প্রজাতন্ত্র দিবসে নজরকাড়া পাগড়িতে মোদি
নতুন পয়গাম, নয়াদিল্লি: সোমবার দেশের ৭৭তম প্রজাতন্ত্র দিবস উদযাপন করল আসমুদ্র হিমাচল, কাশ্মীর থেকে কন্যাকুমারি। ফের চর্চায় প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির অভিনব পাগড়ি। এদিন কর্তব্যপথে কুচকাওয়াজের পাশাপাশি আকর্ষণের কেন্দ্রবিন্দু হয়ে ওঠে প্রধানমন্ত্রীর পোশাক এবং বর্ণময় পাগড়ি। রঙিন ঐতিহ্যবাহী পাগড়ি বা সাফা শুধু ফ্যাশন স্টেটমেন্টই নয়, তার চেয়েও বেশি কিছু। এই পাগড়ি দেশের সাংস্কৃতিক বৈচিত্র্য এবং ঐতিহ্যকে প্রতিফলিত করে।
এদিন প্রধানমন্ত্রী ন্যাশনাল ওয়ার মেমোরিয়ালে যান লাল রঙের টাই-ডাই পাগড়ি পরে, তাতে রাজস্থানী প্রিন্টের মতো সোনালি মোটিফ ছিল। পাগড়িটি সিল্কের বলেই মনে হয়, সম্ভবত এটি সিল্ক ব্রোকেড বা জরি কাজের কাপড়ে তৈরি। সোনালি মোটিফগুলো প্রিন্ট করা নয়, বরং জরি বা ধাতব সুতো দিয়ে বোনা বলে মনে হচ্ছিল। এই ধরনের শিরোভূষণ বিভিন্ন শৈলীতে পাওয়া যায়, যার মধ্যে লম্বা লেজযুক্ত যোধপুরি সাফা অন্যতম, যা ঐতিহ্যবাহী কারুশিল্প এবং আধুনিকতার এক চমৎকার মিশ্রণ।
এ দিন প্রধানমন্ত্রী লাল-হলুদ পাগড়িটির সঙ্গে নীল ও সাদা কুর্তা-পাজামা এবং একটি হালকা রঙের হাফ জ্যাকেট পরে ছিলেন। এর আগের প্রজাতন্ত্র দিবসগুলোতেও প্রধানমন্ত্রী মোদির পাগড়িকে কেন্দ্র করে জোর চর্চা হয়েছে। গতবছর প্রজাতন্ত্র দিবস উদযাপনের সময় তিনি একটি উজ্জ্বল লাল এবং হলুদ রঙের বাঁধনি সাফা পরেছিলেন, যা রাজস্থানী ও গুজরাটি ঐতিহ্যের টাই-ডাই বস্ত্র। এর সঙ্গে তিনি একটি সাদা কুর্তা-পাজামা এবং একটি বাদামী বন্ধ গলা জ্যাকেট পরে ছিলেন।
উল্লেখ্য, প্রতি বছর বিভিন্ন রঙ, নকশা এবং আঞ্চলিক শৈলী বেছে নেওয়া হয়, যা প্রায়শই ভারতের বৈচিত্র্যময় বস্ত্র ঐতিহ্যের প্রতি শ্রদ্ধা নিবেদন করে। বিগত বছরগুলোতে প্রধানমন্ত্রী হরেক রঙের বাঁধনি প্রিন্টের পাগড়ি, উত্তরাখণ্ড-অনুপ্রাণিত টুপি বা রাজস্থানী ফেটা-শৈলীর পাগড়ি বেছে নিয়েছিলেন, যা ভারতের বিশাল সামাজিক কাঠামোর মধ্যেকার বিভিন্ন সংস্কৃতিকে তুলে ধরে।
প্রজাতন্ত্র দিবসে পাগড়ি পরার এই ঐতিহ্যটি ২০১৪ সালে দায়িত্ব গ্রহণের পর তাঁর প্রথম জাতীয় উদযাপন থেকেই শুরু হয়েছিল, যা আনুষ্ঠানিকতার সঙ্গে সাংস্কৃতিক ঐতিহ্য ও পরিচয়কে একত্রিত করে। প্রধানমন্ত্রী পোশাকে ‘বৈচিত্র্যের মধ্যে ঐক্য’-এর আখ্যান প্রতিফলিত হয়, যা ২৬ জানুয়ারির কুচকাওয়াজ এবং জাতীয় মঞ্চ উভয় ক্ষেত্রেই প্রতিধ্বনিত হয়।
ন্যাশনাল ওয়ার মেমোরিয়াল পরিদর্শনের পর প্রধানমন্ত্রী মোদি প্রজাতন্ত্র দিবসের অনুষ্ঠান দেখতে কর্তব্য পথে পৌঁছান, যা জাতীয় গীত ‘বন্দেমাতরম’-এর সার্ধ শতবর্ষ পূর্তি থিমের উপর ভিত্তি করে আয়োজিত হয়েছিল।








