বাড়েনি ভাতা, পায়না বোনাস, পুজোর উৎসবে মুখে হাসি থাকে না মিড-ডে-মিল কর্মীদের
নতুন পয়গাম:
পুজো আসে পুজো যায়। সরকারি কর্মীরা উৎসব বোনাস পেলেও রাজ্যের প্রায় আড়াই লক্ষ মিড-ডে-মিল কর্মীদের মুখে উৎসবের মরসুমে কোন হাসি থাকে না। কেননা তারা এমনিতেই পায়না সম্মানজনক ভাতা তেমনি পায়না কোন উৎসব বোনাস। তাই গত ২০ বছরের মত এবছরও তাদের পুজো কাটল বিনা বোনাসে।
নদিয়ার থানারপাড়ার গমাখালি মন্ডল পাড়ার পুজো মন্ডপে দশমীর সকালে অঞ্জলি দিয়ে ফিরছিলেন দুই মিড-ডে-মিল কর্মী সোনালী প্রামানিক ও পুষ্প শীল। কেমন কাটছে আপনাদের পুজো? জিজ্ঞেস করতেই একরাশ ক্ষোভ উগরে দিয়ে মথুরাপুর প্রাথমিক বিদ্যালয়ের মিড-ডে-মিল কর্মী পুষ্প শীল বললেন, সেই ২০০ টাকা দিয়ে আমরা কাজ শুরু করেছি। ২০ বছর পর এখন দিচ্ছে মাত্র ২ হাজার টাকা। তাও বছরে ২ মাসের টাকা পায়না। এই টাকায় কীভাবে পুজোর কেনাকাটা হয় বলুন! পুজোর সময় কিছু বোনাস তো দিতে পারে।
সোনালী প্রামানিক জানান, পুজোতে বাচ্চাদের একটা ভাল জামাকাপড় কিনে দিতে পারিনা। ২০ বছর ধরে সরকারের কাজ করেও আমরা বঞ্চিত। আমাদের মুখে কিভাবে হাসি থাকে বলুন!
স্কুল পড়ুয়াদের জন্য পুষ্টিকর সুষম মিড-ডে-মিল রান্না করে খাওয়ানোর ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ অংশীদার হিসেবে কাজ করেন রাজ্যের প্রায় আড়াই লক্ষ মিড-ডে-মিল কর্মী। সকাল ১০টা থেকে ৪টা অব্দি হাড়ভাঙা পরিশ্রম করে তারা দৈনিক ভাতা পান মাত্র ৬০ টাকা। তাও বছরে ২ মাসের টাকা কেটে নেওয়া হয়।
চলতি রাজ্য বাজেটেও তাদের দীর্ঘদিনের দাবি পূরণ হয় নি। মিড-ডে-মিল কর্মীদের সরকারি কর্মী হিসেবে স্বীকৃতি, ভাতা বৃদ্ধি নিয়ে একাধিক আন্দোলন হয়েছে। প্রশাসনে একাধিকবার অভিযোগ জানালেও কেউ কর্ণপাত করেনি। বছরে ১২ মাসের ভাতা প্রদান, অবসরকালীন ভাতা, ১২ মসের বেতন, পিএফ, পেনশন বোনাস স্বাস্থ্য বীমা সহ ১৩ দফা দাবিতে গত ১৭ জুন নবান্ন অভিযানে সামিল হয় সারা বাংলা মিড-ডে-মিল কর্মী ইউনিয়নের কয়েক হাজার কর্মী।








