নয়া জিএসটিতেও দাম কমছে না
নতুন পয়গাম,
নয়াদিল্লি ও কলকাতা,২৩ সেপ্টেম্বর: সোমবার ২২ সেপ্টেম্বর থেকে দেশজুড়ে জিএসটি-র নতুন হার চালু হয়েছে। কিন্তু তারপর দু-দিন কেটে গেলেও খোলা বাজারে জিনিসপত্রের দাম এখনও কমেনি। চাল, ডাল, তেল থেকে ওষুধপত্র — সবই আগের দামে বিক্রি হচ্ছে। তারওপর বেশিরভাগ মানুষ জানেই না, কোন জিনিসের দাম কতটা কমেছে। তবে সবাই এটা জানেন যে, জিএসটি-র নতুন হার চালু হয়েছে। কারণ, এ ব্যাপারে রীতিমতো জিএসটি উৎসব শুরু করেছেন প্রধানমন্ত্রী ও তাঁর দলের নেতা-মন্ত্রীরা। রবিবার এই উপলক্ষে দেশবাসীর উদ্দেশ্যে ভাষণে দাম কমানোর কৃতিত্ব নেওয়ার পাশাপাশি নেহরু আমল থেকে কত রকম ট্যাক্স চালু ছিল, কেন এতকাল জিনিসপত্রের দাম কমেনি, সেসব ফিরিস্তি তুলে ধরেন মোদি। কিন্তু দু-দিন পরেও বাজারে দাম যে কে সেই।
কলকাতা শহরে সোমবার বিভিন্ন ওষুধের দোকানে কেমিস্টস অ্যান্ড ড্রাগিস্টস-এর তালিকা দেখা যায়। তাতে লেখা ওষুধের ওপর চার রকমের নতুন জিএসটি হার। সেগুলো হল যথাক্রমে ৬.২৫, ১১.০২, ৪.৭৭ এবং ১০.৭২ শতাংশ। তবে এই চার ধাপের জিএসটির ব্যাখ্যা বা বিস্তারিত বিবরণ জনগণকে জানানোর জন্য কেন্দ্র সরকারের তরফে বিজ্ঞপ্তি বা প্রচার কিছু নেই। তাই নতুন বিষয়টি সাধারণ মানুষের বোধগম্য হচ্ছে না। দোকানদারদেরও অত সময় নেই যে, খরিদ্দারদেরকে এসব বোঝাবেন। ফলে খরিদ্দাররা তাদের জরুরি প্রয়োজনে ওষুধপত্র বা জিনিসপত্র কিনলেও দামের ভিতরের জিএসটি-রহস্য বোঝা সম্ভবপর হচ্ছে না।
অন্যদিকে আরেক বড় সমস্যা হল কম্পিউটারের সফটওয়্যার। বড় বড় দোকানের বিলিং হয় যে সফটওয়্যারে, তাতে এখনই আপডেট করা সম্ভব হয়নি। সবে মাত্র দু-দিন নতুন জিএসটি চালু হয়েছে। তারওপর পুজোর ভিড়। তাই এখনও পর্যন্ত শুধুমাত্র ১২ থেকে কমে ৫ এবং ১৮ থেকে কমে ৫ শতাংশ পরিবর্তনের ওষুধ বা জিনিসপত্রের দাম ধরা পড়ছে। ১২ থেকে কমে শূন্য কিংবা ১৮ থেকে কমে ৫ শতাংশ অথবা ৪০ শতাংশ জিএসটির জিনিসপত্রে দেখা যাচ্ছে আগের দামেই বিক্রি হচ্ছে। সেগুলি নতুন দামে কীভাবে বেচতে হবে, তাই ঠিকঠাক জানেন না দোকানদাররা। ফলে সমস্যা খুবই জটিল। যেমন ল্যাকটুলোজ জাতীয় এক ওষুধের দামে পুরনো ৫ শতাংশ জিএসটিই রয়েছে। ইনসুলিনেও জিএসটি কমেনি। ফলে হতাশ ডায়াবেটিস রোগীরা।
এদিকে দোকানদারদের অভিযোগ, অনেক কিছুর দাম কমেছে, আবার অনেক কিছুর দাম বেড়েছে। বিস্তারিত বা পূর্ণাঙ্গ তালিকা তারা এখনও হাতে পাননি। ফলে পুরনো দামেই অধিকাংশ জিনিসপত্র বিক্রি করতে বাধ্য হচ্ছে তারা। অল ইন্ডিয়া কেমিস্টস অ্যান্ড ড্রাগিস্টস-এর সেক্রেটারি রাজীব সিংঘল বলেন, সফটওয়্যার সমস্যার সমাধান হয়ে যাবে। এ নিয়ে সংশ্লিষ্ট মহলে কথাবার্তা চলছে।








