আবারও পুলিশের মানবিক মুখ, মাধ্যমিক পরীক্ষার্থীর পাশে সুকুমার
নতুন পয়গাম, আব্দুল গফফার, হুগলিঃ আবারও পুলিশের মানবিক মুখ দেখল চুঁচুড়া শহরের মানুষ সহ মাধ্যমিক পরীক্ষার্থী এবং অভিভাবকেরা। চন্দননগর পুলিশ কমিশনারেটে কর্মরত পুলিশ কর্মি সুকুমার উপাধ্যায় তাঁর সামাজিক কাজকর্মের জন্য বারবার খবরের শিরোনামে উঠে আসা একটি পরিচিত নাম। জানা গেছে, স্থানীয় চুঁচুড়া ডাফ হাই স্কুলের বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন ছাত্র সৌমজিত সুর এবছরের মাধ্যমিক পরীক্ষার্থী। তার পরীক্ষা কেন্দ্র পড়েছে চিনসুরা দেশবন্ধু মেমোরিয়াল হাই স্কুলে। বাড়ি থেকে বেশ কিছুটা দূরে। সৌমজিতের বাবার এক পা নেই। ভাঙা ট্রাই সাইকেলে ছেলেকে নিয়ে কোনো ভাবে প্রথমদিন পরীক্ষা কেন্দ্রে পৌঁছে দেন এবং তা নজরে পরে পুলিশ কর্মি সুকুমারের। আজ দ্বিতীয় দিনে ওই ছাত্রের এরকম করুণ অবস্থা দেখে এগিয়ে আসেন সুকুমার। তাঁর নিজের বাইকে চাপিয়ে বাড়িতে পৌঁছে দেন। অথচ তাঁর মেয়েও এবছরের মাধ্যমিক পরীক্ষার্থী। সেখানে না গিয়ে তিনি পৌঁছান এই বিশেষ চাহিদা সম্পন্ন সৌমজিতের কাছে যাতে পরীক্ষা চলাকালীন তার কোনরূপ অসুবিধা না হয় তার জন্য একটি টোটোর ব্যবস্থাও করে দেন।
উল্লেখ্য, শহরে এদিক-ওদিক ঘুরে বেড়ানো ভবঘুরে মানুষগুলো চিকিৎসা করিয়ে তাদেরকে বাড়ি ফিরিয়ে দেওয়া যেমন তার নেশা। আবার গত বছর দৃষ্টিহীন দম্পতির একমাত্র মেয়েকে মাধ্যমিক পরীক্ষায় বসার ফিস থেকে শুরু করে প্রতিদিন পরীক্ষা কেন্দ্রে নিয়ে যাওয়া এবং পরীক্ষা শেষে বাড়ি পৌঁছে দেওয়া ছিল তার কর্তব্য। কারণ ওই প্রতিবন্ধী পরিবারের পাশে দাঁড়ানোর মত কেউ ছিলেন না। সুকুমার উপাধ্যায় জানান, যতদিন সম্ভব ততদিন চেষ্টা করে যাব মানুষের পাশে দাঁড়ানোর। এদিকে সৌমজিতের বাবা গণপতি সুর তিনিও বিশেষ চাহিদা সম্পন্ন। তাঁর একটি পা কাঠের, সেই অবস্থাতেই তিনি বহুদিন ধরে ফেরি করে সৌমজিতের পড়াশোনা এবং সংসার চালিয়ে আসছেন। তিনি জানান সুকুমার উপাধ্যায় পুলিশ নন তিনি একজন অন্য মানুষ। তিনি যেভাবে সাধারণ মানুষের পাশে এসে দাঁড়ান সে উপকার বলে শেষ করা যাবে না। তাই তাঁকে প্রণাম জানাই।








