দ্বীপাঞ্চলবাসীর দীর্ঘদিনের স্বপ্নপূরণ: আমতায় নির্মীয়মাণ কংক্রিটের সেতুতে বাড়ছে আশার আলো
নতুন পয়গাম, অভিজিৎ হাজরা, হাওড়া: বহু প্রতীক্ষার অবসান ঘটতে চলেছে হাওড়া জেলার দ্বীপাঞ্চলবাসীদের। দীর্ঘদিনের দাবি মেনে মূল ভূখণ্ডের সঙ্গে সংযোগ স্থাপনে কংক্রিটের সেতু নির্মাণের কাজ দ্রুত গতিতে এগোচ্ছে বলে জানিয়েছে প্রশাসন। ইতিমধ্যেই দ্বীপাঞ্চল প্রান্তে সেতুর স্লাব বসানোর কাজ সম্পন্ন হয়েছে, ফলে এলাকাবাসীর মধ্যে নতুন আশার সঞ্চার হয়েছে। স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, এতদিন যোগাযোগের একমাত্র ভরসা ছিল নৌকা। মূল ভূখণ্ডে যেতে দীর্ঘক্ষণ অপেক্ষা করতে হত, বিশেষ করে বর্ষা ও বন্যার সময় দুর্ভোগ চরমে উঠত। এবার সেতু চালু হলে সেই সমস্যা থেকে মুক্তি মিলবে বলে আশা করছেন বাসিন্দারা।
গ্রামীণ এলাকার শেষপ্রান্তে অবস্থিত আমতা বিধানসভা কেন্দ্রের অন্তর্গত ভাটোরা ও ঘোড়াবেড়িয়া-চিৎনান গ্রাম পঞ্চায়েত অঞ্চল তিন দিক থেকে রূপনারায়ণ নদী, মুন্ডেশ্বরী নদী এবং হুড়হুড়িয়া খাল দ্বারা বেষ্টিত। প্রায় ৭০ হাজার মানুষের বসবাস এই এলাকায়। নদীপথে এখান থেকে অল্প সময়ে হুগলি ও পশ্চিম মেদিনীপুর জেলায় পৌঁছানো গেলেও নিজ জেলার মূল ভূখণ্ডে যাতায়াত ছিল অত্যন্ত দুরূহ। স্থানীয়দের দাবি, স্বাধীনতার পর থেকে বিভিন্ন সময়ে কংগ্রেস ও বামফ্রন্ট আমলে একাধিকবার সেতু নির্মাণের আশ্বাস দেওয়া হলেও বাস্তবে কাজ এগোয়নি। বহুবার শিলান্যাস হলেও নির্মাণ শুরু হয়নি বলে অভিযোগ।
পরিবর্তন আসে ২০১১ সালে তৃণমূল কংগ্রেস রাজ্যে ক্ষমতায় আসার পর। মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় আমতায় এক সভা থেকে সেতু নির্মাণের প্রতিশ্রুতি দেন। ২০১৮ সালে জেলা প্রশাসনিক বৈঠকে তিনি বিষয়টি নিয়ে রিপোর্ট দিতে নির্দেশ দেন সেচ দফতর-কে। সেই রিপোর্টের ভিত্তিতে ২০২১ সালের ফেব্রুয়ারিতে প্রকল্প অনুমোদন পায়। প্রকল্প অনুযায়ী সেতুটির দৈর্ঘ্য ১৭৮ মিটার ও প্রস্থ ১২ মিটার। ভাটোরার দিকে ২৩০ মিটার এবং কুলিয়ার দিকে ২২৫ মিটার অ্যাপ্রোচ রোড নির্মাণ করা হচ্ছে। সেতু ও সংযোগপথ মিলিয়ে মোট ব্যয় ধরা হয়েছে প্রায় ৩৫ কোটি টাকা। প্রায় এক বছর আগে নির্মাণকাজের সূচনা করেন রাজ্যের মন্ত্রী পুলক রায়।
এ প্রসঙ্গে এলাকার বিধায়ক সুকান্ত পাল বলেন, “মুখ্যমন্ত্রী দ্বীপাঞ্চলবাসীদের যে প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন, তার বাস্তব রূপ এখন চোখে পড়ছে। সেতু চালু হলে যোগাযোগ ব্যবস্থায় আমূল পরিবর্তন আসবে।” স্থানীয় বাসিন্দাদের কথায়, কাজের গতি দেখে মনে হচ্ছে আর বেশি দিন অপেক্ষা করতে হবে না। সেতু চালু হলে শিক্ষা, স্বাস্থ্য, বাজারসহ দৈনন্দিন জীবনের সব ক্ষেত্রেই সুবিধা বাড়বে—এমনটাই প্রত্যাশা দ্বীপাঞ্চলবাসীর।








