বিদ্যুৎ ও পানি সংকটে উত্তাল মাদাগাস্কার, প্রেসিডেন্ট রাজোয়েলিনা সরকার ভেঙে দিলেন
আন্তর্জাতিক ডেস্ক
নতুন পয়গাম,অ্যান্টানানারিভো
ভারী বৃষ্টির মধ্যে অ্যান্টানানারিভোর রাস্তায় কালো পোশাক পরা যুবক-যুবতীরা চিৎকার করছে: “পানি দাও, বিদ্যুৎ দাও—আমরা আর অন্ধকারে বাঁচব না!” মাদাগাস্কারের রাজধানীতে গত সপ্তাহ থেকে ‘লিও ডেলেস্তাজ’ আন্দোলনের আগুন জ্বলছে, যা শুধু সঙ্গীত নয়, দেশের অবক্ষয়ের প্রতীক হয়ে উঠেছে। দৈনিক ১২ ঘণ্টার লোডশেডিং এবং পানির কল শুকিয়ে যাওয়ায় ক্ষোভের ফল: কমপক্ষে ২২ জন নিহত, ১০০-এর বেশি আহত। জাতিসংঘের তথ্যে এটি নিশ্চিত, যদিও সরকার ‘গুজব’ বলে খারিজ করেছে।
প্রেসিডেন্ট অ্যান্ড্রি রাজোয়েলিনা, যিনি ২০০৯-এর অভ্যুত্থানের মাধ্যমে ক্ষমতায় এসেছিলেন এবং ২০২৩-এ বিতর্কিত নির্বাচনে জয়ী হয়েছেন, সোমবার টেলিভিশনে দেশবাসীকে সম্বোধন করে বলেন, “আমি তোমাদের ক্রোধ বুঝি, দুঃখ অনুভব করি। বিদ্যুৎ ও পানির সমস্যা আমাদের সকলকে কষ্ট দিচ্ছে।” তিনি প্রধানমন্ত্রী ক্রিশ্চিয়ান ন্তসায়সহ পুরো সরকারকে অপসারণ করে দেন, যা একটি বড় ধাক্কা। “যদি সরকারের সদস্যরা দায়িত্ব পালন করতে না পারেন, তাহলে পরিবর্তন আনতে হবে,” তিনি বলেন। নতুন সরকার গঠনের জন্য ইমেইল এবং লিঙ্কডইনের মাধ্যমে আবেদনও খোলা হয়েছে—একটি অভিনব পদক্ষেপ যা যুবকদের কাছে আশার আলো জ্বালাতে পারে।
আন্দোলনের মূলে জিরামা কোম্পানির ব্যর্থতা: দারিদ্র্যের রেখার নিচে ৭৫% মানুষের দেশে, এই সংকট ব্যবসা থেকে শিক্ষা-স্বাস্থ্য পর্যন্ত সবকিছুকে ধ্বংস করছে। প্রতিবাদকারীরা নেপাল ও কেনিয়ার ‘জেন জি’ আন্দোলন থেকে অনুপ্রাণিত, রাজোয়েলিনার পদত্যাগ দাবি করছেন। সোশ্যাল মিডিয়ায় ছড়ানো হচ্ছে ভিডিও: পুলিশের টিয়ার গ্যাসের মধ্যে যুবকরা টিনের পাত্র হাতে চিৎকার করছে, “হলুদ ক্যানে অন্ধকারে বাঁচব না!”
পূর্বে শক্তি মন্ত্রীকে বরখাস্ত করা হয়েছে, কিন্তু তা যথেষ্ট ছিল না। এখন রাজোয়েলিনা যুবকদের সঙ্গে সংলাপের প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন। ব্রিটিশ ও ফরাসি দূতাবাস সতর্কবাণী জারি করেছে: আরও অশান্তি হতে পারে। এই সংকট মাদাগাস্কারের রাজনীতিতে নতুন অধ্যায় লিখছে—ক্ষমতার চূড়ায় বসে থাকা নেতা কি সত্যিই শুনতে শিখবেন, নাকি এটি আরেকটি অস্থায়ী শান্তি? দেশের ভবিষ্যৎ এই উত্তরের উপর নির্ভরশীল।








