মানিকচক ব্লকে নদী ভাঙন তলিয়ে গেল ১৫০ মিটার জমি, ট্র্যাক্টর, গাড়ি
গোলাম আহম্মেদ চিশতি,নতুন পয়গাম, মালদা: মালদা জেলার বন্যা পরিস্থিতির মধ্যেই শুরু হয়ে গেল ভাঙন। সোমবার ভোর তিনটে নাগাদ মানিকচক ব্লকের মথুরাপুরের শঙ্করটোলা ঘাট এলাকায় ব্যাপক ভাঙন দেখা যায়। প্রথম ধাক্কাতেই তলিয়ে গিয়েছে প্রায় দেড়শো মিটার দীর্ঘ আর ৩০ মিটার প্রশস্ত জমি। ভেসে গিয়েছে ২টি ট্র্যাক্টর, ২টি চারচাকা গাড়ি, কয়েকটি ভ্যান এবং ১টি মোটর বাইক। পরিস্থিতি বেগতিক দেখে ঘরবাড়ি ছেড়ে অন্যত্র নিরাপদ এলাকায় চলে গিয়েছে অন্তত ৫-৬টি পরিবার। এরকম বিপজ্জনক বাড়িগুলোকে ভাঙা হচ্ছে। নদীর ধারে একরকম ঝুলছে একটি দোকানঘর৷ এর জন্য গ্রামবাসীরা জনস্বাস্থ্য কারিগরি দফতরের নির্মীয়মান পরিশ্রুত পানীয় জলের প্রকল্পকে দুষছেন।
তাঁদের আশঙ্কা, দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ না করলে শুধু মানিকচক ব্লক নয়, বিপন্ন হবে জেলার বিস্তীর্ণ এলাকা। সে বিষয়টা আঁচ করে যুদ্ধকালীন তৎপরতায় ভাঙন মোকাবিলার কাজ শুরু করেছে সেচ দফতর৷
কয়েকদিন ধরে টানা বৃষ্টির জেরে জল কমতে শুরু করেছে ফুলহর এলাকায়। এদিন বেলা ১২টায় ফুলহরের জলস্তর ছিল ২৭.৮৫ মিটার (চূড়ান্ত বিপদসীমা ২৮.৩৫ মিটার)। নদীপাড়ের মানুষের অভিজ্ঞতা, ভাঙন শুরু হয় নদীর জল বাড়া-কমার সময়। তাঁদের সেই অভিজ্ঞতা যে কতখানি সঠিক, এদিন ভোরে তার প্রমাণ পেয়েছে শঙ্করটোলা, পাঠানপাড়ার মানুষজন। ভোর তিনটে নাগাদ হঠাৎ শুরু হয় ফুলহরের ভাঙন। মুহূর্তে তলিয়ে যায় নদীর ধারে রাখা যানবাহন-সহ স্থানীয় এলাকা, ফসলের জমি ডুবে যায়। অত ভোরে বিষয়টি ঠিক ঠাহর করতে পারেননি ঘুমন্ত মানুষজন। যদিও কিছুক্ষণের মধ্যেই হইচই পড়ে যায় গোটা এলাকায়।
মথুরাপুরের কুর্মিটোলার বাসিন্দা কানাই মণ্ডল জানান, খুব সকালে ঘুম থেকে উঠে এখানে এসে দেখি, ভাঙন শুরু হয়ে গিয়েছে। রাত আড়াইটে নাগাদ ভাঙন শুরু হয়। মানুষ আগে থেকে ভাঙনের আভাস পায়নি। বছর কুড়ি আগে একবার এখানে এমন ভাঙন হয়েছিল। কিন্তু ভাঙনরোধে প্রশাসন কোনও স্থায়ী কার্যকর পদক্ষেপ নেয়নি বলে স্থানীয়দের অভিযোগ।
এলাকার বাসিন্দা সৌকত শেখ বলেন, “পিএইচই-র নতুন প্রোজেক্টের জন্যই এখানে ভাঙন হচ্ছে। নাহলে এতদিন এখানে ভাঙন হয়নি। অবিলম্বে পিএইচই-র এই প্রোজেক্ট বন্ধ করা হোক অথবা আগে যে বোল্ডার চিপিংয়ের কথা বলা হয়েছিল, সেটা করা হোক। পিএইচই-র প্রোজেক্ট বাতিল না করলে এখানে ভাঙন রোখা যাবে না।
দুপুরে ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে মানিকচক পঞ্চায়েত সমিতির সভাপতি পিংকি মণ্ডল বলেন, আতঙ্কিত মানুষজন নিজেদের ঘর ছাড়তে শুরু করেছে। আপাতত তাদেরকে এলাকার এক স্কুলে ফ্লাড শেল্টারে আশ্রয়ের ব্যবস্থা করে দেওয়া হয়েছে। গোটা ঘটনা নিয়ে আমরা জেলাশাসক, সদর মহকুমা শাসক, বিডিও, স্থানীয় বিধায়কের সঙ্গে আলোচনা চালিয়ে যাচ্ছি। সেচ দফতরও ভাঙন রোধের কাজ শুরু করেছে। আপাতত নদীতে বস্তা ফেলে ভাঙন আটকানোর চেষ্টা চলছে। আমরা মানুষের পাশে সর্বদা রয়েছি।








