সাড়ে তিন বছর পর আড়াই ঘণ্টা মণিপুরে প্রধানমন্ত্রী
নতুন পয়গাম, ইম্ফল, ১৩ সেপ্টেম্বর:
সাড়ে তিন বছর পর শনিবার মণিপুর সফরে গেলেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী। শেষবার ২০২২ সালের ২২ ফেব্রুয়ারি গিয়েছিলেন তিনি। অবশ্য সেটা ছিল বিধানসভা নির্বাচনের প্রচার। সেই নির্বাচনে জিতে বিজেপি মণিপুরে ক্ষমতায় আসার এক বছরের মাথায় জাতিদাঙ্গায় অশান্ত হয়ে উঠে মণিপুর। ২০২৩ সালের ৩ মে থেকে শুরু হওয়া রক্তক্ষয়ী দাঙ্গা আজও থামাতে পারেনি ডাবল ইঞ্জিন সরকার। ইতিমধ্যে মুখ্যমন্ত্রী এন বীরেণ সিংকে সরিয়ে রাষ্ট্রপতি শাসন জারি হয়েছে মণিপুরে। কিন্তু তার আগে বা পরে গত আড়াই বছরে দাঙ্গা চলাকালে প্রধানমন্ত্রী একদিনের জন্যও মণিপুরে পা রাখেননি।
শনিবার যে তিনি মণিপুর যাচ্ছেন, তাও শেষ মুহূর্ত পর্যন্ত গোপন রাখা হয়েছিল। আগের দিন শুক্রবার সরকারিভাবে ঘোষণা করেন রাজ্যের মুখ্যসচিব পুনিত কুমার গোয়েল। জানা যায়, মাত্র আড়াই থেকে তিন ঘণ্টা থেকে দিল্লি ফিরে যাবেন প্রধানমন্ত্রী।
এদিকে, অশান্ত মণিপুরে মোদীর সফরকে ঘিরে উত্তেজনার আশঙ্কা ছিলই। বৃহস্পতিবার রাতেই চুড়াচাঁদপুরে হিংসা ছড়ায়, মোদীর কাটআউট ভেঙে আগুন ধরিয়ে দেয় কিছু লোক। তাই এদিন রাত থেকে নিরাপত্তা আরও জোরদার করা হয়। বিভিন্ন রাজনৈতিক দল ও সংগঠন প্রধানমন্ত্রীর অনুষ্ঠান বয়কটের ডাক দেয়। চুড়াচাঁদপুরে মোদীর সভায় খোদ বিজেপির মেইতেই বিধায়করা উপস্থিত থাকবেন না বলে হুমকি দেন। বিজেপির কুকি সম্প্রদায়ের বিধায়করা মোদীর মঞ্চে থাকবেন কিনা, তাও অনিশ্চিত ছিল। উল্লেখ্য, বিজেপির সাত জন কুকি বিধায়ক ছিলেন। তার মধ্যে দু’জন মন্ত্রী। গত আড়াই বছর ধরে তাঁরা রাজধানী ইম্ফলে যাননি বা বিধানসভা অধিবেশনেও যোগ দেননি। মন্ত্রীসভার বৈঠকেও তারা উপস্থিত হতেন না।
মোদীর এই ঝটিকা সফরকে কটাক্ষ করে মণিপুর প্রদেশ কংগ্রেস সভাপতি কে মেঘচন্দ্র বলেন, বিজেপির বিভাজনের রাজনীতির কারণেই মণিপুর অগ্নিগর্ভ। আড়াই বছর ধরে হিংসার আগুনে পুড়ে ছারখার হয়ে গেছে উত্তর-পূর্বের এই ছোট্ট রাজ্য। আড়াই বছর পর প্রধানমন্ত্রী মাত্র আড়াই ঘণ্টার জন্য মণিপুর এলেন। স্রেফ বক্তৃতা শুনিয়ে চলে গেলেন। দেশের বিরোধী দলনেতা রাহুল গান্ধী বলেছেন, আড়াই বছর পর মণিপুরের কথা মনে পড়েছে মোদীজির। মণিপুরবাসীর কাছে এটাই আপাতত অনেক বড় প্রাপ্তি।








