হিংসা, ওয়াংচুককে দায়ী করল কেন্দ্রীয় সরকার,
অগ্নিগর্ভ পরিস্থিতি, লেহ-তে জারি কার্ফু
নতুন পয়গাম লাদাখ, ২৪ সেপ্টেম্বর:
লাদাখে পৃথক রাজ্যের মর্যাদা দাবিতে শুরু হওয়া বিক্ষোভে সহিংসতার ঘটনা ঘটেছে। নিরাপত্তাকর্মী ও বিক্ষোভকারীদের সংঘর্ষে এখন পর্যন্ত চারজনের মৃত্যু হয়েছে এবং প্রায় ৭০ জন জখম হয়েছেন। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে লেহ-এ জরুরি ভিত্তিতে কার্ফু জারি করা হয়েছে। কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রক জানিয়েছে, লেহ-এ ঘটে যাওয়া হিংসার জন্য দায়ী এই আন্দোলনের নেতা সোনম ওয়াংচুকের ‘উস্কানিমূলক মন্তব্য’।
সরকারের বরাত দিয়ে বলা হয়েছে, ওয়াংচুকের অনশন এবং উসকানি বক্তৃতা বিক্ষোভকারীদের উত্তেজিত করেছে। এতে সরকারি অফিসে হামলা, অগ্নিসংযোগ ও সরকারি সম্পত্তি ভাঙচুরের ঘটনা ঘটেছে। পুলিশ ও সিআরপিএফের অন্তত ৩০ কর্মী আহত হয়েছেন। কেন্দ্রের বিবৃতিতে বলা হয়েছে, “২৪ সেপ্টেম্বর সকাল সাড়ে ১১টার দিকে ওয়াংচুক অনশন মঞ্চ ত্যাগ করে উস্কানিমূলক বক্তৃতা দেন। সেই পরেই বিক্ষোভকারীরা রাজনৈতিক দলের কার্যালয় এবং লেহের সিইসি অফিসে হামলা চালায়।”
লাদাখকে সংবিধানের ষষ্ঠ তফসিলের আওতায় পূর্ণ রাজ্যের মর্যাদা দেওয়ার দাবি নিয়ে লেহে আন্দোলন শুরু হয়েছে। অভিযোগ, বিক্ষোভ চলাকালীন বিজেপির পার্টি অফিসে ভাঙচুর এবং পুলিশের গাড়িতে আগুন লাগানো হয়। পাল্টা পদক্ষেপ হিসেবে পুলিশ লাঠিচার্জ এবং কাঁদানে গ্যাসের শেল ব্যবহার করে বিক্ষোভকারীদের ছত্রভঙ্গ করে।
ওয়াংচুক বিক্ষোভকারীদের শান্ত থাকার আহ্বান জানান। তিনি বলেন, “এটি দীর্ঘদিন ধরে জমে থাকা ক্ষোভের বহিঃপ্রকাশ।” তবে তিনি স্পষ্টভাবে জানিয়েছেন, তিনি কোনো হিংসাত্মক আন্দোলনকে সমর্থন করেন না। কিন্তু কেন্দ্র দাবি করছে, ওয়াংচুক হিংসার সময় অনশন ভেঙে অ্যাম্বুল্যান্সে চড়ে গ্রামে চলে যান এবং পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনার চেষ্টা করেননি।
লাদাখের পৃথক রাজ্যের স্বীকৃতির দাবিতে লেহ অ্যাপেক্স বডি (LAB) বহুদিন ধরে আন্দোলন চালাচ্ছিল। গত ১০ সেপ্টেম্বর থেকে অনশনে বসেছিলেন সংগঠনের দুই সদস্য। মঙ্গলবার তাঁদের শারীরিক অবস্থা খারাপ হওয়ায় হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। এরপর ক্ষুব্ধ হয়ে ওঠে LAB-এর অন্যান্য সদস্যরা। কেন্দ্র এবং প্রশাসন তাদের দাবি পূরণে ব্যর্থ হওয়ায় বুধবার পুরো এলাকা অশান্তিতে পরিণত হয়।
এদিকে, লাদাখের প্রতিনিধি দলের সঙ্গে কেন্দ্রীয় সরকারের বৈঠক আগামী ৬ অক্টোবর অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে। এই বৈঠক লাদাখে শান্তি প্রতিষ্ঠা এবং আন্দোলনকারীদের দাবি সম্পর্কিত সমাধান নিয়ে গুরুত্বপূর্ণ হতে চলেছে।








