এবং জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টার জন্য পৃথক ভবন রাখা হয়েছে। পিএমও-র নতুন ঠিকানা হচ্ছে ‘সেবা তীর্থ-১’ ভবনটি। আধুনিক কর্মপরিসর এবং গুরুত্বপূর্ণ বৈঠকের জন্য বিশালাকার কক্ষ নিয়ে তৈরি এই ভবনের মূল ভাবনাই হল ‘জনসেবা’। ইতিমধ্যেই ক্যাবিনেট সচিবালয় ‘সেবা তীর্থ-২’ ভবনে তাদের কাজ শুরু করে দিয়েছে এবং জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা অজিত দোভাল-এর দফতর থাকবে ‘সেবা তীর্থ-৩’ ভবনে।
১৯৪৭ সাল থেকে রাইসিনা হিলসের সাউথ ব্লকই ছিল দেশের ক্ষমতার প্রধান ভরকেন্দ্র। প্রধানমন্ত্রীর দফতর সেখান থেকে সরে যাওয়ার পর, নর্থ এবং সাউথ ব্লককে মিলিয়ে একটি বিশাল সংগ্রহশালা তৈরি করা হবে। জনসাধারণের জন্য উন্মুক্ত এই জাদুঘরের নাম দেওয়া হয়েছে ‘যুগে যুগীন ভারত সংগ্রহালয়’। এই প্রকল্পের উন্নয়নের জন্য ফ্রান্সের মিউজিয়াম ডেভেলপমেন্ট এজেন্সির সঙ্গে কারিগরি চুক্তিও কেরেছে কেন্দ্র সরকার।
মোদী সরকারের যুক্তি, এই স্থানান্তর কেবল প্রশাসনিক নয়; বরং ঔপনিবেশিক মানসিকতা থেকে বেরিয়ে আসার একটি পদক্ষেপ। এর আগে রাজপথের নাম বদলে ‘কর্তব্য পথ’ করা হয়েছিল। এবার প্রশাসনিক কাজকে আরও দক্ষ ও আধুনিক করতে সমস্ত মন্ত্রককে একই চত্বরে বা কমন সেন্ট্রাল সেক্রেটারিয়েটের অধীনে আনার কাজ চলছে। ‘সেবা তীর্থ’ বা এক্সিকিউটিভ এনক্লেভ কমপ্লেক্সটি সেই লক্ষ্যেই তৈরি করা হয়েছে বলে কেন্দ্র সরকারের দাবি।








