কেন্দ্রের নিদানে মিড ডে মিল বন্ধের পথে
মায়ের মুখের ছবি না মেলায় ভাত পাবে না লক্ষাধিক শিশু
নতুন পয়গাম, কলকাতা, ৮ সেপ্টেম্বর:
কেন্দ্র সরকার এক নির্দেশিকায় বলেছে, মায়ের ই-কেওয়াইসি যাচাই না হলে বন্ধ হবে শিশুর খাবার! ফলে বিপাকে পড়েছেন রাজ্যের প্রায় ১ লক্ষ ২০ হাজার অঙ্গনওয়াড়ি কেন্দ্রের কয়েক লক্ষ মা ও শিশু। সূত্রের খবর, আধার যাচাই না হয়ে থাকলে নভেম্বর থেকেই অঙ্গনওয়াড়িতে সংশ্লিষ্ট শিশুর মিড ডে মিল বন্ধ হয়ে যেতে পারে। এখনও পর্যন্ত মাত্র ৩৮ শতাংশ ক্ষেত্রে মায়ের আধার যাচাই করা সম্ভব হয়েছে। এই কাজ করতে গিয়ে কী ধরনের সমস্যা বা জটিলতার মধ্যে পড়তে হচ্ছে আইসিডিএস কর্মীদের? এত সময়ই বা লাগছে কেন? এসব প্রশ্নের উত্তরে জানা গিয়েছে, এক্ষেত্রে মূল সমস্যা হল মায়ের মোবাইলের সঙ্গে আধারের লিঙ্ক না থাকা। এজন্যই মূলত ই-কেওয়াইসি যাচাই করা সম্ভব হচ্ছে না। এছাড়াও রয়েছে আরও নানা রকমের সমস্যা।
বর্তমানে রাজ্যের অঙ্গনওয়াড়ি কেন্দ্রগুলিতে নথিভুক্ত শিশুর সংখ্যা প্রায় ৮৪ লক্ষ ৫৮ হাজার ৭৭১। এফআরএস হয়েছে ২৪ লক্ষ ৭ হাজার। মুখের ছবি মিলিয়ে এফআরএস হয়েছে মাত্র ৩০ শতাংশ। কোন কোন শিশু মিড ডে মিল পাচ্ছে, আগে সেই হিসেব রাখা হত খাতা-কলেম। সম্প্রতি কেন্দ্র সরকার নির্দেশ দেয়, সেই হিসেব তুলতে হবে নতুন চালু হওয়া ‘পোষণ’ অ্যাপে। শুধু অ্যাপে তথ্য দিলেই হবে না। সরকারি টাকার নয়ছয় আটকাতে শিশুর মায়ের আধার কার্ডের তথ্যও আপলোড করতে হবে অ্যাপে। এখন সর্বশেষ নির্দেশে বলা হয়েছে, মায়েদের জমা করা আধার-তথ্য আদৌ সঠিক কি না, তাও যাচাই করতে হবে। এক্ষেত্রে একমাত্র উপায় ওটিপি বা ওয়ান টাইম পাসওয়ার্ড। মোবাইলের সঙ্গে আধার সংযুক্ত থাকলেই যা সম্ভব। পদ্ধতিটি হল, মায়ের মোবাইলে ওটিপি আসার পর আইসিডিএস কর্মীরা মায়ের মুখের ছবি তুলবেন। আধারের সঙ্গে সেই ছবি মিলিয়ে দেখা হবে ওই অ্যাপের মাধ্যমেই।
পশ্চিমবঙ্গ আইসিডিএস কর্মী সমিতির সভানেত্রী ইন্দ্রাণী মুখোপাধ্যায় জানান, বহু ক্ষেত্রে শিশুর মায়ের মুখের সঙ্গে আধারের ছবি মিলছে না। কারণ, বিবাহের পর এখন তাদের মুখের ছবি বদলে গেছে। ফলে মিলছে না মুখ। ফলে যাচাই প্রক্রিয়া সম্পূর্ণ হচ্ছে না। আবার বহু মায়ের আধারের সঙ্গে মোবাইলের লিঙ্ক করানো নেই। থাকলেও সংশ্লিষ্ট সিম কার্ডটি হয়ত অকেজো বা এখন অন্য কারও নামে ইস্যু হয়ে গিয়েছে। ইন্দ্রাণীদেবীর কথায়, ফাইভ-জি ডেটা স্পিড না থাকলে অ্যাপে প্রক্রিয়াটি শেষ করাই যাচ্ছে না। রাজ্য সরকার মোবাইল দেবে বলেছিল। এখনও তা আমরা পাইনি। সব মিলিয়ে পরিস্থিতি অত্যন্ত শোচনীয়।
আরও পড়ুন








