খণ্ডঘোষের বিপ্লবী কাজী তোজম্মল হোসেন স্মরণে অনুষ্ঠান
নিজস্ব প্রতিনিধি, নতুন পয়গাম, পূর্ব বর্ধমান: পূর্ব বর্ধমান জেলার খণ্ডঘোষ ব্লকের অন্তর্গত খাঁটিকার গ্রামে বিপ্লবী কাজী তোজম্মল হোসেনের উত্তরসূরীর বাসভবনে অনুষ্ঠিত হল ৭৯তম স্বাধীনতা দিবস। স্বদেশপ্রীতি, ঐক্য ও সম্প্রীতির গৌরবকে অক্ষুন্ন রাখতে এ দিন আয়োজিত হয় সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান। এতে অংশগ্রহণ করেন কাজী নজরুল ইসলাম বিদ্যাপীঠ এর শিক্ষক মনঞ্জয় কিস্কু, শিক্ষিকা চেতনা ভট্টাচার্য, সাহিনা সবনম ও স্কুলের ছাত্র-ছাত্রীরা। অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন কাজী মোসাব্বর হোসেন, তাপসী রায়, কাজী আনিশ মহম্মদ, তাজ মহম্মদ, কাজী আফরিন ইয়াসমিন, কবি-গল্পকার ও প্রাবন্ধিক কাজী জুলফিকার আলী প্রমুখ। সকাল ৯টায় পতাকা উত্তোলনের পর জাতীয় সংগীতের মধ্য দিয়ে অনুষ্ঠান শুরু হয়। শিশু শিল্পীদের নাচ, গান, আবৃত্তি পরিবেশন ও অতিথিদের বক্তব্য জাতি, ধর্ম, বর্ণ নির্বিশেষে সকলকে অনুপ্রাণিত করে।
১৯৪২ এর আন্দোলনে সক্রিয়ভাবে অংশগ্রহণকারী মহান বিপ্লবী কাজী তোজম্মল হোসেনের কর্মময় জীবনের উপর গবেষণা চলছে। ‘রত্নগর্ভা দক্ষিণ দামোদরের মাটি বিপ্লবীদের ঘাঁটি’ — বাংলার এই প্রবাদের অনন্য উদাহরণ কাজী তোজম্মল হোসেন। বিপ্লবী বটুকেশ্বর দত্তের সাথে একযোগে তাঁর কর্মকাণ্ড উজ্জ্বল। ১৯৪২-এ ‘ভারত ছাড়ো’ আন্দোলনের সাথেও নিবিড়ভাবে জড়িত ছিলেন এই স্বাধীনতা সংগ্রামী। খণ্ডঘোষ ব্লকের বোয়াইচণ্ডিতে তৎকালীন বিডিআর রেলপথকে উপড়ে ফেলে ব্রিটিশদের নজরে পড়েন। পরবর্তীকালে উখরিদের গড় শাখারী মোড়ে ব্রিটিশ বিরোধী আন্দোলনে নেতৃত্ব দেওয়ায় বেত্রাঘাতে গুরুতর আহত হয়ে আত্মগোপন করেন। তৎকালীন বঙ্গে প্রচলিত জনসেবার অঙ্গীকারপত্রে তিনি তার পরবর্তী জীবন দেশসেবায় উৎসর্গ করার অঙ্গীকার করেন।
পাশাপাশি তিনি সাহিত্য-প্রিয় মানুষ ছিলেন। কবিতা লিখতেন। বছর দুয়েক আগে নির্মিত হয় এই বিপ্লবীর স্মৃতির উদ্দেশ্যে এক সংগ্রহশালা। এখানে আছে দেশ-বিদেশের ঐতিহাসিক নিদর্শন। সরকারিভাবে প্রমাণপত্র থাকা সত্ত্বেও এখনও এই বিপ্লবীর জন্মভিটে স্বীকৃতি পায়নি। পূর্ব বর্ধমান জেলার খণ্ডঘোষ ব্লকের দায়িত্বপ্রাপ্ত প্রশাসনকে এ বিষয়ে দৃষ্টি দেওয়া প্রয়োজন বলে মনে করেন প্রয়াত স্বাধীনতা সংগ্রামী ও বিপ্লবী কাজী তোজম্মল হোসেন শৃঙ্খলা কমিটির সম্পাদক কাজী ফজলে বারি। অনুষ্ঠান সঞ্চালনা করেন সেখ মাসুদ করিম।








