বন্যার জন্য শাসক দলকে শাসানী শমীকের
দুর্যোগ নিয়ে বিজেপি রাজনীতি করছে পাল্টা তীর ছুড়ল শাসক দল
নতুন পয়গাম,কোলকাতা, ২৪ সেপ্টেম্বরঃ
কলকাতার প্রাকৃতিক দুর্যোগে শহরবাসীর ভোগান্তি নিয়ে রাজনীতি চরমে পৌঁছেছে। সোমবার থেকে শহরে ভারী বৃষ্টি ও জলাবদ্ধতার কারণে বহু এলাকা নিমজ্জিত। এই পরিস্থিতিতে রাজ্য সরকারের সমালোচনা করেছেন বিজেপি রাজ্য সভাপতি শমীক ভট্টাচার্য। তিনি বুধবার সোশ্যাল মিডিয়ায় লিখেছেন, “আমাদের কর্মীবন্ধুরা মানুষের পাশে থেকে এই জলযন্ত্রণা ও দুর্দশার সময়ে সাহায্যের হাত বাড়িয়ে দিন — কলকাতার নাগরিকদের ভরসা দিন।”
শমীকের আহ্বান শুধু সাধারণ মানুষের পাশে দাঁড়ানোর বার্তা নয়, তৃণমূলের নগর পরিচালনায় অব্যবস্থা প্রদর্শনের খোঁচাও বটে। তিনি বলেছেন, “সোমবার রাতভর বৃষ্টিতে গোটা কলকাতার বহু এলাকা জলমগ্ন হয়েছে। পুজোর মরসুমে শহরবাসী চরম দুর্ভোগে রয়েছেন। এটাই প্রমাণ করে, শাসকদলের শহর পরিচালনায় কতখানি উদাসীনতা রয়েছে।”
প্রাকৃতিক বিপর্যয়কে কেন্দ্র করে রাজনৈতিক উত্তেজনা তীব্র। তৃণমূলের পক্ষ থেকে প্রচার চালানো হয়েছে যে, বিরোধীরা সোশ্যাল মিডিয়ায় ঝড় তুললেও শহরের মানুষের পাশে দাঁড়িয়েছে শাসকদলের নেতা–কর্মীরা। মেয়র ফিরহাদ হাকিমসহ অন্যান্য তৃণমূল নেতার জমা জলে দাঁড়িয়ে থাকা ছবিগুলো সোশ্যাল মিডিয়ায় ছড়িয়ে পড়েছে। তবে একইভাবে বিপরীত দলে কোনো ছবি প্রকাশিত হয়নি।
রাজনৈতিক মহল মনে করছে, শমীকের আহ্বান যথেষ্ট তাৎপর্যপূর্ণ। এক তৃণমূল নেতা বলেছেন, “বিজেপি রাজ্য সভাপতিকে ফেসবুকে কর্মীদের পথে নামার আহ্বান জানাতে হচ্ছে। তা–ও শহরের জল পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে চলে আসার পরে।” যদিও বিজেপি দাবি করছে, দায়িত্ব রাজ্য সরকারের, কারণ পরিকাঠামোর দায়িত্ব সরকারের। কেন্দ্রীয় প্রতিমন্ত্রী সুকান্ত মজুমদার বলেছেন, “জল জমতেই পারে। কিন্তু তড়িঘড়ি হয়ে এত প্রাণ কেন যাবে! গাফিলতি রাজ্য সরকারের, বিরোধীদের নয়।”
শহরের জলাবদ্ধতার মধ্যে সাধারণ মানুষকে শুধু সরকারের সমালোচনা নয়, তাদের পাশে দাঁড়ানোর দিকও তুলে ধরার উদ্যোগ নিয়েছেন শমীক। তিনি চাইছেন, দলের কর্মীবন্ধুরা সরাসরি মানুষের পাশে এসে সহায়তা পৌঁছে দিক।
তৃণমূলের রাজ্য সহ–সভাপতি জয়প্রকাশ মজুমদার এই উদ্যোগকে খোঁচা দিয়ে মন্তব্য করেছেন, “চল্লিশ বছরের মধ্যে রেকর্ড পরিমাণ বৃষ্টি হয়েছে। প্রকৃতির উপর মানুষের জোর খাটে না। কিন্তু মানুষের পাশে থেকেছে তৃণমূলের সর্বস্তরের নেতা–কর্মীরা। দুর্যোগের দিন বিজেপি ব্যস্ত ছিল সোশ্যাল মিডিয়ায়, রাস্তায় নেমে মানুষের পাশে দাঁড়ানোর কথা তাদের মনে হয়নি। জল নেমে যাওয়ার পরে ঘুম ভেঙেছে।”
শহরের জলাবদ্ধতা ও রাজনৈতিক টানাপোড়েনের এই পরিস্থিতি প্রমাণ করছে, দুর্গম পরিস্থিতিতেও রাজনীতির ছাপ স্পষ্ট। একদিকে সরকারকে দায়ী করা হচ্ছে, অন্যদিকে রাজনৈতিক প্রতিদ্বন্দ্বিতা ও জনসেবার ছবি সোশ্যাল মিডিয়ার মাধ্যমে জনগণের নজরে আসছে।








