গাজায় চরম অপুষ্টিতে সোয়া ৩ লাখ শিশু
নতুন পয়গাম, ২৩ আগস্ট: ফিলিস্তিনের গাজা উপত্যকায় প্রায় ৩ লাখ ২০ হাজার শিশু তীব্র খাদ্য সংকট ও চরম অপুষ্টিতে ভুগছে। এসব শিশুর চিকিৎসা করতে অন্তত ১০টি হাসপাতাল দরকার। গাজা সিটির আল-শিফা হাসপাতালের ডাইরেক্টর মোহাম্মদ আবু সালমিয়া ও আল-নাসের মেডিকেল কমপ্লেক্সের শিশু হাসপাতালের সুপার আহমদ আল-ফারা এ কথা বলেছেন।
আবু সালমিয়া বলেন, শিশুদের পাশাপাশি গাজার বিভিন্ন হাসপাতালে আহত বা জখম হয়ে আরও যাঁরা রক্তাক্ত অবস্থায় ভর্তি হয়েছেন, যন্ত্রণায় কাতরাচ্ছেন, তাঁরাও বিভিন্ন মাত্রায় অপুষ্টির শিকার। অনাহার, অপুষ্টি কেবল এখন নয়; ইসরাইলি বর্বরতা ও নৃশংসতার জেরে গাজাবাসী চিরকালই এই সমস্যার মধ্য দিয়েই বেঁচেবর্তে আছেন। প্রতিদিন বহু সংখ্যক মানুষকে ইসরাইল হত্যা করে, তাই গাজাবাসীকে দৈনিক ৫ ওয়াক্ত নামাযের পাশাপাশি নিত্যদিন একাধিক জানাযার নামাযেও শামিল হতে হয়।
ডা. আল-ফারাহ বলেন, আমাদের হাসপাতালে ভর্তি ১২০টি শিশু তীব্র অপুষ্টির শিকার। যেসব বেঁচে থাকলে এদেরকে সারা জীবন মাশুল দিয়ে যেতে হবে। এরা কখনোই পুরোপুরি সুস্থ বা স্বাভাবিক হতে পারবে না। গাজার স্বাস্থ্য বিভাগ জানিয়েছে, গতকাল শনিবার বেলা তিনটা পর্যন্ত পূর্ববর্তী ২৪ ঘণ্টায় গাজায় অপুষ্টিতে আরও অন্তত ৮-৯জন শিশু মারা গেছে। ইসরাইলি হামলা শুরুর পর গত ২২ মাসে গাজায় প্রায় ৩০০ শিশু অপুষ্টিতে মারা গেছে।
অন্যদিকে, প্রায় সাড়ে ৫ লাখ গাজাবাসী চরম খাদ্যাভাব বা দুর্ভিক্ষের কবলে পড়েছেন। এমন পরিস্থিতি চলতে থাকলে শীঘ্রই প্রশাসনিক অঞ্চল দেইর আল-বালাহ ও দক্ষিণের খান ইউনিসেও দুর্ভিক্ষ ছড়িয়ে পড়তে পারে। রাষ্ট্রসংঘের মহাসচিব আন্তোনিও গুতেরেস গাজার দুর্ভিক্ষকে ‘মানবসৃষ্ট বিপর্যয়’ ও ‘মানবতার ব্যর্থতা’ বলেছেন।
আইপিসি-র তরফে টম ফ্লেচার বলেন, এ দুর্ভিক্ষ ঠেকানো যেত। কিন্তু ইসরাইলের পরিকল্পিত বাধায় গাজায় খাদ্য ও ত্রাণবাহী ট্রাক ঢুকতে না পারায় পরিস্থিতি ক্রমেই আরো খারাপ হচ্ছে।








