গৃহবধূর রহস্যজনক মৃত্যু! আত্মহত্যা নাকি খুন? ধন্ধে পুলিশ
প্রীতিময় সরখেল
নতুন পয়গাম, জলপাইগুড়ি :
বিয়ের চার বছরের মধ্যেই গৃহবধূর ঝুলন্ত দেহ উদ্ধার ঘিরে চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে ধূপগুড়ির মাগুরমারী ১ নম্বর গ্রাম পঞ্চায়েতের কচুয়াপাড়া এলাকায়। মৃতার নাম মৌসুমী বেগম (২৩)। আত্মহত্যা নাকি খুন— ধন্ধে পুলিশ।
পরিবারের অভিযোগ, মৌসুমীকে খুন করে ঝুলিয়ে দেওয়া হয়েছে। তবে শ্বশুরবাড়ির দাবি, তিনি আত্মহত্যা করেছেন। পরিবার সূত্রে জানা যায়, শুক্রবার রাত ১১টা নাগাদ মৌসুমী তাঁর বাপের বাড়িতে ফোন করে জানিয়েছিলেন, শনিবার শ্বশুরবাড়িতে একটি অনুষ্ঠান রয়েছে, সবাইকে আসতে হবে এবং মাকে আলাদা করে বলেছিলেন পান নিয়ে আসতে। এরপর হঠাৎই বন্ধ হয়ে যায় তাঁর মোবাইল। শনিবার সকালে এলাকার এক মহিলা মৃতার পরিবারকে ফোন করে জানান, মৌসুমী আত্মহত্যা করেছেন।
খবর পেয়ে পরিবার ও প্রতিবেশীদের মধ্যে তীব্র চাঞ্চল্য ছড়িয়ে পড়ে। পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে ঝুলন্ত দেহ উদ্ধার করে থানায় নিয়ে যায়।
মৃতার কাকা শফিউল হক জানান, সাড়ে চার বছর আগে মৌসুমীর বিয়ে হয় এবং তাঁর তিন বছরের একটি ছেলে রয়েছে। শ্বশুরবাড়ির অত্যাচারের জেরেই মেয়েকে হত্যা করা হয়েছে বলে অভিযোগ পরিবারের। তাঁদের দাবি, বিদ্যুৎস্পৃষ্ট করে খুনের পর ঝুলিয়ে দেওয়া হয়েছে। এর আগেও মানসিক ও শারীরিক নির্যাতনের কারণে মৌসুমীকে বাপের বাড়ি নিয়ে আসা হয়েছিল, পরে আলোচনার মাধ্যমে স্বামীর কাছে ফেরত পাঠানো হয়।
মৃতার শাশুড়ি আলেমা খাতুন বলেন, “আমরা আলাদা রুমে থাকি। স্বামী-স্ত্রীর ব্যাপার আমরা কিভাবে জানব। ঘরে যদি চিৎকার-চেঁচামেচি হত তাহলে শুনতে পেতাম। ছেলে হাসপাতাল থেকে আধার কার্ড নিতে এসে বাড়িতে পুলিশ দেখে পালিয়ে যায়।”
ঘটনার পর মৃতার পরিবার ধূপগুড়ি থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছে। মৃতদেহটি ময়নাতদন্তের জন্য জলপাইগুড়ি জেলা হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে।
পুলিশ সূত্রে খবর, অভিযোগের ভিত্তিতে একজনকে আটক করা হয়েছে। ঘটনার তদন্ত চলছে। ময়নাতদন্তের রিপোর্ট আসল কারণ পরিষ্কার করবে। এই ঘটনায় গোটা এলাকায় শোকের ছায়া নেমে এসেছে।








