এখন দেখছি ‘যোগ’ মানে ‘বিয়োগ’
রেজানুল করিম
মধ্যপ্রদেশের বুরহানপুর জেলার দেওহারি গ্রামের সরকারি মিডল স্কুলের শিক্ষক জবুর তনভিকে সাসপেন্ড করা হয়েছে। তা বেশ হয়েছে। ইউএপিএ তো দেয়া হয়নি! কপাল ভাল বলতে হয়। আসলে অপরাধ তো আর ছোটখাট নয়! তারপর হিন্দু ধর্মের তথাকথিত রক্ষাকর্তাদের অন্যতম হিন্দু জাগরণ মঞ্চ যদি সত্যিকারের জলঘোলা হওয়া রঙ্গমঞ্চে আবির্ভূত হয়। জবুর তনভি নাকি হিন্দু ছাত্রদের নামাযের প্রশিক্ষণ দিয়েছেন।
শিক্ষক জবুর তনভি অভিযোগ অস্বীকার করে বলেছেন, আমি তো আমার ছাত্রদের যোগব্যায়াম শেখাচ্ছিলাম। নামায কোথায়? ও তো শশাঙ্কাসন। ঘটনা হল, কিছু ছাত্র, শেখা ব্যায়াম বাড়িতে ফিরেও প্রাকটিস করতে শুরু করে। তাতে অন্যান্য ব্যায়ামের সাথে শশাঙ্কাসনও ছিল। মা বাবার মনে হল, আরে ও তো মুসলমানদের নামায পড়া। ব্যাস! শুরু হয়ে গেল ঘটনার ঘনঘটা। দীপাবলির ছুটির সময় কিছু গ্রামবাসী এবং অভিভাবক একযোগে অভিযোগ করেন, ছাত্রদের যোগের নামে নামাযের মতো ভঙ্গিমা করতে বাধ্য করেছেন শিক্ষক জবুর তনভি। স্কুলের প্রধান শিক্ষক সামলাতে পারলেন না বিষয়টি। তিনি তা জানালেন জেলা শিক্ষা অফিসারকে। তিনিও বড় কর্মতৎপর মানুষ। দলবল পাঠিয়ে রিপোর্ট তৈরি করে ফেললেন চটপট।
এরপরই হিন্দু জাগরণ মঞ্চের প্রতিনিধিরা গ্রামে পৌঁছে মুসলিম শিক্ষকের বিরুদ্ধে “সূর্য নমস্কারের ছদ্মবেশে হিন্দু শিশুদের নামায শেখানো” এবং “ধর্মান্তরণে উৎসাহ দেওয়ার” অভিযোগ তুলে ফেলল। এক্ষুনি ব্যবস্থা নিতে হবে, নিতে হবে, দাবি জানানো হল জোরদার।
ডাবল ইঞ্জিন সরকারের বুরহানপুর জেলা প্রশাসন তদভিকে সাসপেন্ড না করে অন্য কিছু করতে পারত কি? অন্য কিছু মানে, কম কিছু নয়, অন্ততপক্ষে ইউএপিএ। তাইতো লিখলাম, ভাগ্যি ভাল। অতিরিক্ত কালেক্টর বীর সিং চৌহান বিষয়টি নিশ্চিত করে বলেন, “আমরা এই ঘটনা সম্পর্কে তথ্য পেয়েছি। সংশ্লিষ্ট শিক্ষককে সাসপেন্ড করা হয়েছে এবং তদন্ত শুরু হয়েছে।”
হিন্দু জাগরণ মঞ্চের জেলা সমন্বয়ক অজিত পরদেশি অভিযোগ করেন, জনৈক শিক্ষকের কার্যকলাপ ইচ্ছাকৃত ছিল। “একজন সরকারি শিক্ষক যোগের নামে শিশুদের নামাযের মতো ভঙ্গিমা করাচ্ছিলেন। আমি নিজে ছাত্রদের সঙ্গে কথা বলেছি। প্রধান শিক্ষকও এই কার্যকলাপ লক্ষ্য করতে ব্যর্থ হয়েছেন। হিন্দু ভাবাবেগ আহত হয়েছে, এটা ভুল।”
সামাজিক মাধ্যমে এক বিবৃতিতে শিক্ষক জবুর তদভি সমস্ত অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, এগুলো “সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন।” তিনি দাবি করেছেন, তিনি সরকারের নির্দেশ অনুসারে ছাত্রদের যোগব্যায়াম শেখাচ্ছিলেন এবং শশাঙ্কাসন নামক আসনটি নামাযের ভঙ্গিমার সঙ্গে ভুলভাবে তুলনা করা হয়েছে। “শিশুরা কেবল যোগ অনুশীলন করছিল। ভঙ্গিটিকে নামায বলে ভুল করা হয়েছে। আমার পক্ষ না শুনে সাসপেন্ড করা অন্যায়।
এই ন্যায় অন্যায় দেখছে’টা কে? আমার গর্বের পশ্চিমবঙ্গেও খোলা মঞ্চে দাঁড়িয়ে একজন নামকরা লেখিকা যে ভাষায় সংখ্যালঘুদের আক্রমণ করেন, তারপরে ব্যবস্থাপনা ও মানুষের প্রতি অনেক বিশ্বাস নড়ে যায়। যাহোক, এখন দেখার বিষয় মধ্যপ্রদেশের জবুর তনভির বিষয়টিতে কোথাকার জল কোথায় গড়ায়!








