চাকমা হত্যাকাণ্ডে উত্তাল উত্তর-পূর্ব ভারত বিজেপিকে চাঁচাছোলা আক্রমণ রাহুল গান্ধির
নতুন পয়গাম, ত্রিপুরা: ত্রিপুরার মেধাবী এমবিএ ছাত্র অ্যাঞ্জেল চাকমার মৃত্যুরহস্য ঘিরে ক্ষোভে ফেটে পড়েছে উত্তর-পূর্ব ভারতের রাজ্যগুলি। জাতিগত বিদ্বেষের শিকার হয়ে উত্তরাখণ্ডের দেরাদুনে গুরুতর আহত এই ছাত্র দীর্ঘ চিকিৎসার পর গত ২৬ ডিসেম্বর শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন। এই ঘটনাকে ‘ভয়াবহ ও ঘৃণ্য অপরাধ’ বলে অভিহিত করে সরাসরি কেন্দ্রের শাসক দল বিজেপির বিরুদ্ধে সুর চড়িয়েছেন লোকসভার বিরোধী দলনেতা রাহুল গান্ধি।
সোমবার সোশ্যাল মিডিয়া পোস্টে রাহুল গান্ধি লেখেন, ঘৃণা হঠাৎ করে জন্ম নেয় না। বছরের পর বছর ধরে দায়িত্বজ্ঞানহীন বক্তব্য ও বিদ্বেষমূলক প্রচারের মধ্য দিয়েই সমাজের রন্ধ্রে রন্ধ্রে এই বিষ ঢোকানো হয়েছে। তাঁর অভিযোগ, শাসক দলের নেতাদের উসকানিমূলক মন্তব্যের ফলেই আজ এমন অপরাধকে স্বাভাবিক ঘটনা হিসেবে দেখা হচ্ছে। তিনি আরো বলেন, “ভারত ভালবাসা ও বৈচিত্র্যের দেশ। একে ভয়ের রাষ্ট্রে পরিণত হতে দেওয়া যাবে না।”

বিরোধী দলনেতা রাহুল গান্ধী
ঘটনাটি ঘটে গত ৯ ডিসেম্বর। দেরাদুনে অ্যাঞ্জেল চাকমা ও তাঁর ভাইকে কয়েকজন যুবক জাতিগত কটূক্তি করে। নিজেদের ভারতীয় পরিচয় তুলে ধরে এর প্রতিবাদ করতেই ছয়জন মিলে তাঁদের উপর নৃশংস হামলা চালায় বলে অভিযোগ। ঘাড় ও পেটে গুরুতর আঘাত নিয়ে অ্যাঞ্জেলকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। প্রায় তিন সপ্তাহ মৃত্যুর সঙ্গে লড়াইয়ের পর তিনি মারা যান। এই ঘটনার প্রতিবাদে ত্রিপুরার রাজধানী আগরতলায় হাজার হাজার ছাত্রছাত্রী মোমবাতি মিছিল করে দোষীদের শাস্তির দাবি জানিয়েছেন। ‘টিপরা মোথা’ দলের প্রধান প্রদ্যোত কিশোর মাণিক্য দেববর্মা মূল অভিযুক্তকে ধরিয়ে দিতে পারলে ১০ লক্ষ টাকা পুরস্কারের ঘোষণা করেছেন। অন্যদিকে, উত্তরাখণ্ড পুলিশ প্রধান অভিযুক্তের সন্ধানে ২৫ হাজার টাকা পুরস্কার ঘোষণা করেছে।
ত্রিপুরার বিজেপি মুখ্যমন্ত্রী মানিক সাহা জানিয়েছেন, তিনি উত্তরাখণ্ডের মুখ্যমন্ত্রী পুষ্কর সিং ধামির সঙ্গে কথা বলেছেন এবং দ্রুত কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার আশ্বাস পেয়েছেন। এই ঘটনায় উত্তর-পূর্ব ভারতজুড়ে বর্ণবাদ ও জাতিগত বিদ্বেষের বিরুদ্ধে তীব্র জনমত তৈরি হয়েছে। বহু মানুষের প্রশ্ন নিজের দেশেই পরিচয় দিতে গিয়ে আর কত তরুণের প্রাণ যাবে?
এদিকে, এই হত্যাকাণ্ডকে কেবল একটি বিচ্ছিন্ন অপরাধ হিসেবে নয়, বরং গভীর বর্ণবাদী মানসিকতার বহিঃপ্রকাশ বলে মন্তব্য করেছে জামায়াতে ইসলামী হিন্দ। সংগঠনের কেন্দ্রীয় সহ-সভাপতি অধ্যাপক সেলিম ইঞ্জিনিয়ার এক বিবৃতিতে বলেন, সংবিধানে সমান অধিকার ও নিরাপত্তার কথা বলা হলেও বাস্তবে উত্তর-পূর্ব ভারতের মানুষের প্রতি বৈষম্য আজও রয়ে গেছে। তিনি মনে করেন, প্রশাসনিক দুর্বলতা ও অপরাধীদের প্রতি নরম মনোভাবই এই ধরনের ঘটনার পুনরাবৃত্তির অন্যতম কারণ।








