লালগোলার নদী ভাঙন: গৃহহীন বহু পরিবার পদ্মাগর্ভে তলিয়ে গেল বিএসএফ-এর রাস্তা
নিজস্ব প্রতিবেদক, নতুন পয়গাম, লালগোলাঃ দেশের ৭৯-তম স্বাধীনতা দিবসের রৌদ্রকরোজ্জ্বল সকাল। ডলি বিবি, আসিয়া বিবিরা কি জানত যে, আজকেই তাদের পায়ের নিচের মাটি পদ্মাগর্ভে হারিয়ে যাবে! এভাবে তাদেরকে পথে বসতে হবে!
জুম্মার নামায শেষে মুসল্লিরা সবে ঘরে ফিরেছেন। রান্নার কাজ শেষ করে মেয়েরাও পরিবার-পরিজন নিয়ে দুপুরের খাবার জন্য তৈরি হচ্ছে। এমন সময় হঠাৎ করে আবার তারানগরে শুরু হল নদী ভাঙন। পাশের বিএসএফ জওয়ানদের চলাচলের একমাত্র রাস্তা-সহ বেশ কিছু বাড়ি নিমেষে নদীর গ্রাসে চলে গেল। গ্রামবাসীদের তৎপরতায় তাৎক্ষণিকভাবে গৃহসামগ্রী ঘর থেকে বের করলেও এখন তারা যাবে কোথায় — সে কথা ভেবে অনেকেই কান্নায় ভেঙে পড়লেন। গত এক বছর ধরে অনেক লড়াই করে মাটি কামড়ে থাকলেও আজ আর সে পথ রইল না সেতাবুর, খুদুদের।
গ্রামের সঙ্গে লালগোলা-জঙ্গীপুর রাজ্য সড়কের যোগাযোগের একমাত্র রাস্তাটি আজ পুরোপুরি বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়ায় এলাকাবাসীর জীবনযাত্রা থেকে শুরু করে ছাত্র-ছাত্রীদের স্কুল যাতায়াত, এমনকি সীমান্তরক্ষী বাহিনী তথা বিএসএফ-এর কাজকর্মও ক্ষতির মুখে। উল্লেখ্য, গত বছর ভাঙনে তারানগর গ্রামের বিশাল এলাকা পদ্মা গর্ভে তলিয়ে যায়। সেই সঙ্গে বেশ কিছু ঘরবাড়িও নদীতে বিলীন হয়ে যায়। গত বছর ভয়াবহ ভাঙনে একজন সিভিক ভলান্টিয়ার নদীতে তলিয়ে যান।
শুকনো মরশুমে কাজ না করে নদীর জলস্তর বৃদ্ধির পর মাসখানেক আগে লালগোলার বিধায়ক মোহাম্মদ আলী ৭ কোটি ৫২ লক্ষ টাকার নদী ভাঙন প্রকল্প উদ্বোধন করে গেছেন। কিছু বালির বস্তা ফেলা ছাড়া এখন পর্যন্ত বড় কোন পদক্ষেপ না নেওয়ায় গ্রামবাসীরা ক্ষুব্ধ। এদিকে আজকের ঘটনায় লালগোলা পুলিশ প্রশাসন, বিডিও দেবাশীষ মন্ডল এসব এলাকা পরিদর্শন করে গ্রামবাসীদের সরে যেতে বললেও তাদের পুনর্বাসনের ব্যাপারে কোনো ব্যবস্থা নিতে পারেননি। শেষ খবর পাওয়া পর্যন্ত কিছু বিপন্ন পরিবার তারানগর প্রাইমারি স্কুলে ঠাঁই নিয়েছেন। তবে সেখানে অনেকগুলো পরিবারের একসঙ্গে থাকার মতো জায়গার অভাব ও অপ্রতুল পরিকাঠামোর কারণে অনেকেই সেখানে যেতে নারাজ। এই মূহুর্তে বিপন্ন তারানগরবাসী দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ করতে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের তৎপরতা আশা করছে।








