গাজা নিয়ে গর্জে উঠল কলকাতা
নতুন পয়গাম, কলকাতা, ১৮ সেপ্টেম্বর:
অবিলম্বে গাজা উপত্যকায় স্থায়ী যুদ্ধবিরতি কার্যকর করতে হবে, ইসরাইলকে গণহত্যা বন্ধ করতে হবে। সর্বোপরি মধ্যপ্রাচ্যে শান্তি ফেরাতে রাষ্ট্রসংঘ এবং আন্তর্জাতিক মহলে ভারত সরকারকে সাধ্যমতো কূটনৈতিক প্রয়াস চালাতে হবে। উল্লেখ্য, কয়েকদিন আগে রাষ্ট্রসংঘে ফিলিস্তিনের স্বাধীনতা প্রসঙ্গে আনা প্রস্তাবের পক্ষে ভোট দিয়ে সদিচ্ছা দেখিয়েছে ভারত। সেই ভরসাতেই বৃহস্পতিবার মজলুম ফিলিস্তিনিদের প্রতি সংহতি ও সহমর্মিতা জানিয়ে যুদ্ধবাজ ইসরাইলের পাশবিকতার বিরুদ্ধে গর্জে উঠল কলকাতার সুশীল সমাজের প্রতিনিধিরা। ‘ফ্রেন্ডস অব প্যালেস্টাইন’ এর আহ্বানে ডাকা এদিনের প্রতিবাদী সমাবেশ হয় ধর্মতলা সংলগ্ন নিউ মার্কেটের পাশে। এতে বিভিন্ন সংগঠনের তরফে প্রচুর লোকজন সমবেত হন। অনেক জেলা থেকে বাস বোঝাই করে নারী, শিশু, যুবকরা মিছিল করে দলে দলে হাজির হন।
বক্তব্য রাখেন জামাআতে ইসলামী হিন্দের সর্বভারতীয় সহ-সভাপতি মালিক মোতাসিম খান, রাজ্য সভাপতি ডা. মসিহুর রহমান, প্রাক্তন রাজ্য সভাপতি মুহাম্মদ নূরুদ্দীন শাহ, মুসলিম পার্সোনাল ল বোর্ডের সদস্য মুহাম্মদ কামরুজ্জামান, ছাত্র সংগঠন এসআইও-র রাজ্য সভাপতি ইমরান হোসেন, সলিডারিটি মুভমেন্টের রাজ্য সভাপতি আরিফুল রহমান, বন্দি মুক্তি কমিটির ছোটন দাস, ঐকতান মিল্লি ইত্তেহাদ পরিষদের আমিনুল আম্বিয়া, হাসিবুর রহমান, মুফতি খালিদ আযম হায়দারি, সওবান সিদ্দীকি, আশরাফ আলি কাশেমি, আব্দুর রউফ প্রমুখ।
এদিনের সমাবেশে তাঁরা বলেন, ইসরাইল একটা কট্টর বিদ্বেষী, বর্ণবাদী ও সন্ত্রাসবাদী অবৈধ রাষ্ট্র। তারা সমস্ত রকমের আন্তর্জাতিক আইন ও সনদ লংঘন করে হামাসকে অজুহাত করে নিরীহ ও নিরস্ত্র গাজাবাসীকে নির্বিচারে হত্যা করে চলেছে। সরকারি হিসেবে এ পর্যন্ত নিহতের সংখ্যা ৬৫ হাজার হলেও বছর দেড়েক আগে ল্যানসেট জার্নাল তাদের ক্ষেত্রসমীক্ষা রিপোর্টে দাবি করেছিল, নিহতের সংখ্যা অন্তত ১ লক্ষ ৮৬ হাজার। দীর্ঘ প্রায় দু-বছর হতে চলল, গাজা উপত্যকায় চলমান নৃশংসতা, বর্বরতা, পাশবিকতা লাগাতার চালিয়ে যাচ্ছে ইসরাইল। রাষ্ট্রসংঘ, নিরাপত্তা পরিষদ, আন্তর্জাতিক আদালত – কাউকেই তোয়াক্কা করছে না। বিশ্ব জনমতকে পদদলিত করে টানা ২২ মাস ধরে লাগাতার ধ্বংসযজ্ঞ ও গণহত্যা চালিয়ে যাচ্ছে। প্রাণে বাঁচতে গাজা ছেড়ে পালিয়ে গিয়েছে কয়েক লক্ষ মানুষ। প্রতিদিন কোথাও না কোথাও বোমা ফেলছে, ট্যাঙ্ক, কামান থেকে হামলা করছে ইসরইলি সেনারা। গাজার মাটি রক্তে ভিজে গেছে। এক ইঞ্চি জায়গা নেই, যেখানে ইসরাইলের হামলা হয়নি বা গাজাবাসীর রক্তের ফোঁটা পড়েনি। অগণিত মানুষ ঘরবাড়ি হারিয়ে, মাথার ওপর ছাদ খুইয়ে ত্রাণ শিবিরে মাথা গোঁজার ঠাঁই নিয়ে কোনক্রমে বেঁচে বর্তে দিন গুজরান করছে। খেতে না পেয়ে ত্রাণের লাইনে থালা-বাটি নিয়ে দাঁড়িয়ে ডাল-ভাত খিচুড়ি পাওয়ার আগেই ইসরাইলি বোমায় প্রাণ হারাচ্ছে।
কঙ্কালসার চেহারা নিয়ে বিশ্ববাসীর মুখের দিকে তাকিয়ে বোবার মতো দাঁড়িয়ে আছে উপত্যকা। স্বামী-স্ত্রী, সন্তান ও পরিজনহারা মানুষের কান্নার আওয়াজ আর আর্তনাদ-আহাজারিতে ভারী হয়ে গেছে আকাশ। ইসরাইলের এই পাশবিক উল্লাস দেখেও নীরব দর্শকের ভূমিকা নিয়েছে আন্তর্জাতিক মহল। তাদের চোখে ইসরাইলের মানবাধিকার লংঘন ধরা পড়ছে না। দুঃখ প্রকাশ, ক্ষোভ প্রকাশ করে বিবৃতি দেওয়া ছাড়া কাজের কাজ কেউ কিছুই করেনি। এমতাবস্থায় ইসরাইলের সঙ্গে কূটনৈতিক ও বাণিজ্যিক সম্পর্ক ছিন্ন করতে, ইসরাইলি পণ্য বয়কট করতে এবং আন্তর্জাতিক মহলে চাপ বাড়াতে এদিন বক্তারা ক্ষোভ উগরে দেন। এছাড়াও গাজা সীমান্তে দাঁড়িয়ে থাকা ত্রাণবাহী ট্রাককে ঢুকতে দিতে হবে, গাজায় পানি খাদ্য বিদ্যুৎ ওষুধ সরবরাহের জন্য অবরোধ তুলে নিতে হবে… ইত্যাদি দাবি-দাওয়া তুলে ধরেন ফ্রেন্ডস অব প্যালেস্টাইন-এর সমাবেশে উপস্থিত বিশিষ্টজনেরা।








