সোনালী খাতুনকে ২ লক্ষ টাকার আর্থিক সহায়তা দিলেন কাজল শেখ
নতুন পয়গাম, বীরভূমঃ
দীর্ঘ লড়াই, দুঃসহ অপেক্ষা ও অনিশ্চয়তার দিনগুলো পেরিয়ে অবশেষে নিজের মাতৃভূমিতে ফিরতে পেরেছেন বীরভূমের কন্যা সোনালী খাতুন। বীরভূমের পাইকর এলাকার বাসিন্দা সোনালির জীবনে এই প্রত্যাবর্তন যেন এক নতুন আশার সূর্যোদয়। কয়েক মাস আগে কাজের সূত্রে দিল্লি গিয়েছিলেন তিনি। সেখানে মোট ছ’জনকে বাংলাদেশি সন্দেহে দিল্লি পুলিশ ভুলবশত আটক করে সীমান্ত দিয়ে বাংলাদেশে পুশব্যাক করে দেয়। সেই থেকেই শুরু হয় সোনালির জীবনের সবচেয়ে কঠিন অধ্যায়।
অবশেষে রাজ্য সরকারের তৎপরতায় ও প্রশাসনের সহযোগিতায় নিজের দেশে ফিরে আসতে সক্ষম হন সোনালী খাতুন ও তাঁর ছোট পুত্র সন্তান। দেশে ফিরে আসার পর শরীর বেশ দুর্বল ছিল সোনালির। তাছাড়া তিনি অন্তঃসত্তা হওয়ায় রামপুরহাট মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতালে তাঁকে পর্যবেক্ষণে ভর্তি রাখা হয়েছে। পুরোপুরি সুস্থ হয়ে উঠলে প্রশাসনের পক্ষ থেকেই তাঁকে নিজের বাড়ি পাইকরে পৌঁছে দেওয়া হবে। বর্তমানে চিকিৎসকদের বিশেষ নজরদারিতে রয়েছেন তিনি।
সোনালির খবর পেয়ে রামপুরহাট মেডিকেল কলেজে তাঁকে দেখতে আসেন বীরভূম জেলা পরিষদের সভাধিপতি কাজল শেখ। সঙ্গে ছিলেন তৃণমূল নেতা নরেশ বাউরী, সিরাজুল ইসলাম সহ আরো বহু তৃণমূল কর্মী। সোনালির প্রতি মানবিক হাত বাড়িয়ে দেন কাজল শেখ। তাঁর ব্যক্তিগত ওয়েলফেয়ার সোসাইটি ‘শহীদ সাজু মেমোরিয়াল ওয়েলফেয়ার সোসাইটি’র পক্ষ থেকে সোনালী খাতুনকে ২ লক্ষ টাকা আর্থিক সহায়তা প্রদান করেন তিনি।
এদিকে, সোনালির সঙ্গে আটক হওয়া দলের আরও চারজন এখনও বাংলাদেশে রয়েছেন। তাঁদের ফেরানোর প্রক্রিয়াও তৎপরতার সঙ্গে চলছে বলে প্রশাসন সূত্রে জানা গেছে। খুব শিগগিরই তারাও দেশের মাটিতে পা রাখতে পারবেন বলে প্রত্যাশা।
সোনালী খাতুনের দেশে ফেরা শুধু এক ব্যক্তির গল্প নয় – এ এক সংগ্রাম, আশা ও মানবিকতার গল্প। নিজের মাটি, নিজের মানুষের কাছে ফিরে আসার আনন্দ চোখে-মুখে ফুটে উঠেছে তাঁর। আর প্রশাসনের সহযোগিতা ও সমাজের পাশে দাঁড়ানো মানুষদের জন্যই নতুন করে শুরু করার পথ তৈরি হয়েছে তাঁর জীবনে।








