মোটিভেশনাল পয়গাম
নতুন পয়গাম, ১৫ সেপ্টেম্বর ২০২৫
রাতের আকাশেই ফোটে চাঁদ, তারা। অন্ধকারের গর্ভ থেকেই প্রসব হয় সকাল। রাতের বুক চিরে উদিত হয় সূর্য। দিনের শেষভাগে থাকে গোধূলি ও সন্ধ্যা। আবার রাতের ইতি টানতে আবির্ভূত হয় ঊষা। রাত্রি না হলে দিন হত না। দিন না হলে রাত্রি আসত না। মুরগি আগে, নাকি ডিম? — এঁড়ে তক্কে ব্যাটারি খরচ করে লাভ নেই। দিন – রাত, কেউ আগে নয়, কেউ পরে নয়, দুজন মিলে আহ্নিক গতির সার্কেল কমপ্লিট করে। সহজাত ও চরিত্রগতভাবে দিন – রাত্রি সম্পূর্ন বিপরীত মেরুর হলেও তারা পরস্পরের প্রতিপক্ষ নয়, বরং একে অপরের পরিপূরক। কবির কথায়, মেঘ দেখে কেউ করিসনে ভয়, আড়ালে তার সূর্য হাসে। জীবন বিধান আল কুরআন বলেছে, “ফা ইন্না না মাআল ওশরে, আল ইউশরা।”
দুধ সুষম খাদ্য। তার অন্যতম কারণ হল দুধের বহুমুখী ব্যবহার ও প্রয়োগ। দুধ থেকে দই, ছানা, ক্ষীর, মাখন, ঘি, ঘোল, লস্যি, পায়েস, পনীর, হরেক রকম মিষ্টি হয়। মানুষ গরু পোষে দুধের জন্য, গোবর কিংবা ঘুঁটের জন্য নয়। গোবর হল বাই প্রোডাক্ট, ওটা না চাইলেও পাওয়া যায়।
তেমনি পড়াশোনা করতে হয় ভালো মানুষ হওয়ার জন্য, রোজগার তো যাহোক একটা কিছু হবে। ওটা কপাল কিংবা তগদীর। তবে আল্লাহ্ খাওয়াবে বলে নাকে তেল দিয়ে ঘুমালে হবে না, সাধ্যমত চেষ্টা করতে হবে। বাকিটা রিযিকের মালিক আল্লাহর হাতে ছেড়ে দাও। আর অল্পে সন্তুষ্ট হবার মতো মাইন্ডসেট তৈরি করো। তাহলে অভাব কোনোদিন তোমাকে স্পর্শ করতে পারবে না।
পানকৌড়ি পানিতে ডুবে মাছ ধরে খায়। তাই বলে পানকৌড়ি কিন্তু ডুবুরি নয়। কারণ, মাছ ছাড়া সে অন্য কিছু ধরে আনতে পারে না।।। লরির খালাসী তরমুজ ছুড়ে নিচে ফেলে। মাটিতে পড়ার আগে একজন লুফে নেয় এবং অন্যজনকে হস্তান্তর করে। এই কাজে তারা সিদ্ধহস্ত। তাই বলে এরা ভালো গোলকিপার কিংবা উইকেট কিপার হতে পারে না। মাটি খুঁড়লে হরেক রকম খনিজ সম্পদ পাওয়া যায়। তার মধ্যে টিন, লোহা ইত্যাদি অনেক পাওয়া যায়। সোনা রূপার মতো বহুমূল্যবান ধাতু খুব কমই পাওয়া যায়।
বলো কম, শোনো বেশি। তাই তো আমাদের একটা মুখ, আর দুটো কান। কথা বলো, ঝগড়া করো না। ঝগড়া করলে অনেক বেশি ক্যালোরি খরচ হয়, সম্পর্ক নষ্ট হয়, মুখ ফসকে গালাগালি বেরিয়ে যায়, ভালো মানুষীর মুখোশ খুলে যায়, টেনশন বেড়ে যায়, ব্লাড প্রেসার হাই হয়ে যায়, আরো অনেক কিছু হয়, যেগুলো সবই ক্ষতিকর। ঝগড়ার কোনো উপকারিতা নেই। ঝগড়া করে কেউ বড়লোক হয়নি। ঝগড়ুটে লোক সবার চোখে নীচ মানসিকতার হয়। তবুও এমন অনেক লোক আছে, যাদের ঝগড়া না হলে ভাত হজম হয় না বা ঘুম আসে না। তোমার কাজ হবে, আত্মসম্মান বজায় থাকতে থাকতে সসম্মানে বেরিয়ে এসো।
ধাড়ি কুড়ুক মুরগি পেটের তলায় নিয়ে হাঁস এবং মুরগি দু-রকম ডিমেই তা দেয়। একসময় ডিম ফুটে দু রকম বাচ্চাই বেরোয়। কিন্তু পুকুর ধারে গেলে বোঝা যায় কোনটা হাঁস, আর কোনটা মুরগির বাচ্চা। হাঁসের বাচ্চাগুলো প্যাঁক প্যাঁক করতে করতে দিব্যি পুকুরে নেমে মজায় সাঁতার কাটে, জলকেলি করে। কিন্তু মুরগির বাচ্চাগুলোকে ছুড়ে ফেলে দিলেও তারা ঘুণাক্ষরেও পুকুরে নামবে না।
আমাকে হয়ত ভাবছো, এই ব্যাটা খুব ডায়লগ দিচ্ছে। পয়সা খরচ হয় না তো, তাই খুব লম্বা চওড়া ভাষণ দিচ্ছে। ভাবতেই পারো। আমি কেবল তোমার ভাবনায় অক্সিজেন জোগানোর কাজ করছি। এর বেশি মুরোদ বা এক্তিয়ার আমার নেই। তোমার ছাগল, তুমি কোন দিকে জবাই করবে, সেটা তোমার ব্যাপার। তুমি হাঁস মুরগি পানকৌড়ি নাকি ডুবুরি হতে চাও, সেটা তোমার সিদ্ধান্ত। তুমি টিন ভাঙ্গা লোহা ভাঙ্গা হিসেবে কেজি দরে বিকোবে, নাকি ভরি হিসেবে সোনা রুপো হবে, আমি কী করে বলব? আমার কাজ হল তোমার ভাবনার অন্ধকার গুহায় ঢুকে একটা দেশলাই কাঠি জ্বালিয়ে দেওয়া।








