অক্সফোর্ডে প্রথম মুসলিম নারী লর্ড মেয়র লুবনা আরশাদ
ইনট্রো: পশ্চিমা বিশ্বের বিভিন্ন দেশে বিভিন্ন সময় কিছু মুসলিম ব্যক্তি গুরুত্বপূর্ণ সরকারি পদ ও প্রশাসনিক দায়িত্ব পালন করে রেকর্ড করেছেন। তাদের সংক্ষিপ্ত জীবনী ও পরিচয় এই বিভাগে তুলে ধরা হবে। আজকের নারী-নক্ষত্র অক্সফোর্ডের প্রাক্তন লর্ড মেয়র লুবনা আরশাদ
নতুন পয়গাম, লন্ডন:
২০২৩ সালের মে মাসের মাঝামাঝি অক্সফোর্ডের নতুন লর্ড মেয়র হন প্রথম কৃষ্ণাঙ্গ এবং মুসলিম মহিলা। অক্সফোর্ড টাউন হলে এক অনুষ্ঠানে লেবার পার্টির কাউন্সিলর লুবনা আরশাদ শপথ গ্রহণ করেন ১৭ মে। তার আগে লর্ড মেয়র ছিলেন জেমস ফ্রাই।
শপথ নিয়ে লুবনা আরশাদ বলেছিলেন, যে শহরে তার জন্ম ও বেড়ে ওঠা, সেখানকার মানুষের সেবা করার সুযোগ পেয়ে আমি খুশি। এখন দায়িত্ব অনেক বেড়ে গেল। এই পদের মেয়াদ এক বছর এবং পদটি সাম্মানিক হলেও শুধুমাত্র নির্বাচিত কাউন্সিলরকেই নিয়াগ করা হয়।
লুবনা বলেন, আমার জন্মস্থানের লর্ড মেয়র হিসেবে দায়িত্ব পালনের সুযোগ পেয়ে আমি গভীরভাবে বিনীত এবং কৃতজ্ঞ। এক বিবৃতিতে অক্সফোর্ড সিটি কাউন্সিল তখন বলেছিল, “লুবনা প্রথম বর্ণাঢ্য নারী, ভিন্ন ভিন্ন পটভূমির প্রথম মুসলিম নারী এবং শহরের প্রতিনিধিত্বকারী সর্বকনিষ্ঠ লর্ড মেয়র হিসেবে ইতিহাস তৈরি করেছেন। তার কৃতিত্ব যুগান্তকারী এবং নেতৃত্বের ভূমিকায় বৈচিত্র্য, অন্তর্ভুক্তি এবং প্রতিনিধিত্বের দিকে উল্লেখযোগ্য অগ্রগতির প্রতিনিধিত্ব করে।
লুবনা আরশাদ ২০১৮ সালে সিটি কাউন্সিলর নির্বাচিত হন। প্রথমে কাউলি মার্শ কাউন্টির প্রতিনিধিত্ব করেন এবং পরে ডিলিমিটেশন বা নির্বাচনী সীমানা পরিবর্তনের কারণে টেম্পল কাউলি ওয়ার্ডের দায়িত্ব পালন করেন। পরবর্তী বছরের জন্য লর্ড মেয়রের দাতব্য সংস্থাগুলি হল হিউম্যানিটি ফার্স্ট, অক্সফোর্ড কমিউনিটি অ্যাকশন এবং অ্যাসাইলাম ওয়েলকাম। ব্রিটেনের
অক্সফোর্ড শহরের প্রথম মুসলিম নারী লর্ড মেয়র লুবনা আরশাদ-এর শপথ গ্রহণ এবং তার বক্তব্য।
লুবনা এও জানান, তিনি এই পদ গ্রহণের আগে প্রায় দুই সপ্তাহ আল্লাহর কাছে দোয়া করতেন এবং আল্লাহর সাহায্য চাইতেন। তাঁর কথায়, সবার জন্য ভালবাসা, কারও জন্য ঘৃণা নয়। অর্থাৎ Love for All, Hatred for None — এই নীতির প্রতি তার দৃঢ় বিশ্বাসের কথা পুনর্ব্যক্ত করেন। লুবনা আরশাদ হলেন অক্সফোর্ডের একজন ব্রিটিশ রাজনীতিবিদ এবং কমিউনিটি অ্যাক্টিভিস্ট, যিনি অক্সফোর্ডের ইতিহাসে প্রথম নারী, প্রথম মুসলিম নারী এবং প্রথম হিজাব-পরিহিত লর্ড মেয়র হয়েছেন। তিনি একজন সমাজকর্মী, মা এবং পাকিস্তানি অভিবাসী এবং ন্যায়বিচার ও ঐক্যের পক্ষে সোচ্চার। গতবছর ১৫ মে তাঁর মেয়াদ শেষ হলে পদত্যাগ করেন।








