ডুরান্ড কাপের ফাইনালে নর্থইস্ট ইউনাইটেডের দাপুটে জয়
নতুন পয়গাম, ২৩ আগস্ট: কলকাতার সল্টলেক স্টেডিয়ামে অনুষ্ঠিত হল এশিয়ার প্রাচীনতম ফুটবল প্রতিযোগিতা ডুরান্ড কাপের ফাইনাল খেলা। মাঠ ভর্তি দর্শকের সামনে মুখোমুখি হয়েছিল গতবারের চ্যাম্পিয়ন নর্থইস্ট ইউনাইটেড এফসি এবং প্রথমবারের মতো ফাইনালে ওঠা ডায়মন্ড হারবার এফসি। খেলা শুরুর আগেই দুই দলের সমর্থকদের মধ্যে উত্তেজনা ছিল চোখে পড়ার মতো। একদিকে ছিল অভিজ্ঞতা আর শিরোপা ধরে রাখার চ্যালেঞ্জ, অন্যদিকে নতুন দলের স্বপ্ন এবং আত্মবিশ্বাস।
ম্যাচের শুরু থেকেই দুই দল একে অপরকে কড়া চ্যালেঞ্জ ছুঁড়ে দেয়। প্রথমার্ধ জুড়ে ডায়মন্ড হারবার সাহসী লড়াই করলেও গোলের সুযোগ কাজে লাগাতে পারেনি। নর্থইস্ট ইউনাইটেড ধীরে ধীরে নিজেদের ছন্দে ফেরে এবং মধ্যমাঠে আধিপত্য প্রতিষ্ঠা করতে থাকে। খেলার গতি বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে দেখা যায় তাদের আক্রমণভাগের ধার।
দ্বিতীয়ার্ধের শুরু থেকেই নর্থইস্ট চাপ বাড়ায়। ৬২তম মিনিটে আসে প্রথম গোল। আজারাইয়ের নিখুঁত পাস থেকে বল পেয়ে থুই প্রতিপক্ষের ডিফেন্স ভেদ করে দুর্দান্ত শটে গোল করেন। সেই মুহূর্ত থেকে খেলার মোড় ঘুরে যায়। গোল হজম করার পর ডায়মন্ড হারবার কিছুটা ভেঙে পড়ে এবং সেই সুযোগে একের পর এক আক্রমণে মাঠ কাঁপিয়ে তোলে নর্থইস্ট ইউনাইটেড।
পরপর গোলের ধাক্কায় ডায়মন্ড হারবারের ডিফেন্স ভেঙে চুরমার হয়ে যায়। নর্থইস্টের ফুটবলাররা অসাধারণ সমন্বয় আর দ্রুতগতির পাসিং ফুটবল খেলতে থাকে। শেষ পর্যন্ত খেলা গড়ায় একপেশে দিকে। নির্ধারিত সময় শেষে স্কোরবোর্ডে জ্বলে ওঠে ৬–১ এর বিশাল ব্যবধান। ডুরান্ড কাপের ইতিহাসে এটি অন্যতম বড় ফাইনাল জয়ের দৃষ্টান্ত হয়ে থাকবে।
দর্শকরা ম্যাচ শেষে দাঁড়িয়ে করতালি দিয়ে অভিনন্দন জানায় নর্থইস্ট ইউনাইটেডকে। তবে ডায়মন্ড হারবারের যাত্রা নিয়েও সবার মধ্যে আলোচনা ছিল সমানভাবে। প্রথমবার অংশ নিয়েই ফাইনালে ওঠা তাদের জন্য একটি স্মরণীয় সাফল্য। যদিও শেষ পর্যন্ত ট্রফি জিততে পারেনি, তবু তারা প্রমাণ করেছে ভারতীয় ফুটবলে নতুন শক্তি হিসেবে নিজেদের সম্ভাবনা।
নর্থইস্ট ইউনাইটেডের এই জয় তাদের টানা দ্বিতীয়বারের মতো ডুরান্ড কাপ চ্যাম্পিয়ন করে তুলল। খেলোয়াড়রা মাঠে আবেগঘন মুহূর্তে বিজয় উদ্যাপন করে এবং কোচ ম্যাচ শেষে জানালেন, কঠোর পরিশ্রম, শৃঙ্খলা আর দলগত খেলার ফলেই এসেছে এই সাফল্য। অন্যদিকে ডায়মন্ড হারবারের কোচ প্রতিশ্রুতি দেন, ভবিষ্যতে আরও শক্তিশালী হয়ে ফিরে আসবে তাদের দল।
এই ফাইনাল শুধু দুটি দলের নয়, পুরো ভারতীয় ফুটবলের জন্য একটি ঐতিহাসিক দিন। সল্টলেক স্টেডিয়ামের সবুজ ঘাসে লেখা হলো নতুন কাহিনি— অভিজ্ঞতা আর স্বপ্নের লড়াইয়ে শেষ হাসি হাসল নর্থইস্ট ইউনাইটেড।








