বিহার বিপর্যয়ের পর নয়া সমীকরণ? দিল্লিতে প্রিয়াঙ্কা গান্ধীর সঙ্গে পিকের বৈঠক
নতুন পয়গাম, নয়াদিল্লি:
সদ্য সমাপ্ত বিহার বিধানসভা নির্বাচনে চরম ভরাডুবির পর ভোটকুশলী প্রশান্ত কিশোর (পিকে) জাতীয় রাজনীতিতে নতুন অঙ্কের কষা শুরু করেছেন বলে জল্পনা সৃষ্টি হয়েছে। জানা যাচ্ছে, গত সপ্তাহে তিনি কংগ্রেস সাংসদ এবং দলের সাধারণ সম্পাদক প্রিয়াঙ্কা গান্ধী বঢরার সঙ্গে একান্তে সাক্ষাৎ করেন। সোনিয়া গান্ধীর ১০ জনপথের বাসভবনে প্রায় ঘণ্টাখানেক ধরে এই আলোচনা হয়।
যদিও বৈঠকের আলোচনার বিষয়বস্তু সম্পর্কে আনুষ্ঠানিকভাবে কংগ্রেস বা পিকের দল ‘জনসুরজ পার্টি’ কেউই মুখ খোলেনি, তবে এই ঘটনা রাজনৈতিক মহলে ব্যাপক কৌতূহল সৃষ্টি করেছে। সোমবার সংসদে প্রিয়াঙ্কা গান্ধীকে এই সাক্ষাৎ প্রসঙ্গে জিজ্ঞাসা করা হলে তিনি বিষয়টিকে হালকা করে বলেন, “এটাও কি খবর?”
রাজনৈতিক মহল এই বৈঠককে সামান্য হিসেবে দেখছে না, কারণ কংগ্রেসের সঙ্গে প্রশান্ত কিশোরের দীর্ঘদিনের সম্পর্ক। ২০২১ সালে নীতীশ কুমারের জেডিইউ ছাড়ার পর তিনি কংগ্রেসে যোগ দিয়েছিলেন। ২০২৪ লোকসভা নির্বাচনের আগে ২০২২ সালে তিনি কংগ্রেসের ভোটকুশলীর দায়িত্বও পালন করেন। যদিও পরে তিনি সেই সম্পর্ক ত্যাগ করে জনসুরজ পার্টি গঠন করেন।
এই পরিস্থিতিতে প্রিয়াঙ্কার সঙ্গে তাঁর সাক্ষাৎ ঘিরে অনুমান করা হচ্ছে যে, বিহার নির্বাচনে নিজের দলের শোচনীয় ব্যর্থতা থেকে শিক্ষা নিয়ে পিকে হয়তো আবার পুরনো দলে ফিরতে চাইছেন। রাজনৈতিক মহলের একাংশ মনে করছে, বিহারে কংগ্রেসের সঙ্গে জনসুরজের জোটের বিনিময়ে পিকে দেশের বাকি রাজ্যগুলিতে কংগ্রেসের ভোটকুশলীর দায়িত্ব নিতে পারেন।
এবারের বিহার বিধানসভা নির্বাচনে প্রশান্ত কিশোরের দল জনসুরজ পার্টি ২৩৮টি আসনে প্রার্থী দিয়ে মাত্র দু’টিতে জামানত রক্ষা করতে পেরেছে। অন্যদিকে, কংগ্রেসের ফলও খুবই খারাপ। তারা ৬০টি আসনে লড়াই করে জিতেছে মাত্র ছয়টিতে। এর আগের নির্বাচনে তারা ১৯টি আসনে জয়লাভ করেছিল।
এই চরম বিপর্যয়ের মুখোমুখি হওয়ার ঠিক পরেই প্রিয়াঙ্কা গান্ধীর সঙ্গে পিকের এই বৈঠক, কংগ্রেসের অভ্যন্তরেও নতুন করে আলোচনার জন্ম দিয়েছে। বিশেষ করে সামনেই কেরল বিধানসভার নির্বাচন, যেখানে কংগ্রেস ক্ষমতা পুনরুদ্ধারে বদ্ধপরিকর। জল্পনা চলছে, কেরল পুনরুদ্ধারের কৌশল নিয়ে আলোচনার জন্যই কি কংগ্রেস শীর্ষ নেতৃত্ব পিকের সঙ্গে আলোচনার দরজা খুলে দিল?








