‘ভোট চুরি’ ইস্যুতে সরগম জাতীয় রাজনীতি
নতুন পয়গাম, দিল্লি, ১৪ আগস্ট: দেশের ৭৯তম স্বাধীনতা দিবসেও ঐক্যের ছবি দেখাতে পারল না জাতীয় রাজনীতির কুশীলবরা। স্বাধীনতার শুভ লগ্নে নতুন করে বিতর্কের জন্ম দিয়েছে কংগ্রেস নেতা রাহুল গান্ধীর ‘ভোট চুরি’র বিস্ফোরক অভিযোগ। বিরোধী জোটের নেতারা সাফ বলছেন, এই কারচুপি বা অনিয়মের সঙ্গে জড়িত জাতীয় নির্বাচন কমিশন। কমিশন ২০২৪ সালের লোকসভা নির্বাচনে ক্ষমতাসীন দল বিজেপি’কে নিয়ম বর্হিভূতভাবে সুবিধা পাইয়ে দিয়েছে।
উল্লেখ্য, মঙ্গলবার বিরোধী সাংসদরা নির্বাচনী প্রক্রিয়ার স্বচ্ছতা নিয়ে অভিযোগ তুললে সংসদের অধিবেশন স্থগিত করে দেওয়া হয়। তার একদিন আগে নয়াদিল্লিতে নির্বাচন কমিশনের দপ্তর অভিমুখে মিছিল করে যাবার চেষ্টা করলে রাহুল গান্ধী-সহ বেশ কয়েকজন শীর্ষ নেতাকে সাময়িকভাবে আটক করে পুলিশ। ৭ আগস্ট রাহুলই প্রথম সাংবাদিক সম্মেলন করে ‘ভোট চুরি’র অ্যাটম বম্ব ফাটিয়ে দেশজুড়ে হইচই ফেলে দেন। নির্বাচন কমিশন ও বিজেপি অবশ্য এই অভিযোগকে অস্বীকার করেছে।
রাহুলের অভিযোগ ২০২৪ সালের লোকসভা নির্বাচনে বিজেপি টানা তৃতীয়বার জয়ের মাধ্যমে পরপর তিন দফায় প্রধানমন্ত্রী হন নরেন্দ্র মোদি। রাহুল অভিযোগ করেছেন, এই নির্বাচনে অনিয়ম করে ১ লাখেরও বেশি ভোটার নিবন্ধন করা হয়েছে। এটি করা হয়েছে বেঙ্গালুরু কেন্দ্রীয় আসনের মহাদেবপুরা এলাকায়। এসব ভোটারদের মধ্যে অনেকেই ডুপ্লিকেট বা ভুয়ো। তাদের ঠিকানাতেও ত্রুটি আছে, এমনকি একই ভোটার একাধিক রাজ্যে বা একাধিক জায়গায় ভোটার হিসেবে রয়েছে এবং যথারীতি ভোটও দিয়েছে। রাহুল মহাদেবপুরায় একই ঠিকানায় ৮০ জনের নাম থাকার নথিপত্র তুলে ধরে তথ্য-প্রমাণও দিয়েছেন।
গতবছর লোকসভা ভোটে কংগ্রেস ৫৪৩টি আসনের মধ্যে ৯৯টিতে জয় পায়। বিজেপি জেতে ২৪০টিতে। রাহুলের অভিযোগ, নির্বাচন কমিশনের অনিয়মের কারণে তাঁর দল কংগ্রেস কমপক্ষে ৪৮টি আসন হারিয়েছে। অনিয়ম ঢাকতে ভোটকেন্দ্রের সিসিটিভি ফুটেজও মুছে ফেলেছে কমিশন।
রাহুলের সেদিনের হেভিওয়েট সাংবাদিক সম্মেলনের পর নির্বাচন কমিশন এক্স-এ প্রতিক্রিয়া জানায়। তারা এহেন অভিযোগকে অস্বীকার করে পাল্টা দাবি করেছে, এমন অভিযোগ তোলায় রাহুল গান্ধীকে জাতির কাছে ক্ষমা চাওয়া উচিত।
কমিশনের কেরালা কার্যালয় জানিয়েছে, গত লোকসভা নির্বাচনের আগে ভোটার তালিকা সংশোধনের সময় কংগ্রেস আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো লিখিত আপত্তি জমা দেয়নি। আর সিসিটিভি ফুটেজ মুছে ফেলা প্রসঙ্গে বলেছে, ভোটের ফলাফল ঘোষণার পরেও ৪৫ দিন পর্যন্ত ফুটেজ সংরক্ষণ করা হয়।
কেন্দ্রীয় শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধান অভিযোগ অস্বীকার করে সাফাই দিয়ে বলেছেন, এমন অরাজকতা, অস্থিরতা ও বিশৃঙ্খলা তৈরি করাটা অত্যন্ত উদ্বেগজনক। এটি গণতন্ত্রের জন্যও বিপজ্জনক ও অশুভ ইংগিত। কেন্দ্রীয় কৃষিমন্ত্রী শিবরাজ সিং চৌহান বলেছেন, রাহুল গান্ধী ও বিরোধী জোট গণতন্ত্রকে কলঙ্কিত করছে। তারা সংবিধানিক প্রতিষ্ঠানের মর্যাদায় হস্তক্ষেপ করছে।
রাহুল গান্ধী এমন সময় অভিযোগগুলো তুলেছেন, যখন বিহারে ভোটার তালিকা সংশোধন নিয়েও তীব্র বিতর্ক উঠেছে। নভেম্বরে এই রাজ্যে বিধানসভা ভোট হওয়ার কথা। নির্বাচন কমিশন বলছে, ডুপ্লিকেট ও মৃত ভোটারদের বাদ দিতেই এই সংশোধনী (এসআইআর) আনা হয়েছে। তবে বিহারের অনেক ভোটারদের একটা বড় অংশ জানিয়েছেন, খসড়া তালিকায় ভুল ছবি, এমনকি মৃত ব্যক্তির নামও অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। নিবিড় সংশোধনের কাজে তাড়াহুড়ো করায় অনেক ভোটার, বিশেষ করে অভিবাসী ও সংখ্যালঘুদের বাদ দেওয়া হয়েছে।
ভোটার তালিকায় নিবিড় সংশোধনীর বিরুদ্ধে ইতিমধ্যেই সুপ্রিম কোর্টে একাধিক পিটিশন দায়ের হয়েছে। আবেদনকারীরা ভোটার তালিকা থেকে বাদ দেওয়া প্রায় ৬৫ লক্ষ নাগরিকের নাম বাদ দেওয়ার কারণ জানতে চেয়েছেন। কমিশন জানিয়েছে, বাদ পড়াদের মধ্যে ২২ লক্ষ ব্যক্তি মৃত, ৭ লক্ষাধিক একাধিকবার নিবন্ধিত এবং ৩৬ লক্ষ মানুষ অন্যত্র স্থানান্তরিত হয়েছে। এমতাবস্থায় রাহুল গান্ধী জাতীয় পর্যায়ে ভোটার তালিকায় কারচুপি তথা অনিয়মের অভিযোগ আরও জোরালোভাবে তুলছেন। ১২ আগস্ট তিনি বিহারের খসড়া নির্বাচনী তালিকায় ১২৪ বছর বয়সী এক ভোটারের নাম থাকার উদাহরণ দিয়ে বলেন, এমন আরও অসংখ্য উদাহরণ আছে। ঘটনা এখানেই শেষ নয়, আরও বাকি। ইয়েন তো সিরফ ট্রেলার, ফিল্ম আভি বাকি হ্যায়।








