ধূপগুড়ির সভা থেকে তৃণমূলকে তীব্র আক্রমণ মিঠুন চক্রবর্তীর
নতুন পয়গাম, প্রীতিময় সরখেল, ধূপগুড়িঃ ভারতীয় জনতা পার্টির ‘পরিবর্তন যাত্রা’ উপলক্ষে ধূপগুড়িতে অনুষ্ঠিত হলো এক বিশাল জনসভা। ধূপগুড়ি ব্লকের যতীনের হাট পাইমারি স্কুল মাঠে আয়োজিত এই পরিবর্তন সংকল্প সভাকে ঘিরে সকাল থেকেই কর্মী-সমর্থকদের ভিড় লক্ষ্য করা যায়। সভার আয়োজন করে বিজেপির জলপাইগুড়ি জেলা কমিটি ও ধূপগুড়ি বিধানসভা সাংগঠনিক কমিটি। সভায় প্রধান বক্তা হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বিজেপির কেন্দ্রীয় নেতা, পদ্মভূষণ প্রাপ্ত অভিনেতা ও রাজনীতিবিদ মিঠুন চক্রবর্তী। এছাড়াও মঞ্চে উপস্থিত ছিলেন বিজেপি রাজ্য সম্পাদক দীপক বর্মন, জলপাইগুড়ি সাংসদ জয়ন্ত কুমার রায় সহ একাধিক বিজেপি বিধায়ক ও দলীয় নেতৃত্ব। ২০২৬ সালের বিধানসভা নির্বাচনকে সামনে রেখে এই সভা থেকে রাজনৈতিক দিকনির্দেশনা ও সংগঠনকে আরও শক্তিশালী করার বার্তা দেওয়া হয়।
বক্তৃতা দিতে গিয়ে মিঠুন চক্রবর্তী সরাসরি তৃণমূল কংগ্রেসকে আক্রমণ করেন। তিনি বলেন, তৃণমূল কংগ্রেস মানেই “টেরর ম্যানুফ্যাকচার কোম্পানি”। তাঁর অভিযোগ, এই সরকার ভয়ের রাজনীতি তৈরি করা ছাড়া কিছুই জানে না। সেই কারণেই পশ্চিমবঙ্গে নেই শিল্প, নেই উদ্যোগ, নেই বাণিজ্য, নেই শিক্ষা ও বিদ্যা। দুর্নীতিকেই এই সরকারের প্রথম নীতি বলে কটাক্ষ করেন তিনি। বাঙালিত্ব ও সনাতনী ঐক্যের প্রসঙ্গে মিঠুন চক্রবর্তী বলেন, বাঙালীদের বাঙালিত্ব, হিন্দুদের হিন্দুত্ব এবং সনাতনীদের সনাতনিত্ব রক্ষার জন্য সবাইকে এক ছাতার নিচে এসে লড়াই করতে হবে। তাঁর স্পষ্ট বক্তব্য, এবার লড়াই হবে এবং তৃণমূলের পতন হবেই। একইসঙ্গে তিনি দাবি করেন, বিজেপি মুসলমানদের বিরুদ্ধে নয়, বিজেপি ভারতীয় মুসলমানদের বিরুদ্ধে নয়। বিজেপির লড়াই তাদের বিরুদ্ধে, যারা দেশে থেকে দেশের ক্ষতি করতে চায়।
সভা থেকে তিনি কমিউনিস্ট পার্টি, কংগ্রেস এবং তৃণমূল কংগ্রেসের সেই সব কর্মীদের উদ্দেশেও আহ্বান জানান, যাদের মধ্যে এখনো বিবেকবোধ ও হিন্দুত্ব বেঁচে আছে। তিনি বলেন, সবাই একজোট হয়ে এক ছাতার নিচে এসে বর্তমান সরকারকে উৎখাত করতে হবে। বাংলাদেশ প্রসঙ্গ টেনে মিঠুন চক্রবর্তী বলেন, পশ্চিমবঙ্গে এমন পরিবেশ তৈরি করা হচ্ছে যেন মনে হচ্ছে বাংলাদেশে আছি। তিনি প্রশ্ন তোলেন, পশ্চিমবঙ্গে কীভাবে মা সম্প্রদায়িক হয়ে গেল। তাঁর কড়া বার্তা, যতদিন বাংলায় তাঁর মতো ও সাধারণ বাঙালিরা বেঁচে আছেন, ততদিন পশ্চিমবঙ্গ কখনো বাংলাদেশ হবে না। শরীরে এক বিন্দু রক্ত থাকলেও তিনি এই রাজ্যকে বাংলাদেশ হতে দেবেন না বলেও ঘোষণা করেন।
কাশ্মীর ফাইলস ও বেঙ্গল ফাইলস প্রসঙ্গ টেনে তিনি অভিযোগ করেন, কাশ্মীরে যেভাবে হিন্দুদের তাড়িয়ে দেওয়া হয়েছিল, বাংলায়ও সেই পরিস্থিতি তৈরির চেষ্টা চলছে। বেঙ্গল ফাইলস দেখাতে দেওয়া হয়নি বলেও দাবি করেন তিনি। তাঁর বক্তব্য, নোয়াখালী এবং দ্য গ্রেট ক্যালকাটা কিলিং-এর ইতিহাস মানুষ জানলে অনেক সত্য সামনে আসত। সরকারি প্রকল্প নিয়েও তিনি তৃণমূল সরকারকে আক্রমণ করেন। লক্ষ্মীর ভাণ্ডার প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ওই টাকা জনগণেরই টাকা। কিন্তু স্বাস্থ্যসাথীর মতো প্রকল্পে পাঁচ লক্ষ টাকা ঠিকভাবে কার্যকর হলে মানুষের স্বাস্থ্যজনিত কষ্ট অনেকটাই কমত। তাঁর অভিযোগ, বর্তমান সরকার সাধারণ মানুষের ভালো চায় না।
বক্তৃতার শেষে বিজেপি কর্মী ও সমর্থকদের উদ্দেশে মিঠুন চক্রবর্তী বলেন, কোনো মনোমালিন্য থাকলে তা মিটিয়ে নিতে হবে এবং সবাইকে এক ছাতার নিচে থাকতে হবে। যেভাবে মানুষের সঙ্গে ব্যবহার করা হবে, সেভাবেই জবাব দেওয়া হবে বলেও তিনি মন্তব্য করেন। সভায় মিঠুন চক্রবর্তীর আক্রমণাত্মক বক্তব্য ও সংলাপে ব্যাপক উচ্ছ্বাস দেখা যায় কর্মী-সমর্থকদের মধ্যে। বিজেপি নেতৃত্বের দাবি, এই পরিবর্তন সংকল্প সভায় প্রায় বিশ হাজারেরও বেশি কর্মী ও সমর্থক অংশগ্রহণ করেছিলেন।








