আফগানিস্তানে বিদেশি ঘাঁটি পুনঃপ্রতিষ্ঠার বিরোধিতা: রাশিয়া, চীন, ইরান ও পাকিস্তানের যৌথ অবস্থান
নতুন পয়গাম আন্তর্জাতিক ডেস্ক কাবুল
আফগানিস্তানে বিদেশি সামরিক ঘাঁটি পুনঃপ্রতিষ্ঠার পরিকল্পনার বিরুদ্ধে রাশিয়া, চীন, ইরান ও পাকিস্তান একযোগে অবস্থান নিয়েছে। তারা এই উদ্যোগকে আঞ্চলিক শান্তি ও নিরাপত্তার জন্য হুমকি হিসেবে উল্লেখ করে আফগান সরকারের সার্বভৌমত্বের প্রতি শ্রদ্ধা জ্ঞাপন করেছে।
পাকিস্তানের প্রভাবশালী সংবাদমাধ্যম ডনের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, চার দেশ একটি যৌথ বিবৃতিতে উল্লেখ করেছে, “বাগরামসহ কোনও বিদেশি ঘাঁটি পুনরায় চালু করা আঞ্চলিক শান্তি ও নিরাপত্তার জন্য সহায়ক নয়।”
আফগানিস্তানের তালেবান সরকারও এই অবস্থানকে স্বাগত জানিয়েছে। তারা ঘোষণা করেছে, “আমরা আমাদের ভূখণ্ডকে অন্য কোনও দেশের বিরুদ্ধে ব্যবহার করতে দেব না এবং কোনও সন্ত্রাসী গোষ্ঠীর কার্যক্রম চলতে দেব না।”
প্রসঙ্গত, সম্প্রতি যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বাগরাম বিমানঘাঁটি ফের দখলের চেষ্টা করেছিলেন। তবে তালেবান সরকার এই দাবিকে প্রত্যাখ্যান করেছে।
তালেবান ও চার দেশের কঠোর অবস্থানের কারণে, ট্রাম্পের বাগরাম ঘাঁটি পুনঃপ্রতিষ্ঠার পরিকল্পনা বাস্তবায়ন প্রায় অসম্ভব হয়ে পড়েছে।
চার দেশের যৌথ বিবৃতিতে আফগান কর্তৃপক্ষকে বিশেষভাবে সতর্ক করা হয়েছে। এতে বলা হয়েছে, “অফিসিয়াল কর্তৃপক্ষকে সন্ত্রাসবিরোধী কার্যক্রম কার্যকরভাবে বাস্তবায়ন করতে হবে, সন্ত্রাসী শিবির বন্ধ করতে হবে এবং বিদেশি সন্ত্রাসীদের সাথে সহযোগিতা বন্ধ করতে হবে।”
বিবৃতিতে উল্লেখিত বিভিন্ন সন্ত্রাসী গোষ্ঠীর মধ্যে আইসিল, আল কায়দা, টিটিপি এবং বিএলএকে আঞ্চলিক ও বৈশ্বিক নিরাপত্তার জন্য হুমকি হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে।
বিশ্লেষকরা মনে করছেন, এই চার দেশের যৌথ অবস্থান আফগানিস্তানে আন্তর্জাতিক সমাধানের জন্য একটি শক্তিশালী রাজনৈতিক সংকেত। তারা জানিয়েছে যে, আফগানিস্তানের ভূখণ্ড ব্যবহার করে কোনও আন্তর্জাতিক সংঘাত সৃষ্টি হলে তা সরাসরি আঞ্চলিক স্থিতিশীলতাকে প্রভাবিত করবে।
রাশিয়া, চীন, ইরান ও পাকিস্তান একসাথে এই বার্তা দিয়েছে যে, “আঞ্চলিক শান্তি ও নিরাপত্তা রক্ষা আমাদের অগ্রাধিকার। কোনরকম বিদেশি সামরিক উপস্থিতি যা এই লক্ষ্যকে ব্যাহত করে, আমরা তা মেনে নেব না।”
এই যৌথ বিবৃতি আফগানিস্তানের স্থায়ী শান্তি ও সন্ত্রাসবিরোধী প্রচেষ্টাকে সমর্থন করছে। বিশেষজ্ঞদের মতে, বিদেশি সামরিক ঘাঁটির পুনঃপ্রতিষ্ঠা চেষ্টা করলে আন্তর্জাতিক চাপ ও আঞ্চলিক প্রতিক্রিয়া আরও তীব্র হবে।
তালেবান সরকারের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, তারা নিজেদের ভূখণ্ডকে আন্তর্জাতিক নিরাপত্তার জন্য একেবারেই সুরক্ষিত রাখবে এবং কোনো ধরনের বিদেশি আগ্রাসনের সুযোগ দেবে না।
এই প্রেক্ষাপটে, আফগানিস্তানে বিদেশি ঘাঁটি পুনঃপ্রতিষ্ঠার যে পরিকল্পনা ছিল, তা আপাতত কঠোর বিরোধ এবং রাজনৈতিক চাপের কারণে স্থগিত রাখা হয়েছে।








