পিএম কেয়ার্স নিয়ে প্রশ্ন করা যাবে না লোকসভাকে কড়া নির্দেশ প্রধানমন্ত্রীর অফিসের
নতুন পয়গাম, নয়াদিল্লি: পিএম কেয়ার্স ফান্ড-সহ প্রধানমন্ত্রীর দফতরের অধীনে থাকা তিনটি গুরুত্বপূর্ণ তহবিল নিয়ে সংসদে কোনও প্রশ্ন করা যাবে না বলে সাফ জানিয়ে দিল কেন্দ্র সরকার। সম্প্রতি লোকসভা সচিবালয়কে দেওয়া এক চিঠিতে প্রধানমন্ত্রী দফতর স্পষ্ট বলেছে, এই তহবিলগুলোর আয়-ব্যয় সংসদীয় নজরদারির আওতায় পড়ে না। সরকারের এই অবস্থান প্রকাশ্যে আসতেই রাজনৈতিক মহলে নতুন করে বিতর্কের সৃষ্টি হয়েছে।
গত ৩০ জানুয়ারি লোকসভা সচিবালয়কে এ সংক্রান্ত চিঠি পাঠিয়েছে পিএমও। চাতে লোকসভার কার্যবিধির ধারা ও অনুচ্ছেদ উল্লেখ করে জানানো হয়েছে, ‘পিএম কেয়ার্স’, ‘প্রধানমন্ত্রী জাতীয় ত্রাণ তহবিল’ এবং ‘জাতীয় সামরিক তহবিল’ সম্পূর্ণভাবে সাধারণ মানুষের স্বেচ্ছা অনুদানের ওপর ভিত্তি করে পরিচালিত। প্রধানমন্ত্রীর দফতরের দাবি, যেহেতু দেশের সরকারি কোষাগার বা সাধারণ বাজেট থেকে এই তহবিলগুলোতে অর্থ বরাদ্দ করা হয় না, তাই এগুলো নিয়ে সংসদে আলোচনার কোনো এক্তিয়ার নেই। কার্যবিধির নিয়ম অনুযায়ী, এমন কোনো বিষয়ে প্রশ্ন তোলা যাবে না, যা সরকারি দায়বদ্ধতার মধ্যে পড়ে না বা অন্য কোনো সংস্থা দ্বারা নিয়ন্ত্রিত।
২০২০ সালের মার্চ মাসে করোনা মোকাবিলায় গঠিত ‘পিএম কেয়ার্স ফান্ড’ নিয়ে শুরু থেকেই স্বচ্ছতার দাবি তুলে আসছে বিরোধীরা। সরকারি হিসাব অনুযায়ী, ২০২৩ সালের মার্চ পর্যন্ত এই তহবিলে ৬,২৮৩.৭ কোটি টাকা জমা ছিল। তবে এটি একটি পাবলিক চ্যারিটেবল ট্রাস্ট হিসেবে নথিভুক্ত হওয়ায় এর খুঁটিনাটি তথ্য দিতে সরকার বরাবরই নারাজ।
এদিকে কেন্দ্রের এই নতুন সিদ্ধান্তের কড়া সমালোচনা করেছে কংগ্রেস-সহ বিরোধী শিবির। কংগ্রেস জানিয়েছে, আরটিআই এর মাধ্যমে তথ্য দিতে আগেই অস্বীকার করা হয়েছিল, আর এখন সাংসদদের প্রশ্ন করার অধিকারও কেড়ে নেওয়া হচ্ছে। বিরোধীদের মতে, জনসাধারণের অর্থ যে তহবিলে জমা হয়, সেখানে জবাবদিহি থাকা বাধ্যতামূলক। সাম্প্রতিক বছরগুলোতেও এই তহবিলগুলোর অডিট নিয়ে বিতর্ক হয়েছে, তবে বর্তমান সিদ্ধান্তের ফলে সেই বিতর্কে নতুন মাত্রা যোগ হল। সরকারের এমন অবস্থানকে স্বচ্ছতার পরিপন্থী এবং সংসদীয় গণতন্ত্রের জন্য ক্ষতিকর বলে অভিযোগ এনেছে বিরোধী দলগুলো।








