মালদা জেলার স্বাধীনতা দিবস ১৮ আগস্ট
গোলাম আহম্মেদ চিশতি
নতুন পয়গাম, মালদা, ১৮ আগস্ট: ১৯৪৭ সালের ১৫ আগস্ট নয়, তার তিন দিন বাদে মালদার আকাশে উড়েছিল স্বাধীন ভারতের জাতীয় পতাকা। রাডক্লিফ কমিশনের সিদ্ধান্তে মালদার ১৬টি থানা চলে গিয়েছিল পূর্ব পাকিস্তানে। ১৩ আগস্ট রাতে তার ঘোষণা করা হয়েছিল। সেই ঘোষণার পর একদিকে হতাশা, অন্যদিকে আশঙ্কায় ভুগছিলেন জেলাবাসী। শেষ পর্যন্ত জেলার কয়েকজন স্বাধীনতা সংগ্রামী এবং বিদ্বজ্জনের প্রচেষ্টায় ১৬টি থানার মধ্যে ১১টিকে ফের ভারতে ফিরিয়ে দেওয়া হয়। ১৭ আগস্ট রাতে সেই ঘোষণা করা হয়। ১৮ আগস্ট মালদার তৎকালীন জেলা প্রশাসনিক ভবনের মাথায় উড়েছিল তিরঙ্গা পতাকা। সেই দিনটিকে স্মরণীয় করে রাখতে প্রতি বছর ১৮ আগস্ট এই জেলায় পালিত হয় মালদার ভারতভুক্তি দিবস।
সোমবার সকালে মালদা শহরে সাড়ম্বরে উদযাপিত হয় এই দিবস। মালদা জেলা গ্রন্থাগারের বইবাগানে জাতীয় পতাকা উত্তোলন করেন গ্রন্থাগার সচিব প্রসেনজিত দাস। এছাড়াও উপস্থিত ছিলেন বঙ্গরত্ন অধ্যাপক শক্তিপদ পাত্র, ইতিহাসবিদ ড. রাধাগবিন্দ ঘোষ-সহ অনেকেই। ফুলবাড়ি পাকুড়তলায় বলাকা সংঘের উদ্যোগেও এদিন মালদা জেলার ভারতভুক্তি দিবস উদযাপিত হয়। জাতীয় পতাকা উত্তোলন করেন ইংরেজবাজার পুরসভার বিরোধী দলনেতা অম্লান ভাদুড়ি।
১৯৪৭ সালের স্মৃতি রোমন্থন করতে গিয়ে ড. রাধাগোবিন্দ ঘোষ বলেন, ১৩ আগস্ট রাতে সরকারিভাবে ঘোষণা করা হয়, রাডক্লিফ বোয়েদারের সীমানা নির্ধারণ অনুযায়ী মালদা জেলার ১৬টি থানাকে পূর্ব পাকিস্তানে অন্তর্ভূক্ত করা হয়েছে। একদিকে হতাশা, অন্যদিকে ক্ষোভে ফেটে পড়েছিল জেলাবাসী। সেই রাতেই তৎকালীন মালদার জেলাশাসক জ্ঞান সিং কলহন পাকিস্তানের সাব ডেপুটি কন্ট্রোলার আবদুল করিমের হাতে জেলার ১৬টি থানার দায়িত্বভার তুলে দেন। ১৪ আগস্ট পশ্চিম ও পূর্ব পাকিস্তানে উড়ল সেদেশের জাতীয় পতাকা। সেদিন মালদা জেলা প্রশাসনিক ভবনে তোলা হয় পাকিস্তানের জাতীয় পতাকা। এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে জেলায় তীব্র অশান্তি শুরু হয়। এহেন পরিস্থিতিতে মালদা জেলাকে ভারতে শামিল করতে তৎপর হন স্বাধীনতা সংগ্রামী ও দেশপ্রেমী সাধারণ মানুষজন। কলকাতা ছুটে যান মনমোহন সাহা, রাধেশচন্দ্র শেঠ, আশুতোষ চৌধুরী প্রমুখ। তাঁদের তৎপরতায় ১৭ আগস্ট এই জেলার ১৬টি থানার মধ্যে ১১টি থানা ভারতের অধীন আসে।
কিন্তু পূর্ব পাকিস্তানে থেকে যায় ভোলাহাট, নাচোল, গোমেস্তাপুর, শিবগঞ্জ আর নবাবগঞ্জ থানা। তবে দুধে খানিকটা চোনা পড়লেও এই সিদ্ধান্ত মেনে নেন সবাই। ১৮ আগস্ট সকালে পাবনার তৎকালীন অতিরিক্ত জেলাশাসক মালদায় এসে প্রশাসনিক ভবনের মাথা থেকে চাঁদ-তারা পতাকা নামিয়ে আনেন। সেই জায়গায় তিরঙ্গা তুলে দেন প্রথম জেলাশাসক অশোক সেন।








