কাকদ্বীপের স্কুল শিক্ষক নিগ্রহে গ্রেফতার অভিযুক্ত ত্রিদিব বারুই
নিজস্ব সংবাদদাতা, নতুন পয়গাম, কাকদ্বীপ:
দক্ষিণ ২৪ পরগনার কাকদ্বীপে শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের ভেতরে ঘটে গেল এক নজিরবিহীন ঘটনা। বীরেন্দ্র বিদ্যানিকেতন স্কুলে বিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক মিলনকান্তি পালকে প্রকাশ্য দিবালোকে শিক্ষার্থীদের সামনেই মারধর ও অপমান করার অভিযোগ উঠেছে স্থানীয় তৃণমূল কংগ্রেসের পঞ্চায়েত সদস্য তথা স্কুলের ম্যানেজিং কমিটির সভাপতি ত্রিদিব বারুইয়ের বিরুদ্ধে। এই ঘটনার ভিডিও মুহূর্তে ভাইরাল হতেই উত্তাল হয়ে উঠেছে রাজ্য রাজনীতি।
ভাইরাল হওয়া ভিডিওয় স্পষ্ট দেখা যাচ্ছে, অভিযুক্ত নেতা ঘাড় ধরে টেনে হিঁচড়ে অফিস কক্ষ থেকে প্রধান শিক্ষককে বাইরে বের করে দিচ্ছেন। শিক্ষার্থীদের সামনেই এই মারমুখী দৃশ্য সকলকে স্তম্ভিত করেছে।
প্রসঙ্গত উল্লেখ্য, শিক্ষণমূলক ভ্রমণের জন্য ছাত্রদের কাছ থেকে টাকা তোলাকে কেন্দ্র করে এই সংঘাতের সূত্রপাত। অভিযোগ, মঙ্গলবার ত্রিদিব বারুই প্রধান শিক্ষককে একটি লিখিত স্বীকারোক্তিতে সই করতে চাপ দেন, যেখানে লেখা ছিল—“ম্যানেজিং কমিটির অনুমতি ছাড়া টাকা তোলা হয়েছে।” শিক্ষক সই করতে অস্বীকার করলে শুরু হয় ধস্তাধস্তি। মিলনকান্তি পাল দাবি করেছেন, তাঁকে ঘাড় ধরে টেনে বাইরে আনা হয় এবং প্রকাশ্যে হেনস্তা করা হয়। পরে তাঁকে কাকদ্বীপ সুপার স্পেশালিটি হাসপাতালে ভর্তি করা হয়।
অন্যদিকে, ত্রিদিব বারুই অভিযোগ উড়িয়ে দিয়ে বলেছেন—“প্রধান শিক্ষকই প্রথমে আমাকে ধাক্কা দেন, আমি শুধু আত্মরক্ষার চেষ্টা করেছি।”তাঁর বক্তব্য, টাকা তোলা হয়েছিল কমিটির অনুমতি ছাড়াই, আর সেই কারণেই তিনি রসিদ দেখতে চেয়েছিলেন।
অভিযোগ উঠেছে, অফিস কক্ষের ভেতরের সিসিটিভি ফুটেজ মুছে ফেলা হয়েছে। ফলে আসল ঘটনার পূর্ণ চিত্র গোপন করার চেষ্টা চলছে কি না, তা নিয়েও জল্পনা বাড়ছে। প্রসঙ্গত, এর আগের এক সিসিটিভি ফুটেজে ওই তৃণমূল নেতাকে স্কুলে প্রভাব খাটাতে দেখা গিয়েছিল বলেও অভিযোগ।
এই ঘটনায় তীব্র প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারী। তাঁর বক্তব্য, “এটি শিক্ষা ক্ষেত্রে তৃণমূলের সন্ত্রাসের প্রমাণ।”রাজ্য বিজেপি সভাপতি শমীক ভট্টাচার্যও ক্ষোভ উগরে দিয়ে বলেছেন, “শিক্ষককে মারধর মানে গোটা শিক্ষা ব্যবস্থাকে অপমান।”
অন্যদিকে, শিক্ষামন্ত্রী ব্রাত্য বসু জানিয়েছেন, “বিষয়টি গুরুত্ব দিয়ে দেখা হচ্ছে।” কাকদ্বীপের তৃণমূল বিধায়ক মন্টুরাম পাখিরা স্পষ্ট ভাষায় হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেছেন— “অভিযোগ প্রমাণিত হলে অভিযুক্তের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে। একই সঙ্গে প্রধান শিক্ষকের ভূমিকাও খতিয়ে দেখা হবে।”
ঘটনার জেরে ইতিমধ্যেই পুলিশ অভিযুক্ত ত্রিদিব বারুইকে গ্রেপ্তার করেছে বলে জানা গেছে। ভাইরাল ভিডিওর সত্যতা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। পাশাপাশি শিক্ষা দপ্তর থেকেও আলাদা তদন্ত শুরু হতে পারে বলে সূত্রের খবর।








