রাম মন্দিরের ১৫ কিমির মধ্যে মদ-মাংস নয়, অযোধ্যায় তুঙ্গে বিতর্ক
নতুন পয়গাম, অযোধ্যা: সংবিধান যেখানে নাগরিকের ব্যক্তিগত রুচি ও খাদ্যাভ্যাসের স্বাধীনতা দেয়, সেখানে রাম মন্দিরের সুরক্ষার নামে অযোধ্যা প্রশাসনের নতুন ফরমান নিয়ে শুরু হয়েছে তীব্র বিতর্ক। মন্দির থেকে ১৫ কিলোমিটারের মধ্যে মদ ও আমিষ খাবারের অনলাইন ডেলিভারি নিষিদ্ধ করার সিদ্ধান্তকে বিশ্লেষকরা ‘খাবার নিয়ে রাজনীতি’ ও ‘ব্যক্তিগত পরিসরে অনধিকার প্রবেশ’ হিসেবে দেখছেন।
অযোধ্যা প্রশাসন এবং উত্তরপ্রদেশ সরকার দাবি করেছে, এই পদক্ষেপ ‘ধর্মীয় পবিত্রতা’ রক্ষার জন্য। তবে প্রশ্ন উঠেছে, মন্দির থেকে ১৫ কিমি দূরত্ব, যা বিশাল এক জনপদকে অন্তর্ভুক্ত করে, সেখানে বসবাসকারী কয়েক হাজার সাধারণ মানুষের খাদ্যাভ্যাস কেন সরকারি নির্দেশে নিয়ন্ত্রিত হবে? স্থানীয় ‘পাঁচকোশী পরিক্রমা’ এলাকার ভেতরে হোটেল, হোমস্টে এমনকি ব্যক্তিগত ঠিকানায় জোমাটো বা সুইগি-র মতো অ্যাপের মাধ্যমেও এখন আর কেউ নিজের পছন্দের খাবার অর্ডার করতে পারবেন না। সমালোচকদের মতে, একটি নির্দিষ্ট ধর্মীয় অনুভূতিকে তুষ্ট করতে গিয়ে বাকিদের ওপর এই ‘খাদ্য-নিষেধাজ্ঞা’ চাপিয়ে দেওয়া হচ্ছে।
২০২৪ এর জানুয়ারিতে রামমন্দির নির্মাণের পর অযোধ্যা এখন এক আন্তর্জাতিক পর্যটন কেন্দ্র। দেশ-বিদেশের বহু পর্যটক এখানে আসেন যাদের খাদ্যাভ্যাস ভিন্ন। প্রশাসনের এই কড়াকড়িতে হোটেল ও হোমস্টে ব্যবসায় নেতিবাচক প্রভাব পড়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। এর আগে ২০২৫ সালে রামপথের ধারের মাংসের দোকানগুলো জোরপূর্বক বন্ধ করে দেওয়া হয়েছিল। এখন অনলাইন ডেলিভারি বন্ধ করে দেওয়ার মাধ্যমে মূলত মানুষের অন্দরের খবরদারিতে নেমেছে প্রশাসন।
সহকারী খাদ্য কমিশনার মানিকচন্দ্র সিংহের দাবি, পর্যটকরা অনলাইনে আমিষ খাবার অর্ডার করায় স্থানীয়দের অনুভূতিতে আঘাত লেগেছে। কিন্তু প্রশ্ন থেকে যায়, একজন পর্যটক যদি হোটেলের চার দেয়ালের ভেতরে নিজের পছন্দমতো খাবার খান, তবে তা অন্যের অনুভূতিতে কীভাবে আঘাত হানে? বিরোধীদের অভিযোগ, বিজেপি সরকার উন্নয়নের বদলে সাধারণ মানুষের পাতে কী থাকবে, তা ঠিক করতেই বেশি আগ্রহী।
নিরাপত্তা ও পবিত্রতার মোড়কে এই বিশাল এলাকায় খাদ্য ও পানীয়ের ওপর যে কঠোর নিয়ন্ত্রণ আরোপ করা হল, তা আধুনিক গণতান্ত্রিক কাঠামোর সঙ্গে কতটা সামঞ্জস্যপূর্ণ, তা নিয়ে ইতিমধ্যেই সরব হয়েছে নাগরিক সমাজ। প্রশাসনের নজরদারি দল এখন মানুষের ঘরের খাবারের গন্ধে ‘অপরাধ’ খুঁজবে কি না, সেটাই এখন বড় প্রশ্ন।








