রাজনৈতিক খুন, আদালতের রায় ১৫ বছর পর
খুন- ২০১০, চার্জশিট- ২০১৭, রায়- ২০২৫
আব্দুল গফফার, নতুন পয়গাম, হুগলি: দীর্ঘ ১৫ বছর পর অবশেষে রায় ঘোষণা করল চুঁচুড়া আদালত। ২০১০ সালের ১৮ মার্চ হুগলির গুড়াপে তৃণমূল কর্মী ক্ষুদিরাম হেমব্রম খুনের ঘটনায় আটজন সিপিআইএম কর্মীকে যাবজ্জীবন সশ্রম কারাদণ্ডের সাজা শোনালেন অতিরিক্ত জেলা ও দায়রা বিচারক সঞ্জয় কুমার শর্মা।
সাজাপ্রাপ্তদের মধ্যে রয়েছেন তৎকালীন গুড়বাড়ি–১ পঞ্চায়েত প্রধান লালু হাঁসদা, রবি বাস্কে, লক্ষীরাম বাস্কে, সিদ্ধেশ্বর মালিক, সনাতন মালিক, গণেশ মালিক, লক্ষ্মীনারায়ণ সোরেন ও নাড়ু টুডু। বিচারাধীন অবস্থায় অভিযুক্ত অমর রুইদাস ও নেপাল মালিক মারা যান।
পুলিশ সূত্রে জানা যায়, খুনের দিন মাঠের কাজ শেষে বন্ধুর বাড়ি গিয়েছিলেন ক্ষুদিরাম। পরে তাঁর বস্তাবন্দী রক্তাক্ত দেহ উদ্ধার হয় ডিভিসি ক্যানেল থেকে। রাজনৈতিক প্রতিশোধ থেকেই এই হত্যাকাণ্ড ঘটেছিল বলে অভিযোগ। তদন্তে নেমে পুলিশ দশজন সিপিআইএম কর্মীকে গ্রেফতার করে এবং খুন, অপরাধমূলক ষড়যন্ত্র ও তথ্যপ্রমাণ নষ্ট করার অভিযোগে মামলা রুজু করে।
২০১৭ সালের জুনে আদালতে চার্জশিট জমা পড়ে ও বিচার প্রক্রিয়া শুরু হয়। ১২ জন সাক্ষীর জবানবন্দিতে চারজন প্রত্যক্ষদর্শী ছিলেন। গত ৬ নভেম্বর অভিযুক্তদের দোষী সাব্যস্ত করে আদালত; মঙ্গলবার ঘোষণা হয় সাজা।
সরকারি আইনজীবী চণ্ডীচরণ ব্যানার্জী বলেন, “দোষীদের সর্বোচ্চ শাস্তির আবেদন জানিয়েছিলাম। আদালত যাবজ্জীবন সশ্রম কারাদণ্ড ও দশ হাজার টাকা জরিমানা করেছে; অনাদায়ে আরও এক বছরের কারাদণ্ড।”
মুখ্য সরকারি আইনজীবী শঙ্কর গঙ্গোপাধ্যায় জানান, “প্রায় ১৫ বছর পর ন্যায়বিচার মিলল।”
অন্যদিকে দোষীরা দাবি করেন, “আমাদের রাজনৈতিকভাবে ফাঁসানো হয়েছে।”








