আইটিআই-তে পূর্ব ভারতের প্রথম — সুন্দরবনের সায়নের হাতে শংসাপত্র তুলে দিলেন প্রধানমন্ত্রী মোদি
উজ্জ্বল বন্দ্যোপাধ্যায়, নতুন পয়গাম, জয়নগর :
আবারও সাফল্যের সুরে মুখর সুন্দরবন। ক্যানিংয়ের তরুণ সায়ন নস্কর লিখলেন নতুন ইতিহাস—আইটিআই পরীক্ষায় পূর্ব ভারতের মধ্যে প্রথম স্থান অর্জন করে শংসাপত্র গ্রহণ করলেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির হাত থেকে।
৬০০-এর মধ্যে ৬০০ নম্বর পেয়ে সায়ন হয়ে উঠেছেন গর্বের প্রতীক। রাজধানী দিল্লির বিজ্ঞান ভবনে আয়োজিত কেন্দ্রীয় সরকারের অনুষ্ঠানে সারা দেশের মেধাবী আইটিআই ছাত্রছাত্রীদের সম্মানিত করা হয়। সেখানে উপস্থিত থেকে প্রধানমন্ত্রী নিজ হাতে শংসাপত্র প্রদান করেন সায়নকে।
সায়নের এই সাফল্যের পেছনে রয়েছে এক অনুপ্রেরণামূলক অধ্যবসায়ের গল্প। দক্ষিণ ২৪ পরগনার তালদি গ্রামে ছোট্ট একটি বাড়িতে বাবা-মায়ের সঙ্গে থাকেন তিনি। মা রিনা নস্কর পেশায় আশাকর্মী, বাবা সুব্রত নস্কর তালদি বাজারে ছোট্ট একটি পান-বিড়ির দোকান চালান। সংসারের আর্থিক সচ্ছলতা না থাকলেও ছেলের শিক্ষায় কোনোদিনই কার্পণ্য করেননি তাঁরা।
ছোটবেলা থেকেই সায়নের পড়াশোনার প্রতি ছিল অগাধ আগ্রহ। স্কুলজীবনে নিয়মিত ভালো ফল করার পর ভর্তি হন ক্যানিংয়ের বঙ্কিম সর্দার কলেজে। সেখান থেকে স্নাতক শেষ করে ভর্তি হন ক্যানিং ১ নম্বর ব্লকের আইটিআই কলেজে, কম্পিউটার অপারেটিং অ্যান্ড প্রোগ্রামিং কোর্সে। এবছর জুলাই মাসে অনুষ্ঠিত পরীক্ষায় অংশ নিয়ে তিনি অকল্পনীয় সাফল্য অর্জন করেন। সেপ্টেম্বর মাসে ফলাফল প্রকাশের পর জানা যায়, ৬০০-এর মধ্যে ৬০০ নম্বর পেয়েছেন সায়ন নস্কর—যা গোটা পূর্ব ভারতের মধ্যে সর্বোচ্চ।
প্রধানমন্ত্রীর হাতে শংসাপত্র পাওয়ার পর সায়ন বলেন,
“এই সাফল্য আমার মা-বাবার। তাঁদের ত্যাগ ও পরিশ্রমই আজ আমাকে এই জায়গায় পৌঁছে দিয়েছে।”
বর্তমানে তিনি রেলের চাকরির জন্য প্রস্তুতি নিচ্ছেন।
উল্লেখযোগ্যভাবে, গত বছরও ক্যানিংয়ের এই আইটিআই কলেজ থেকেই আরেক ছাত্র সারা ভারতে প্রথম হয়েছিলেন। পরপর দুই বছরে এমন কৃতিত্বে উচ্ছ্বসিত শিক্ষক-ছাত্ররা। কলেজের অধ্যক্ষ বলেন,
“আমাদের ছাত্রছাত্রীরা প্রমাণ করেছে—গ্রামের মাটিতেও প্রতিভা লুকিয়ে থাকে, সুযোগ পেলে তারা গোটা দেশকে গর্বিত করতে পারে।”
সায়নের এই সাফল্যে আজ গর্বিত সুন্দরবন, গর্বিত গোটা মালদা ও দক্ষিণ ২৪ পরগনা।








