উত্তাপহীন ডার্বিতে মহামেডানকে ৫ গোলে উড়িয়ে দিল মোহনবাগান
এম.রহমান, নতুন পয়গাম, কলকাতা: এই মহামেডান আর আগের সেই মহামেডান নেই।তাই হার একপ্রকার নিশ্চিত ছিল।কিন্তু তাই বলে ৫ গোল! তাও আবার প্রথমে এগিয়ে গিয়েও? শনিবার যুবভারতীতে যেন দোলের আমেজ ছড়িয়ে দিলেন রবসন, দিমিত্রিরা। তাঁদের দাপটে আইএসএলের তৃতীয় ম্যাচে মহমেডান স্পোর্টিংকে বড় ব্যবধানে হারিয়ে লিগ টেবিলের শীর্ষে উঠে এল মোহন বাগান। তৃতীয় রাউন্ডের পর মোহন বাগান ও জামশেদপুর ৯ পয়েন্ট পেয়েছে। গোল পার্থক্যে (+ ৮) এগিয়ে পালতোলা নৌকা। তবে অতিরিক্ত আত্মতুষ্টির মাশুল দিতে হল সের্গিও লোবেরা ব্রিগেডের ডিফেন্সকে। মহমেডানের ভারতীয় স্কোয়াডের সামনেও সবুজ-মেরুন রক্ষণের আগল যেভাবে আলগা হল তা চিন্তায় রাখবে স্প্যানিশ কোচকে।
এদিন সবাইকে চমকে দিয়ে প্রথম একাদশে চারটি পরিবর্তন করেন কোচ লোবেরা। দীপক টাংরি, অময় রানাওয়াডে, মনবীর ও কামিংসকে মাঠে নামালেন তিনি। প্রতিপক্ষকে চাপে ফেলে ভালোই শুরু করেছিল সবুজ-মেরুন ব্রিগেড। বাঁ দিক থেকে কাট করে ঢুকে নেওয়া রবসনের শট রুখে দেন মহমেডান গোলরক্ষক। এরপর সেই প্রান্ত থেকে অভিষেকের বাড়ানো থ্রু বক্সে পায়ে জড়িয়ে ফেললেন থাপা। কিন্তু চমক দিল মহমেডান। ১২ মিনিটে লালগাইসাকার কর্নার হেডে জালে জড়িয়ে যুবভারতীকে চুপ করিয়ে দেন লালথানকিমা (১-০)। দর্শকের ভুমিকায় তখন আলবার্তো ও আপুইয়া। এই গোলই মোহন বাগানের আত্মসম্মানে ঘা দেয়। বিপক্ষকে ছারখার করার দায়িত্ব কাঁধে তুলে নেন ব্রাজিলিয়ান রবসন। ২১ মিনিটে কামিংসের ব্যাক হিল ধরে জাল কাঁপান তিনি (১-১)। মিনিট ছয়েক পরে ফের স্কোরশিটে নাম তুললেন নেইমারের দেশের ফুটবলার। এবার ডান পায়ের বাঁক খাওয়ানো শটে লক্ষ্যভেদ তাঁর (২-১)। ব্যবধান ৩-১ করলেন ম্যাকলারেন। তবে গোলের আসল কারিগর কামিংস। তাঁর জোরালো হেড গোলরক্ষক শুভজিৎ বিপদমুক্ত করলে তা সুযোগসন্ধানী ম্যাকা’র সামনে পড়ে।
আলতো টোকায় বল জালে জড়ান অজি বিশ্বকাপার। বাকি সময়ে সাদা-কালো রক্ষণকে নিয়ে কার্যত ছেলেখেলা করে পালতোলা নৌকা। উল্লেখ্য, ৩৭ মিনিটে রবসন চোট পেয়ে মাঠ ছাড়লে নামেন দিমিত্রি। যদিও ম্যাচ শেষে বাগান কোচ লোবেরা জানিয়েছেন, রবসনের চোট গুরুতর নয়। পরের ম্যাচে ব্রাজিলিয়ানের খেলার ব্যাপারেও আশাবাদী তিনি। বিরতির পরেও ছন্দ বজায় রাখে লোবেরার দল। পাসের ফুলঝুরিতে মহমেডান রক্ষণ তছনছ করে লিড ৪-১ করলেন মনবীর। অভিষেকের সেন্টারে হেডে লক্ষ্যভেদ পাঞ্জাব উইঙ্গারের। তবে দিনের সেরা গোল দিমির। মাঝমাঠে খেলা চলায় মহমেডান গোলরক্ষক শুভজিৎ জায়গায় ছিলেন না। পলকে তা লক্ষ্য করে প্রায় ৪০ গজ দূর থেকে ডান পায়ের দুরন্ত ভলিতে জাল কাঁপালেন তিনি (৫-১)। ম্যাচ শেষে লোবেরা বলেন, ‘বড় জয় এলেও রক্ষণভাগ আরও জমাট করতে হবে।’ আর মহামেডানকে পুরো দল মেরামত করতে হবে।








