বানভাসি নিয়ে প্রশ্ন শুনেই শিবির ছাড়লেন মন্ত্রী উদয়ন গুহ, ক্ষোভে ফুটছে ধূপগুড়ি
প্রীতিময় সরখেল, নতুন পয়গাম, ধূপগুড়ি:
বানভাসি মানুষের দুর্দশা নিয়ে প্রশ্ন করা মাত্র ভোট রক্ষা শিবির ছেড়ে বেরিয়ে গেলেন উত্তরবঙ্গ উন্নয়ন মন্ত্রী উদয়ন গুহ। ঘটনাটি ঘিরে তীব্র চাঞ্চল্য তৈরি হয়েছে রাজনৈতিক মহলে। প্রশ্ন উঠছে—উত্তরবঙ্গ উন্নয়ন দফতরের মন্ত্রী হয়েও ধূপগুড়ির বন্যা সংকটের প্রশ্ন এড়িয়ে গেলেন কেন?
ধূপগুড়ির একাধিক গ্রাম এখনও বন্যা-পরবর্তী বিপর্যয় কাটিয়ে উঠতে পারেনি। বহু পরিবার আজও ঘরছাড়া। সরকারি আবাসন প্রকল্পের ক্ষতিপূরণও মেলেনি অনেকের। ক্ষোভে ফুঁসতে থাকা বানভাসি মানুষ কয়েক দিন আগেই ধূপগুড়ি বিডিও অফিসে ধর্ণায় বসে পুনর্বাসন, বাঁধ মেরামতসহ নানা দাবিতে আন্দোলন করেন। স্থানীয়দের অভিযোগ—ঘটনার পর থেকে আর কোনও রাজনৈতিক নেতা কিংবা প্রশাসনিক আধিকারিক তাদের পাশে দাঁড়াতে আসেন না। বন্যার ক্ষতিপূরণ, ঘর—সবই যেন কাগজে-কলমে আটকে রয়েছে।
এই পরিস্থিতিতেই শনিবার বিকেলে ধূপগুড়ি গ্রামীণ তৃণমূল কংগ্রেস কার্যালয়ের সামনে অনুষ্ঠিত ‘বাংলার ভোট তখন’ শিবিরে উপস্থিত হন মন্ত্রী উদয়ন গুহ। সঙ্গে ছিলেন জলপাইগুড়ি জেলা তৃণমূল কংগ্রেস সভাপতি মহুয়া গোপ, জেলা যুব সভাপতি রামমোহন রায় এবং জেলা নেতৃত্বের অন্যরা। উপস্থিত ছিলেন ধূপগুড়ি পৌরসভার প্রাক্তন ভাইস-চেয়ারম্যান রাজেশ কুমার সিং, যার নাম নিয়েও মন্ত্রীর কথায় অসন্তোষ প্রকাশ পায়।
শিবির শেষে সাংবাদিকদের মুখোমুখি হলে ধূপগুড়ির বানভাসি মানুষদের পুনর্বাসন এবং সাহায্য নিয়ে প্রশ্ন করা হয় মন্ত্রীকে। কিন্তু প্রশ্ন শুনেই তিনি দৃশ্যত বিরক্ত হয়ে বিষয়টি পাশ কাটিয়ে দেন এবং দ্রুত স্থান ত্যাগ করেন। তাঁর এই আচরণেই তীব্র অসন্তোষ ছড়িয়েছে স্থানীয়দের মধ্যে।
রাজনৈতিক মহলের প্রশ্ন—ধূপগুড়ির বেশ কয়েকটি বানভাসি এলাকা বিজেপি পরিচালিত গ্রাম পঞ্চায়েতের অন্তর্গত হওয়ায় কি ইচ্ছাকৃতভাবে বিষয়টি এড়িয়ে যাচ্ছেন তৃণমূলের মন্ত্রী? নাকি প্রশাসনিক ব্যর্থতার দায় এড়াতে এমন প্রতিক্রিয়া?
বন্যা পরিস্থিতির প্রায় দু’মাস কেটে গেছে। তবুও বহু পরিবার এখনও অস্থায়ী ঘরে দিন কাটাচ্ছে। হয়নি দরকারি বাঁধ মেরামতের কাজও। আগামী দিনে কবে তারা সরকারি সাহায্য ও স্থায়ী বাসস্থানের নিশ্চয়তা পাবেন—এখন সেই উত্তরের দিকেই তাকিয়ে পুরো এলাকা।
ধূপগুড়ির বানভাসি মানুষের ক্ষোভ, প্রশ্ন ও অনিশ্চয়তা তাই আরও তীব্র হয়ে উঠছে। পরিস্থিতি সমাধানে প্রশাসন ও জনগণের মাঝে সেতুবন্ধন কবে গড়ে উঠবে—এটাই এখন প্রধান দেখার বিষয়।








