ভোট প্রচারে সাম্প্রদায়িকতা নয়, বিজেপিকে নীতীশের নিদান
নতুন পয়গাম, পাটনা ও নয়াদিল্লি:
বিহারে বিধানসভা নির্বাচনের ঢাকে কাঠি পড়ে গিয়েছে অনেক আগেই। প্রথম দফায় প্রার্থীদের মনোনয়নপত্র জমাও হয়ে গিয়েছে। ক্ষমতাসীন এনডিএ এবং বিরোধীদের মহাজোটের শরিকদের মধ্যে আসন সমঝোতাও একরকম হয়ে গিয়েছে। তবে উভয় পক্ষই কোথাও কোথাও সমঝোতা না হওয়ায় বন্ধুত্বপূর্ণ লড়াই করছে। মুখ্যমন্ত্রী নীতীশ কুমারের দল জেডিইউ ১০১ আসনে লড়াই করছে। যদিও বিজেপি চাইছে, জেডিইউ-কে কীভাবে ৫০-এর নীচে নামিয়ে আনা যায়, তাহলে জোট জিতলে নীতীশকে আর মুখ্যমন্ত্রী করা হবে না। কিন্তু নীতীশ ১০১ আসনে লড়া এবং ফের মুখ্যমন্ত্রী হওয়ার ব্যাপারে প্রথম থেকেই একেবারে নাছোড়বান্দা।
কিন্তু নরেন্দ্র মোদি থেকে অমিত শাহ কেউই এখনও পর্যন্ত নীতীশের নামে সিলমোহর দেননি। অমিত শাহ বলেছেন, ভোটের ফল প্রকাশের পর বিধায়করাই নতুন মুখ্যমন্ত্রীকে বেছে নেবেন। নরেন্দ্র মোদি মুখ্যমন্ত্রীর মুখ ঠিক না করে প্রশ্ন এড়িয়ে গিয়েছেন। কিন্তু বিরোধী মহাজোটের তরফে মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে লালু যাদবের পুত্র আরজেডি নেতা প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী তেজস্বী যাদবকে মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে ঘোষণা করেই ভোটে লড়ছে। বিজেপি তথা এনডিএ জোট এবার মুখ্যমন্ত্রীর ছবি সামনে না রাখার কারণ হল, প্রায় ২ দশক ক্ষমতায় থাকায় পল্টুরাম নীতীশের ভাবমূর্তি স্বচ্ছ নেই। তাই তারা একসঙ্গে জোট করে ভোটে লড়লেও আপাতত নীতীশকে মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে প্রোজেক্ট করছে না।

এমতাবস্থায় নীতীশ কুমার বিজেপিকে সতর্ক করে বলেছেন, নির্বাচনী প্রচারে সাম্প্রদায়িকতা বা ধর্মীয় বিভাজন ও মেরুকরণ যেন না করা হয়। রাজনৈতিক ইস্তেহার, সরকারের সাফল্য এবং উন্নয়নকে সামনে রেখে প্রচার করা হোক। নীতীশ বলেছেন, অন্য রাজ্যে কী করছেন, সেটা নিয়ে আমার মাথা ব্যথা নেই। কিন্তু বিহারের নির্বাচনে এনডিএ জোটের প্রচারে বিজেপি যেন সাম্প্রদায়িক বিভাজনের ইস্যুকে তুলে না ধরে। কারণ, মুসলিম ভোটের একাংশ এখনও নীতীশ কুমারের পক্ষেই আছে।
নীতীশ শিবিরের দাবি, একমাত্র এনডিএ জোটের রাজ্য বিহারে মুসলিমরা এখনও সাম্প্রদায়িকতার শিকার হয়নি। তাঁর ২০ বছরের শাসনে বিহারে বড়সড় কোনও দাঙ্গা, সাম্প্রদায়িক সংঘাত হয়নি। তাই এনডিএ জোটে থাকলেও মুসলিমরা নীতীশের দিক থেকে পুরোপুরি মুখ ফেরায়নি। বরং সীমাঞ্চল, মিথিলাঞ্চল, কেন্দ্রীয় বিহারে এখনও মুসলিম ভোটব্যাঙ্কের একাংশ আস্থা রাখে নীতীশ কুমারের উপর। তাই সেই আস্থায় যেন কোনওপ্রকার আঘাত না হয়।
নির্বাচনী প্রচার কৌশল সংক্রান্ত জোটের মিটিংয়েযও জেডিইউ-এর তরফে বলা হয়েছে, অনুপ্রবেশকারী ইস্যুতে বলতে গিয়ে সংখ্যালঘুদের যেন নিশানা করা না হয়। মুসলিমদের যেন অহেতুক ভয় দেখানো না হয়। এরকম হলে মুসলিম সমাজ পুরোপুরি শিবির বদলে আরজেডি-কংগ্রেস জোটের দিকে চলে যাবে। যদি মুসলিম ও যাদব (MY) সমীকরণ একযোগে তেজস্বীকে বেছে নেয়, তাহলে আরজেডি যথেষ্ট বেশি আসন পেয়ে যাবে। ক্ষতি হবে নীতীশ কুমার তথা এনডিএ জোটের।
তাই নীতীশ কুমার কুর্মি, কৈরী, মহিলা এবং মুসলিম ভোটব্যাঙ্ককে কোনওভাবেই হারাতে চান না। মহাজোটের বক্তব্য, নীতীশ ভোটব্যাঙ্ক হারানোর ভয়ে সাম্প্রদায়িক প্রচারের বিরুদ্ধে হলেও, বিজেপি দল ঢেঁকির মতো, স্বর্গে গেলেও ধানই ভানবে। সাম্প্রদায়িুকতা, মুসলিম বিদ্বেষ ছাড়া বিজেপির কোন এজেন্ডা নেই। বিজেপি উন্নয়নের রাজনীতি করে না। সাম্প্রদায়িকতা তাদের অস্থি-মজ্জাগত। সাম্প্রদায়িকতা বিজেপির দলীয় সংবিধানেই আছে। এটা করেই তারা বাজিমাত করছে। কিন্তু আর বেশি দিন নয়। মানুষ ওদের চালাকি ও জুমলাবাজি ধরে ফেলেছে। বিহার এবার মহাজোটই ক্ষমতায় আসবে বলে দৃঢ় বিশ্বাস মহাজোটের।








