মধ্যবিত্তের নাভিশ্বাস: দেশে স্কুল-ফি বেড়েছে ৮০ শতাংশ
নতুন পয়গাম, নয়াদিল্লি: নতুন শিক্ষাবর্ষ এখন মধ্যবিত্ত ও নিম্ন-মধ্যবিত্ত অভিভাবকদের কাছে এক বড় আতঙ্কের নাম। কারণ, সন্তানের নতুন ক্লাসে ওঠার আনন্দের চেয়েও বেশি চেপে বসছে স্কুলের বর্ধিত ফি-র বোঝা। সম্প্রতি এক সমীক্ষায় উঠে এসেছে এ সংক্রান্ত চাঞ্চল্যকর তথ্য, যেখানে বলা হয়েছে, গত তিন বছরে দেশের অধিকাংশ বেসরকারি স্কুলে পড়ার খরচ ৫০ থেকে ৮০ শতাংশ পর্যন্ত বৃদ্ধি পেয়েছে।
‘লোকাল সার্কলস’ নামে এক সোশ্যাল মিডিয়া প্ল্যাটফর্ম দেশের ৩০৯টি জেলায় প্রায় ৩১ হাজার অভিভাবকের ওপর এই সমীক্ষাটি চালিয়েছে। রিপোর্টের তথ্যানুযায়ী, ৪৪ শতাংশ অভিভাবক জানিয়েছেন, গত তিন বছরে তাঁদের সন্তানের স্কুলের ফি বেড়েছে ৫০-৮০ শতাংশ। ৮ শতাংশ অভিভাবকের মতে, এই বৃদ্ধির হার ৩০-৫০ শতাংশ। মাত্র ৭ শতাংশ অভিভাবক রাজ্য সরকারের ফি নিয়ন্ত্রণ সংক্রান্ত পদক্ষেপে সন্তোষ প্রকাশ করেছেন।
বেসরকারি স্কুলগুলির এই লাগামছাড়া ফি দৌরাত্ম্য-এর জন্য ৯৩ শতাংশ অভিভাবকই সংশ্লিষ্ট রাজ্য সরকারগুলিকে কাঠগড়ায় তুলেছেন। তাঁদের অভিযোগ, ফি বৃদ্ধির বিষয়ে সরকার কড়া নিয়মাবলি বা নির্দিষ্ট গাইডলাইন তৈরি না করার ফলেই স্কুল কর্তৃপক্ষ যা খুশি তাই করছে। উল্লেখ্য, বর্তমানে শুধুমাত্র মহারাষ্ট্র ও তামিলনাড়ুতেই স্কুলের ফি নিয়ন্ত্রণ নিয়ে সরকারি নির্দেশিকা কার্যকর রয়েছে।
রিপোর্টে দেখা গেছে, বেঙ্গালুরুতে ২০২৫-২৬ শিক্ষাবর্ষে ১০-৩০ শতাংশ ফি বেড়েছে। হায়দরাবাদে প্রাক-প্রাথমিক ও প্রাথমিক স্তরে ভর্তির ফি গত বছরের তুলনায় প্রায় দ্বিগুণ হয়েছে। বিশেষ করে আন্তর্জাতিক পাঠ্যসূচি পড়ানো স্কুলগুলি প্রিমিয়াম ফি-র নামে আকাশছোঁয়া অর্থ দাবি করছে, যা মেটাতে গিয়ে অনেক মধ্যবিত্ত পরিবারই জমানো পুঁজি ভাঙতে বা ঋণ নিতে বাধ্য হচ্ছেন।
কেন্দ্রীয় শিক্ষামন্ত্রকের তথ্য অনুযায়ী, ২০১৮-১৯ সালে দেশে যেখানে ২৬.০২ কোটি পড়ুয়া স্কুলে ভর্তি হয়েছিল, ২০২৩-২৪ সালে সেই সংখ্যা প্রায় এক কোটি কমে গিয়েছে। বিশেষজ্ঞদের মতে, এই অস্বাভাবিক ফি বৃদ্ধিই কি পড়ুয়া সংখ্যা কমার অন্যতম কারণ। অভিভাবকরা মনে করছেন, সরকারি স্কুলের পঠন-পাঠনের মানোন্নয়ন এবং বেসরকারি স্কুলের ফি নিয়ন্ত্রণে কেন্দ্রের হস্তক্ষেপ এখন সময়ের দাবি।








