BREAKING:
জোড়াসাঁকোয় সাহিত্য-সংস্কৃতির মহোৎসবে কলম শিল্পী গ্র্যান্ড ফেস্টিভ্যাল ২০২৬ খোশবাগ বাসস্ট্যান্ডের কাছে পথ দুর্ঘটনা, অল্পের জন্য রক্ষা পেলেন দন্ত চিকিৎসক বসিরহাট দরবার শরিফে হুমায়ুন কবীর, পেলেন উষ্ণ অভ্যর্থনা লাল বালির চড়া দাম, গ্রামবাসীদের ভরসা পাথরের গুড়ো   রমজানে অসহায়দের পাশে আল হোসাইনী হেল্প ফাউন্ডেশন সুন্দরবনের লবণাক্ত মাটিতে সূর্যমুখী চাষে সাফল্য, লাভের মুখ দেখছেন কৃষকরা হুগলি জেলায় এসআইআর এর প্রথম পর্যায়ের খসড়া ভোটার তালিকা প্রকাশ করলেন জেলা শাসক খুরশিদ আলি কাদরি  বন্যপ্রাণীর উপদ্রব রুখতে তৎপর বনদপ্তর উত্তাপহীন ডার্বিতে মহামেডানকে ৫ গোলে উড়িয়ে দিল মোহনবাগান মরণবাঁচন ম্যাচে আজ সামনে ওয়েস্ট ইন্ডিজ, জিততেই হবে ভারতকে রাজনগরে চাঞ্চল্য: গাংমুড়ি গ্রামে বাড়ির ভিতর ঝুলন্ত দেহ উদ্ধার মোবাইল গেম খেলতে খেলতেই নিভে গেল ২১ বছরের তরতাজা প্রাণ  মুর্শিদাবাদের মুকুটে নতুন দুই পালক, বিশ্ববিদ্যালয় ও কাটরা মসজিদের তোরণ প্রকল্পের শিলান্যাস করলেন মন্ত্রী ফিরহাদ হাকিম! রাজ্যে নতুন রাজনৈতিক দলের আত্মপ্রকাশ, আগামী বিধানসভা নির্বাচনে ত্রিশটি আসনে লড়বে পুকুর খনন করার সময় প্রাচীন বিষ্ণু মূর্তি উদ্ধার হল পান্ডুয়ায় ওয়েস্ট ইন্ডিজকে উড়িয়ে সেমিফাইনালে দক্ষিণ আফ্রিকা। রানে ফিরলেন অভিষেক, জয়ে ফিরলো ভারত; বেঁচে রইলো সেমির স্বপ্ন এসআইআর  ইস্যুতে আতঙ্ক নয়, আইনি পথে আপিলের আহ্বান মিল্লি ঐক্য মঞ্চের কালিয়াচক আবাসিক মিশনে বিজ্ঞান বিভাগের প্রবেশিকা পরীক্ষা সম্পন্ন, উৎসাহ চোখে পড়ার মতো পরীক্ষার দিন আচমকা মৃত্যু অষ্টম শ্রেণির ছাত্রের, শোকস্তব্ধ সোনারপুর নাবালিকাকে বিবাহের অভিযোগে জয়নগরে গ্রেপ্তার যুবক জয়নগরে মর্মান্তিক পথ দুর্ঘটনা, আহত তিন শ্রমিক নেতা মহম্মদ ওয়েস এর নেতৃত্বে বড়জোড়ায় বিরাট মিছিল কুলতলির বিধায়কের উপস্থিতিতে ঢালাই রাস্তার কাজের সূচনা হলো নলগোড়ায় ঘুটিয়ারীশরিফে পুলিশের তৎপরতায় ৫৪ গ্রাম হেরোইন উদ্ধার গঙ্গাকে দূষণমুক্ত করতে উদ্যোগ সুন্দরবনে বাঘের হামলায় ফের মৃত্যু, সরকারি ক্ষতিপূরণের দাবি এসআইও নিয়ে মিথ্যা মন্তব্যের প্রতিবাদে কলকাতায় সাংবাদিক সম্মেলন জামাআতে ইসলামী হিন্দের ইফতার সামগ্রী বিতরণ বই হোক সই, বইয়ের জন্য করিমপুরে পথে হাঁটল শত শত মানুষ রমজান মাসে ৩০০ দুস্থ পরিবারের পাশে সমাজসেবী হাফেজ নজরুল ইসলাম অবশেষে ধুলিয়ান গঙ্গা স্টেশনে বাংলা স্থান পেল  মুর্শিদাবাদে দুই মেগা প্রকল্পের শিলান্যাস ২৮ ফেব্রুয়ারি ভাঙড়ে ২৮ টি তাজা বোমা ও আগ্নেয়াস্ত্র উদ্ধার, গ্রেপ্তার দুই জন্মদিনে অবহেলিত ভূদেব মুখোপাধ্যায়, তালাবন্ধ গ্রীলে মালা ঝুলিয়ে জন্মদিন পালন করল বিজেপি বালিভর্তি ট্রাক চলাচল ঘিরে উত্তেজনা, সোনামুখীতে গ্রামবাসীর রাতভর বিক্ষোভ বসিরহাটে দলবদল ঘিরে রাজনৈতিক উত্তাপ, তৃণমূলের সভায় বহু নেতার যোগদান ভোটের আগে বিরোধী শিবিরে বড় ভাঙন কুলতলীতে কালিয়াচকের বাহাদুরপুরে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ড চুঁচুড়ায় সোমবার সাতসকালে পথ দুর্ঘটনা, জখম যুবকের অবস্থা আশঙ্কাজনক নিহত সেনা জওয়ানের মরদেহ পৌঁছাল শেখপাড়ার বাড়িতে ব্লক প্রাণিসম্পদ বিকাশ দিবস পালিত জয়নগরে অনলাইন বাণিজ্যের প্রসারে ক্ষুদ্র ব্যবসা চাপে: মত বড়জোড়া চেম্বার অফ কমার্স এন্ড ইন্ডাস্ট্রিজ বিজেপি শাসিত মধ্যপ্রদেশে ফের পরিযায়ী শ্রমিকের উপর হামলা উত্তরলক্ষীপুরের গর্ব: প্রসূতি ও স্ত্রীরোগ বিশেষজ্ঞ হতে চলেছেন ডা: মোবারাক হোসেন পুনরাবৃত্তি চায় ভারত, দক্ষিন আফ্রিকা চায় প্রত্যাবর্তন; সুপার এইটে আজ হাড্ডাহাড্ডি লড়াই টানা দুই ম্যাচে জয় ইস্টবেঙ্গলের, দুই ম্যাচেই জোড়া গোল ইউসুফের বৃষ্টিতে ধুয়ে গেল পাকিস্তান-নিউজিল্যান্ডের ম্যাচ আজ শুরু সুপার এইটের লড়াই, প্রথম ম্যাচে মুখোমুখি পাক বনাম নিউজিল্যান্ড আজ ইস্টবেঙ্গলের সামনে স্পোর্টিং দিল্লি, ভরসার নাম ইউসুফ আজ্জেরি প্রত্যাশিত হার, ঘরের মাঠে মহামেডান বধ এফসি গোয়ার ১৫ বছরেও শেষ হয়নি বক্সীপুর ব্রিজ নির্মাণ কাজ, জনস্বার্থ মামলা গড়াল কলকাতা হাই কোর্টে করিমপুর এলাকাবাসীকে বহরমপুর যেতে আর পেরুতে হবেনা বিপদ সংকুল রাস্তা এসআইআর এর চাপ, শ্রীরামপুরে মাঝ গঙ্গায় ঝাঁপ বিএলও’র ছেলেধরা সন্দেহে পুড়িয়ে খুনের চেষ্টার ঘটনায় বলাগড়ে ২৫ জন দোষীকে সাজা শোনালো চুঁচুড়ার ফার্স্ট ট্রাক কোর্ট বেআইনি মাটির গাড়ির ধাক্কায় ২ যুবকের মর্মান্তিক মৃত্যু আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস উদযাপনে জি-প্লটের আদিবাসী শিশুরা  জল্পনার অবসান, তৃণমূল কংগ্রেসে যোগ দিলেন বাম যুব নেতা প্রতীক উর রহমান কনকচূড় ধানের চাল পেল জাতিসংঘের ঐতিহ্য স্বীকৃতি, খুশির হাওয়া জয়নগর জুড়ে বাল্যবিবাহ প্রতিরোধে প্রশাসন-এনজিওর যৌথ উদ্যোগে সচেতনতা শিবির ঘোড়ামারা দ্বীপ রক্ষায় জরুরি পদক্ষেপের নির্দেশ ট্রাইব্যুনালের, গঠিত হচ্ছে উচ্চ পর্যায়ের কমিটি শেষ সময় ঘনাতেই যুব সাথী প্রকল্পের ফর্ম জমায় দীর্ঘ হচ্ছে লাইন পখন্না রামকৃষ্ণ আশ্রমে শ্রীরামকৃষ্ণের ১৯১তম জন্মতিথি উদ্‌যাপন বড়জোড়া কলেজে আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস পালিত সায়েম চৌধুরী ওরফে বাবু: সংগঠন, সংগ্রাম ও সেবার রাজনীতি সোনার প্রতিমার প্রলোভনে ১১ লক্ষ টাকার প্রতারণা ঘুঁটিয়ারীশরিফে পুলিশের সাফল্য: ২৪ চুরি যাওয়া মোবাইল উদ্ধার হুগলি জেলা স্বাস্থ্য দপ্তরের উদ্যোগে খাদ্য সুরক্ষা মেলা’য় সুষম খাদ্য খাওয়ার পরামর্শ  উলুবেড়িয়ায় ১৫ টিয়া উদ্ধার, আন্তরাজ্য পাখি পাচারচক্রের সদস্য গ্রেফতার সরকারি জমি দখল ও নয়নজুলি ভরাটের অভিযোগে চাঞ্চল্য ধূপগুড়িতে কাবিলপুর হাই স্কুলের ৪৭তম প্রতিষ্ঠা দিবস ঘটা করে উদযাপন পবিত্র রমজান মাস শুরুর ঠিক আগে ইফতার সামগ্রী বিতরণ জয়নগরে ২০২৬ নির্বাচন ঘিরে ফারাক্কায় জোর চর্চায় রেহেনা ইয়াসমিন  পিতা-মাতার স্মৃতিতে আট দিনব্যাপী ক্রিকেট টুর্নামেন্টের আয়োজন পুলিশকর্মী ছেলের উদ্যোগে সুন্দরবনের মৎস্যজীবীদের মৃত্যু মিছিল থামছেই না, সরকারি ক্ষতিপূরনের দাবি মাটি, মানুষ ও সংগঠন: রাবিউল ইসলামের রাজনৈতিক দর্শন দুবে ঝড়ে উড়ে গেল নেদারল্যান্ডস, বোলিংয়ে নায়ক বরুণ হঠাতই ব্যাটিং বিপর্যয়, রঞ্জি থেকে বিদায় বাংলার ফারহানের দুরন্ত সেঞ্চুরি, সুপার এইটে পাকিস্তানও ‘ডু অর ডাই’ ম্যাচে আজ নামিবিয়ার মুখোমুখি পাকিস্তান সামির ৮ উইকেটেও, ব্যাটিং বিপর্যয়ে হারের মুখে বাংলা চুঁচুড়ায় প্রার্থী ঘোষণার আগেই দেওয়াল লিখনে জোর তৃণমূল, পাল্টা কটাক্ষ বিজেপির কুলতলিতে আয়ুষ মেলা: বিকল্প চিকিৎসা সম্পর্কে সচেতনতা বাড়াতে উদ্যোগ রানীনগরে তৃণমূল কংগ্রেসের কর্মীসভা ও জাকির হোসেনের উপস্থিতিতে উপচে পড়া ভিড়  কৃষকদের সমস্যা সমাধানে চালু ‘ভারত বিস্তার’ এআই টুল গোবর্ধনডাঙ্গায় তৃণমূল ট্রেড ইউনিয়নের কর্মী সভা কাবিলপুরে মানব সেবা ফাউন্ডেশনের পথচলা শুরু মালদা জেলায় হাই মাদ্রাসা, আলিম ও ফাজিল পরীক্ষা নির্বিঘ্নেই সম্পন্ন পা দিয়ে লিখেই উচ্চ মাধ্যমিক পরীক্ষা মানকুন্ডুতে সারা বাংলা একদিনের দাবা প্রতিযোগিতা মেরা যুব ভারতের উদ্যোগে মগরাহাটে জেলা ক্রীড়া প্রতিযোগিতা অপসংস্কৃতির স্রোতের বিপরীতে নাট্যচর্চার বার্তা – বাগনানে তিনদিনের নাট্য উৎসবে নজর কাড়ল বাঙালপুর বয়েজ ক্লাব দ্বীপাঞ্চলবাসীর দীর্ঘদিনের স্বপ্নপূরণ: আমতায় নির্মীয়মাণ কংক্রিটের সেতুতে বাড়ছে আশার আলো মানসম্মত শিক্ষা ও দক্ষ ব্যবস্থাপনার লক্ষ্যে কলকাতায় স্কুল ম্যানেজমেন্ট কর্মশালা জীবনে কিছু জায়গা থেকে চুপচাপ সরে আসতে হয় ১৪ই ফেব্রুয়ারি: ভালবাসার দিন হিসেবে কেন পালিত হয়? সুদ, মাদক ও জুয়ার অদৃশ্য জোট: সমাজ ধ্বংসের নীরব চক্রান্ত আদ্রায় ‘বিনা পয়সার বাজারে’ উপচে পড়া ভিড়, হাসি ফিরল অসংখ্য মুখে মেডিকেল ভর্তিতে কাট অফ বিতর্কে তোলপাড় দেশ হবু ডাক্তারদের মান, মেধা ও রোগীর নিরাপত্তা নিয়ে প্রশ্ন কেরালার আদালতে নতুন অধ্যায় রচিত দৃষ্টিহীন তরুণী বিচারক গড়লেন নজির

দেশভাগ: দায়ী কে বা কারা

প্রকাশিত: ১৮ আগস্ট ২০২৫, দুপুর ১২:১১ | আপডেট: ১৮ আগস্ট ২০২৫, দুপুর ১২:১১

মাসুদুর আলি, নতুন পয়গাম 

আরও পড়ুন:

ভারতবর্ষের ইতিহাসে ১৯৪৭ সালের দেশভাগ নিঃসন্দেহে অন্যতম বড় ট্র্যাজেডি। হাজার বছরের সহাবস্থানের ঐতিহ্য, মিলনমেলার সংস্কৃতি, পারস্পরিক মত ও ভাব বিনিময়, আর আন্তঃসম্পর্কের শিকড় ছিন্নভিন্ন করে ভারতবর্ষ দ্বিখণ্ডিত হয়ে এক রাতে দুটি পৃথক রাষ্ট্র তৈরি হল — ভারত ও পাকিস্তান। দেশভাগ শুধু ভৌগোলিক সীমারেখার বিভাজনই নয়, এটি ছিল মানুষের হৃদয়, বিশ্বাস, সংস্কৃতি এবং ইতিহাসের বিভাজন। অগণিত মানুষ বাস্তুচ্যুত হল, কয়েক লক্ষ মানুষ প্রাণ হারাল, আর যে ক্ষত তৈরি হল — তা আজও দক্ষিণ এশিয়ার রাজনীতি ও সমাজে দগদগে ক্ষতচিহ্ন হিসেবে রয়ে গেছে।
প্রশ্ন হলো, এই দেশভাগের জন্য দায়ী কে বা কারা? দীর্ঘকাল ধরে প্রচলিত বয়ানে বলা হয়েছে, মুসলিম লীগই দেশভাগের মূল কারিগর। জিন্নাহর পাকিস্তান দাবিকেই সবসময় আলাদা রাষ্ট্র সৃষ্টির জন্য অভিযুক্ত করা হয়েছে। কিন্তু যদি ইতিহাসকে গভীরভাবে দেখা যায়, দলিল-দস্তাবেজ অধ্যয়ন করা হয় এবং নিরপেক্ষ বিশ্লেষণ করা হয়, তবে স্পষ্ট বোঝা যায়, দেশভাগের জন্য মুসলিম লীগ একাই নয়, কংগ্রেস তথা হিন্দু নেতৃত্বের একগুঁয়ে মনোভাব, রাজনৈতিক আধিপত্যবাদ এবং হিন্দু মহাসভার সাম্প্রদায়িক রাজনীতিও ছিল সমান দায়ী। যদি কংগ্রেস কিছুটা নমনীয় হত, মুসলিমদের স্বার্থকে গুরুত্ব দিত, সাম্য ও মৈত্রীর নীতিকে প্রাধান্য দিত এবং ক্ষমতার সুষম বণ্টনে আন্তরিক হত, তবে পাকিস্তান আন্দোলন হয়ত এত ব্যাপক সমর্থন পেত না, এবং দেশ ভাগও হত না।
কংগ্রেসের ব্যর্থতা যেখানে: কংগ্রেস দাবি করত, তারা আসমুদ্র হিমাচল পরিবেষ্ঠিত ভারতবাসীর প্রতিনিধি। কিন্তু বাস্তবে কংগ্রেসের রাজনৈতিক পলিসি, এজেন্ডা ও কর্মকাণ্ডে প্রতিফলিত হত কেবল সংখ্যাগুরু সমাজের কল্যাণের দিকটাই। ১৯৩৭ সালের প্রাদেশিক নির্বাচনেই এর প্রমাণ মেলে। মুসলিম লীগ তখন তুলনামূলক দুর্বল ছিল এবং মুসলমানদের ভোট ব্যাপকভাবে বিভক্ত হয়। কিন্তু নির্বাচনের পর কংগ্রেস যখন সরকার গঠন করল, তখন আনুপাতিক হারে মুসলমানদের রাজনৈতিক অংশগ্রহণ সুনিশ্চিত করার পরিবর্তে তাদেরকে প্রশাসন ও সরকার থেকে বঞ্চিত করা হল।
উত্তর প্রদেশে মুসলিম লীগ কংগ্রেসের মন্ত্রিসভায় যোগ দিতে চেয়েছিল, কিন্তু কংগ্রেস স্পষ্ট জানিয়ে দিল তাদের প্রয়োজন নেই। ফলে মুসলমানদের মনে ভয় তৈরি হল যে, স্বাধীন ভারতে তারা রাজনৈতিকভাবে প্রান্তিক হয়ে পড়বে। তাছাড়া কংগ্রেসি শাসনে নানা সিদ্ধান্ত মুসলমানদের মধ্যে অসন্তোষ সৃষ্টি করে, যেমন স্কুল-কলেজে ‘বন্দে মাতরম’ গান বাধ্যতামূলক করা, যা মুসলমানদের ধর্মীয় অনুভূতির সঙ্গে সাংঘর্ষিক ছিল। হিন্দিকে রাষ্ট্রভাষা করার চেষ্টা, যা উর্দুভাষী মুসলমানদের মধ্যে আতঙ্ক তৈরি করে। গোমাংস ভক্ষণ নিয়ে উগ্র হিন্দু ভাবাবেগকে প্রশ্রয় দেওয়া, যা মুসলমানদের প্রতি অবমাননাকর আচরণ হিসেবে দেখা দেয়। এসব অভিজ্ঞতা মুসলমানদের কাছে বার্তা এই দিল যে, স্বাধীন ভারতে কংগ্রেসের নেতৃত্বে সংখ্যাগুরু সমাজের আধিপত্যই প্রতিষ্ঠিত হবে, সংখ্যালঘুরা ন্যায্য বা প্রাপ্য অধিকার পাবে না।
গান্ধী-নেহরু ও জিন্নাহ: মোহাম্মদ আলী জিন্নাহ প্রথম জীবনে জাতিগত ঐক্য ও সম্প্রীতির প্রতি দৃঢ় বিশ্বাসী নেতা ছিলেন। তিনি কংগ্রেসের কেন্দ্রীয় সদস্য হিসেবে গান্ধী-নেহরুর সঙ্গে একই মঞ্চে কাজ করেছিলেন। কিন্তু ধীরে ধীরে কংগ্রেস তাকে প্রান্তিক করে তোলে। জিন্নাহ যখন মুসলমানদের অধিকার রক্ষার্থে আলাদা কণ্ঠস্বর তুলতে শুরু করেন, তখন কংগ্রেস নেতৃত্ব সেই দাবিকে গুরুত্ব দেয়নি। ১৯৪৬ সালের ক্যাবিনেট মিশন পরিকল্পনা ছিল দেশভাগ রোধ করার সর্বশেষ বড় সুযোগ। পরিকল্পনায় বলা হয়েছিল, ভারত একটি ফেডারেল রাষ্ট্র থাকবে, যেখানে মুসলিম সংখ্যাগরিষ্ঠ প্রদেশগুলোকে আলাদা গ্রুপে স্বায়ত্তশাসন দেওয়া হবে। এতে পাকিস্তান না গড়েই মুসলমানদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা যেত। কিন্তু জওহরলাল নেহরু প্রকাশ্যে ঘোষণা করেন, কংগ্রেস এই পরিকল্পনার কোনো বাধ্যবাধকতা মানবে না। এই ঘোষণাই মুসলিম লীগকে চূড়ান্তভাবে পাকিস্তানের দাবির দিকে ঠেলে দেয়।
১৯৪৬ সালের নির্বাচন; বিভাজনের ইঙ্গিত: দেশভাগের আগে সবথেকে গুরুত্বপূর্ণ রাজনৈতিক ঘটনা ছিল ১৯৪৬ সালের প্রাদেশিক নির্বাচন। এই নির্বাচনে মুসলমানরা প্রায় সর্বসম্মতভাবে কংগ্রেসকে প্রত্যাখ্যান করে মুসলিম লীগের দিকে ঝুঁকে পড়ে। মুসলমানদের জন্য নির্দিষ্ট ৪৯৬টি আসনের মধ্যে মুসলিম লীগ জেতে ৪২৯টি আসন (৮৭%)। কংগ্রেস ব্যর্থ হয় মুসলমানদের আসনে। অন্যদিকে, হিন্দুপ্রধান আসনে কংগ্রেস কার্যত একাধিপত্য কায়েম করে। এই ফলাফল স্পষ্টভাবে দেখিয়ে দেয়, ভারতীয় সমাজ দ্বিধাবিভক্ত হয়ে গেছে। হিন্দুরা কংগ্রেসে, আর মুসলমানরা মুসলিম লীগে। এটাই মূলত দেশভাগের গণভিত্তি তৈরি করে দেয়।
হিন্দু মহাসভা ও কট্টরপন্থী রাজনীতি: মুসলিম লীগের পাশাপাশি হিন্দু মহাসভা এবং আরএসএস-এর ভূমিকা দেশভাগকে আরও ত্বরান্বিত করে। এই সংগঠনগুলো স্পষ্টভাবে মুসলমানদের ‘বিদেশি’ আখ্যা দিয়ে ভারতকে কেবল হিন্দুদের রাষ্ট্র করার দাবি তোলে। ভি.ডি. সাভারকার তার গ্রন্থ Hindutva: Who is a Hindu? (১৯২৩)-তে লেখেন, “ভারত হিন্দুদের ভূমি, মুসলমানরা এখানে বহিরাগত।” বাংলায় শ্যামাপ্রসাদ মুখার্জী মুসলিম-বিরোধী আন্দোলনে নেতৃত্ব দেন। মহারাষ্ট্রে আরএসএস ও মহাসভা মুসলিমবিরোধী প্রচার চালিয়ে মুসলিমদের আতঙ্কিত করে তোলে। এহেন উগ্র হিন্দুত্ববাদী রাজনীতিতে মুসলমানদের মধ্যে বিশ্বাস জন্মায় যে, স্বাধীন ভারতে তারা কোনোদিনই নিরাপদ হবে না। জিন্নাহ এবং মুসলিম লীগ এই ভয়কে কাজে লাগিয়েই পাকিস্তান আন্দোলনকে সর্বজনীন রূপ দেয়।
দেশভাগের ভোটাভুটি ও চূড়ান্ত রায়: ১৯৪৭ সালে দেশভাগ কার্যকর করার আগে বিভিন্ন প্রদেশের আইনসভায় ভোটাভুটি হয়। পাঞ্জাবে মুসলিম সদস্যরা পাকিস্তানের পক্ষে ভোট দেয়, হিন্দু ও শিখরা ভারতের পক্ষে। পূর্ববঙ্গের মুসলমানরা পাকিস্তানের পক্ষে, পশ্চিমবঙ্গের হিন্দুরা ভারতের পক্ষে ভোট দেয়। সিন্ধ ও সীমান্ত প্রদেশে মুসলিম লীগ পাকিস্তানের পক্ষে সংখ্যাগরিষ্ঠ ভোট পায়। ভোটাভুটিতে এই আড়াআড়ি বিভাজন দেশভাগকে আনুষ্ঠানিক সিলমোহর দেয়। কিন্তু এর নেপথ্য কারণ ছিল ১৯৩৭ ও ১৯৪৬ সালের অভিজ্ঞতা, কংগ্রেসের একগুঁয়ে নীতি এবং হিন্দু মহাসভার উগ্র রাজনীতি।
কংগ্রেসের একক আধিপত্যবাদ: কংগ্রেস সবসময় নিজেকে ভারতের একমাত্র রাজনৈতিক প্রতিনিধি হিসেবে প্রতিষ্ঠা করতে চাইত। যদিও মাওলানা আবুল কালাম আজাদের মতো সর্বজনীন নেতারা কংগ্রেসের ভিতরে মুসলমানদের প্রতি ইনসাফের দাবিতে সরব হতেন, কিন্তু তাদের মতামত প্রায়শই উপেক্ষিত হত। স্বাধীন ভারতের প্রথম শিক্ষামন্ত্রী মাওলানা আজাদ তাঁর আত্মজীবনীতে (India Wins Freedom) লিখেছেন, “যদি কংগ্রেস ১৯৩৭ সালে মুসলিম লীগকে মন্ত্রিসভায় অন্তর্ভুক্ত করত, বা ১৯৪৬ সালের ‘ক্যাবিনেট মিশন’ পরিকল্পনাকে আন্তরিকভাবে গ্রহণ করত, তবে পাকিস্তান সৃষ্টি হত না।”
নিরপেক্ষভাবে ইতিহাস পরিক্রমা করলে দেখা যায়, দেশভাগের জন্য কেবল মুসলিম লীগকে দোষারোপ করা অযৌক্তিক। মুসলমানদের ভয়, অবিশ্বাস ও নিরাপত্তাহীনতা তৈরি হয়েছিল মূলত কংগ্রেসের একগুঁয়ে মনোভাব, ক্ষমতার একচেটিয়া দখলদারি এবং হিন্দু মহাসভার উগ্র রাজনীতির কারণে। মুসলিম লীগ এই অবিশ্বাসকে কাজে লাগিয়ে পাকিস্তানের দাবিকে শক্তিশালী করেছিল। সুতরাং, দোষের পাল্লা ভারি করলে বলতে হয়, দেশভাগের জন্য কংগ্রেস তথা তদানীন্তন হিন্দু নেতৃত্ব কোন অংশে কম দায়ী নয়। তাদের ব্যর্থ নেতৃত্ব, সংকীর্ণ মানসিকতা এবং মুসলিমদের প্রতি অবজ্ঞা-অবহেলাই পাকিস্তান সৃষ্টির পথ প্রশস্ত করেছিল।

আরও পড়ুন
Copyright © Notun Poigam
Developed by eTech Builder