রাষ্ট্রসংঘে নাস্তানাবুদ নেতানিয়াহু
শুক্রবারের অধিবেশনে কে কী বললেন?
নতুন পয়গাম, নিউইয়র্ক, ২৬ সেপ্টেম্বর: রাষ্ট্রসংঘের ৮০তম বার্ষিক অধিবেশন উপলক্ষে আয়োজিত সম্মেলনের চতুর্থ দিনে শুক্রবার ১৫ দেশের রাষ্ট্রপ্রধান, প্রধানমন্ত্রী ও প্রতিনিধি ভাষণ দেন। এবার প্রথম দিন থেকেই সবার বক্তব্যে ফিলিস্তিন, ইসরাইল এবং রাশিয়া, ইউক্রেন যুদ্ধ প্রসঙ্গ প্রাধান্য পায়।
শুক্রবার সবচেয়ে নজর কাড়ে ইসরাইলের প্রধানমন্ত্রী নেতানিয়াহুর ভাষণ। কারণ, তিনি মঞ্চে উঠতেই গাজায় চলমান গণহত্যার প্রতিবাদে অধিকাংশ দেশের শতাধিক প্রতিনিধি সভাকক্ষ ছেড়ে বেরিয়ে যান। ফলে বক্তৃতার শুরুতেই বেশ কিছুক্ষণ থেমে যান নেতানিয়াগু। স্লোগান ও হইচইয়ের জন্য তাঁর কথা শুরু করতে বেশ কিছুক্ষণ অপেক্ষা করতে হয়। ইতিমধ্যে অডিটোরিয়ামের সিংহভাগ আসন ফাঁকা হয়ে পড়ে। এই অবস্থায় শূন্য হলঘরেই চেয়ারকে সম্বোধন করে বক্তব্য শুরু করেন নেতানিয়াগু।
একরকম ফাঁকা মাঠে ব্যাটিং করে প্রায় ৪৫ মিনিটের ভাষণে নেতানিয়াহু গাজায় হামাস নির্মূলের অঙ্গীকার করেন। মধ্যপ্রাচ্যে অশান্তির জন্য বরাবরের মতোই এদিনও ইরান, হিজবুল্লাহ ও হামাসকে দায়ী করেন। স্বাধীন ফিলিস্তিন রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠাকে ৯/১১–এর পর নিউইয়র্কে আল কায়েদার রাষ্ট্র গঠনের সঙ্গে তুলনা করেন।
বাংলাদেশের অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান ড. মুহাম্মদ ইউনূস তাঁর ভাষণে গাজায় ইসরাইলি গণহত্যার কঠোর নিন্দা করে বলেন, শিশুরা না খেয়ে মারা যাচ্ছে, ত্রাণের লাইনে দাঁড়ানো বুভুক্ষু মানুষদের হত্যা করা হচ্ছে, স্কুল হাসপাতাল নিশ্চিহ্ন করা হচ্ছে – এসব কি স্পষ্ট গণহত্যা নয়? তিনি পূর্ব জেরুজালেমকে রাজধানী করে স্বাধীন ফিলিস্তিন রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার দাবি জানিয়ে সতর্ক করে বলেন, এই পরিস্থিতি চলতে থাকলে ইতিহাস ক্ষমা করবে না।
পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরিফ গাজা যুদ্ধকে “আমাদের সময়ের সবচেয়ে হৃদয়বিদারক ঘটনা” বলে অভিহিত করেন। তিনি ছয় বছরের নিহত ফিলিস্তিনি শিশু হিন্দ রজব–এর ঘটনা তুলে ধরে আবেগময় ভাষণে যুদ্ধ থামানোর আহ্বান জানান।
চীনের প্রধানমন্ত্রী লি কিয়াং জানান, আন্তর্জাতিক শান্তি ও নিরাপত্তার দৃঢ় রক্ষক হিসেবে ভূমিকা রাখবে চীন। তিনি ইসরাইল-ফিলিস্তিন ও ইউক্রেন-রাশিয়া সংঘাত আলোচনার মাধ্যমে শেষ করার ওপর জোর দেন।
আয়ারল্যান্ডের প্রধানমন্ত্রী মাইকেল মার্টিন ইসরাইলকে শিশুদের ক্ষুধায় মৃত্যুর জন্য দায়ী করে বলেন, “ক্ষুধাকে যুদ্ধের হাতিয়ার করা হচ্ছে, ত্রাণ আটকে রাখা হচ্ছে, স্কুল হাসপাতাল ইচ্ছাকৃতভাবে ধ্বংস করা হচ্ছে।”
ক্যারিবীয় দেশ সেন্ট ভিনসেন্ট অ্যান্ড দ্য গ্রেনাডাইন্সের প্রধানমন্ত্রী রালফ গঞ্জালেস বলেন, “গাজা যুদ্ধ আন্তর্জাতিক আইনের প্রতি অবমাননা। যারা গণহত্যায় জড়িত , তাদের জন্য নরকের সবচেয়ে উষ্ণ পথ সংরক্ষিত রয়েছে।”
গ্রিসের প্রধানমন্ত্রী কিরিয়াকোস মিতসোটাকিস বলেন, গাজা যুদ্ধ আন্তর্জাতিক বিচ্ছিন্নতার ঝুঁকি বাড়াচ্ছে। তিনি দ্বিরাষ্ট্রভিত্তিক সমাধান, যুদ্ধবিরতি ও বড় আকারে মানবিক সহায়তার ওপর জোর দেন।








