ছন্দে ফিরছে নেপাল, নির্বাচন ৫ মার্চ মৃতদের পরিবারকে ১০ লক্ষ রুপি সাহায্যের ঘোষণা
নতুন পয়গাম, কাঠমান্ডু, ১৪ সেপ্টেম্বর:
অশান্তির আগুন নিভেছে। অগ্নিগর্ভ পরিস্থিতি আপাতত শান্ত হয়েছে। স্বাভাবিক ছন্দে ফিরছে নেপাল। একসঙ্গে ২৬টা সোশ্যাল মিডিয়ার উপর নিষেধাজ্ঞার জেরে ৮ সেপ্টেম্বর দেশজুড়ে যে অশান্তি ও সহিংসতার সূচনা হয়েছিল, তা এখন নিষ্প্রভ। শুক্রবার অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধানমন্ত্রী হিসেবে শপথ নিয়েছেন সুপ্রিম কোর্টের প্রাক্তন বিচারপতি সুশীলা কারকি। জেন-জির দাবি মেনে ৭৩ বছর বয়সি লৌহমানবী সুশীলার হাতে সরকার পরিচালনার চাবিকাঠি তুলে দিয়েছেন প্রেসিডেন্ট রামচন্দ্র পৌডেল। ২৭৫ সদস্যের পার্লামেন্ট ভেঙে দেওয়া হয়েছে। যদিও সংসদ পুনর্বহালের দাবিতে সরব হয়েছে ৮টি রাজনৈতিক দল। এমতাবস্থায় ঘোষণা করা হয়েছে ৫ মার্চ নির্বাচন হবে।
হাতে সময় মাত্র ৬ মাস। এর মধ্যেই যাবতীয় সংস্কারের কাজ সেরে ফেলতে চাইছেন সুশীলা। রবিবার তিনি বলেন, ‘ক্ষমতা ভোগ করতে আসিনি। ক্ষমতার প্রতি আমরা লালায়িত নই। ছ’মাসের বেশি আমরা থাকব না। নতুন সংসদের হাতে দেশ পরিচালনার দায়িত্বভার তুলে দেব।’ এদিন প্রথম দেশবাসীর উদ্দেশ্যে বার্তায় সুশীলা বলেন, ‘আপনাদের সমর্থন ছাড়া আমরা সফল হতে পারব না। মাত্র দু-দিনের বিক্ষোভের জেরে এতবড় পালাবদল দেখিনি। আমাদেরকে দৃঢ়তার সঙ্গে কাজ করতে হবে।’ ভাঙচুরের রাজনীতি প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ‘প্রতিবাদের নামে কী ঘটল দেখুন। মনে হচ্ছে, পরিকল্পনা করে এসব ঘটানো হয়েছে। ব্যক্তিগত সম্পত্তিতে আগুন লাগানো হয়েছে। আমরা কাউকে রেয়াত করব না। ক্ষতিগ্রস্তদের ক্ষতিপূরণ দেবে সরকার। সহজ শর্তে ঋণ বা অন্য কোনও উপায়ে সহায়তা করা হবে। ভাঙচুর বা অগ্নি সংযোগ নিয়ে অন্তর্বর্তী সরকার তদন্ত করবে।’
প্রধানমন্ত্রী হওয়ার পর রবিবারই প্রথম বক্তব্য রাখলেন অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধানমন্ত্রী সুশীলা কারকি। এদিন তিনি বলেন, বিক্ষোভে নিহতদের পরিবারপিছু নেপালি মুদ্রায় ১০ লক্ষ রুপি আর্থিক সাহায্য দেওয়া হবে। আহতদের চিকিৎসার খরচ বহন করবে অন্তর্বর্তী সরকার। উল্লেখ্য, তিনিই নেপালের সুপ্রিম কোর্টের প্রথম মহিলা বিচারপতি এবং তিনিই প্রথম নেপালের মহিলা প্রধানমন্ত্রী।








