পদার্থবিদ্যায় নোবেল ৩ মার্কিন বিজ্ঞানীর
নতুন পয়গাম,
স্টকহোম: চলতি বছর পদার্থ বিজ্ঞানে নোবেল পুরস্কার পাচ্ছেন তিন মার্কিন বিজ্ঞানী। কোয়ান্টাম মেকানিক্সের উপর গবেষণার জন্য তারা এই পুরস্কার পাচ্ছেন। মঙ্গলবার রয়্যাল সুইডিশ একাডেমি অব সায়েন্সেস এই নাম ঘোষণা করে জানিয়েছে, পদার্থবিজ্ঞানে নোবেলজয়ীরা হলেন জন ক্লার্ক, মিশেল এইচ ডেভোরেট এবং জন এম মার্টিনিস।
গত বছরও এই বিভাগে নোবেল পান দুই মার্কিন পদার্থবিজ্ঞানী জন জে হোপফিল্ড এবং জিওফ্রি ই হিন্টন। কৃত্রিম নিউরাল নেটওয়ার্কের সাথে মেশিন লার্নিংয়ের মৌলিক আবিষ্কার ও উদ্ভাবনের জন্য এই পুরস্কার পেয়েছিলেন তারা।
উল্লেখ্য, পদার্থ বিজ্ঞানে সবচেয়ে বেশি বয়সে নোবেল পেয়েছেন আর্থুর আসকিন। তিনি ২০১৮ সালে ৯৬ বছর বয়সে নোবেল পান। এদিকে ১৯১৫ সালে মাত্র ২৫ বছর বয়সে পদার্থে নোবেল পেয়ে বিশ্বরেকর্ড করেন লরেন্স ব্রেগ। আর জন বার্ডিন একমাত্র ব্যক্তি, যিনি দু-বার পদার্থবিদ্যায় নোবেল পেয়েছেন।
জানা গিয়েছে, এবার তিন মার্কিন বিজ্ঞানীকে পদার্থে নোবেল দেওয়ার কারণ, বৈদ্যুতিক সার্কিটে বড় পরিসরে কোয়ান্টাম মেকানিক্যাল টানেলিং ও শক্তির পরিমাপ আবিষ্কার করা। মঙ্গলবার নোবেল কমিটির বিবৃতিতে বলা হয়, চলতি বছরে পদার্থবিদ্যায় নোবেল প্রাপকরা পরবর্তী প্রজন্মের জন্য কোয়ান্টাম প্রযুক্তির পাশাপাশি কোয়ান্টাম ক্রিপটোগ্রাফি, কোয়ান্টাম কম্পিউটার ও কোয়ান্টাম সেন্সরের জন্য নতুন দিগন্ত উন্মুক্ত করেছেন।
কোয়ান্টাম মেকানিকস বা কোয়ান্টাম বলবিজ্ঞান পদার্থবিদ্যার একটি মৌলিক শাখা, যা পরমাণু বা আরও ক্ষুদ্রাতিক্ষুদ্র কণার আচরণ ও বৈশিষ্ট্য ব্যাখ্যা করে। এর অদ্ভুত জগতে বিস্ময়কর ঘটনাগুলি যে বড় পরিসরের কাঠামোয় দেখানো সম্ভব, সেই অসাধ্য সাধন করেছেন এই ত্রয়ী মার্কিন বিজ্ঞানী। আশির দশকে একাধিক পরীক্ষায় তাঁরা বিশেষ একধরনের অতিপরিবাহী বৈদ্যুতিক ব্যবস্থা বা সার্কিট তৈরি করেন। এই ব্যবস্থায় কোয়ান্টাম টানেলিং বা সুড়ঙ্গ প্রভাবের বিষয়টি হাতে ধরা যায়, এমন পরিসরে দেখিয়েছেন। পাশাপাশি এই তিন বিজ্ঞানী প্রমাণ করেন, কোয়ান্টাম থিওরি মেনে এই সার্কিটে খুবই সামান্য পরিমাণ শক্তি শোষণ হয়।
প্রসঙ্গত এই তিন বিজ্ঞানীর আবিষ্কার বর্তমানে ট্রানজিস্টার ও মাইক্রোচিপ তৈরিতে বহুল ব্যবহৃত হচ্ছে। তাঁদের এই উদ্ভাবন কোয়ান্টাম কম্পিউটারের মতো প্রযুক্তি তৈরির পথ প্রশস্ত করেছে, যা সাধারণ কম্পিউটারের তুলনায় কয়েকগুণ জটিল সমস্যার সমাধান করতে পারবে।








