পোলবার জারুরায় চিকনগুনিয়ার প্রকোপ, নড়ে বসলো স্বাস্থ্য দপ্তর
আব্দুল গফফার, নতুন পয়গাম, হুগলি:
পোলবার জারুরা এলাকায় ক্রমশ বাড়ছে চিকনগুনিয়ার সংক্রমণ। মাত্র এক সপ্তাহে প্রায় ত্রিশ জনের মধ্যে রোগের উপসর্গ ধরা পড়ায় উদ্বিগ্ন হয়ে পড়েছে স্থানীয় স্বাস্থ্য দপ্তর। পরিস্থিতি মোকাবিলায় পোলবা গ্রামীণ হাসপাতালের উদ্যোগে শুক্রবার জারুরা প্রাথমিক বিদ্যালয়ে একটি রক্ত সংগ্রহ ও সচেতনতা শিবির অনুষ্ঠিত হয়। পাশাপাশি বাড়ি বাড়ি প্রচার ও মাইক প্রচারের মাধ্যমে স্থানীয় বাসিন্দাদের সচেতন করা হয়।
শিবিরে উপস্থিত ছিলেন চুঁচুড়ার বিধায়ক অসিত মজুমদার, পোলবার বিডিও জগদীশ বাড়ুই, পোলবা গ্রামীণ হাসপাতালের বি এম ও এইচ ডা. কৌশিক মণ্ডল, এবং সুগন্ধ্যা গ্রাম পঞ্চায়েতের প্রধান সুব্রত ঘোষ। তাঁরা গ্রামবাসীদের হাতে মশারি বিতরণ করেন এবং রোগ প্রতিরোধে সচেতন থাকার আহ্বান জানান।
ডা. কৌশিক মণ্ডল জানান, গত ১০ অক্টোবর জারুরা গ্রামে কয়েকজনের জ্বর ও শরীর ব্যথার খবর পান স্বাস্থ্যকর্মীরা। তাঁদের রক্তের নমুনা পরীক্ষা করে ম্যালেরিয়া ও ডেঙ্গু নেগেটিভ এলেও চিকনগুনিয়ার উপস্থিতি ধরা পড়ে। তিনি বলেন,
“এই রোগে জ্বর, হাত-পায়ে ও শরীরে ব্যথা, অতিরিক্ত দুর্বলতা দেখা যায়। যদিও ডেঙ্গুর মতো মৃত্যুহার নেই, কিন্তু সংক্রমণের পর দুই-তিন মাস পর্যন্ত শরীর দুর্বল থাকে।”
তিনি আরও বলেন,
“চিকনগুনিয়া সংক্রামক—একজন আক্রান্তের মাধ্যমে অন্যরা আক্রান্ত হতে পারেন। তাই মশারি ব্যবহার, জল জমতে না দেওয়া এবং আশপাশ পরিষ্কার রাখাই প্রতিরোধের মূল উপায়। প্রয়োজনে আবারও শিবির আয়োজন করা হবে।”
অন্যদিকে, আক্রান্তদের বক্তব্য—
“প্রথমে জ্বর ও শরীর ব্যথা শুরু হয়, তারপর এতটাই দুর্বলতা আসে যে বিছানা থেকে ওঠা যায় না। রোগ সারলেও তার প্রভাব অনেকদিন থাকে—এই কারণেই ভয় রয়ে যায়।”
চিকনগুনিয়ার এই প্রকোপে এখন সতর্ক ও সক্রিয় পোলবার স্বাস্থ্য দপ্তর, এবং এলাকাবাসীর মধ্যে বাড়ছে সচেতনতা ও সতর্কতা।








