একঘরে ইসরাইল, ফিলিস্তিনকে স্বীকৃতি ১৬০ দেশের
কার্যত হলুদ কার্ড দেখলেন নেতানিয়াহু
নতুন পয়গাম, নিউ ইয়র্ক, ২৪ সেপ্টেম্বর:
ফিলিস্তিনকে স্বাধীন ও সার্বভৌম রাষ্ট্র হিসেবে স্বীকৃতি প্রদান এবং জেরুজালেমের পবিত্র মসজিদুল আকসা অঞ্চলকে অগ্রাধিকার দিয়ে দ্বি-রাষ্ট্র সমাধানের পক্ষে অধিকাংশ দেশ সওয়াল করেছে রাষ্ট্রসংঘে।
এই লক্ষ্যে মূলত ফ্রান্স এবং সৌদি আরবের উদ্যোগে নিউ ইয়র্কে আয়োজিত সম্মেলনের শেষে অন্যান্য দেশগুলোর মতামত সাপেক্ষে ইসরাইলের উদ্দেশে ‘রেড লাইন’ ঘোষণা করেছে দুই আয়োজক দেশ। এই ‘রেড লাইন’ হল পশ্চিম তীরে ইসরাইলের সম্প্রসারণ কার্যক্রম বন্ধ করতে হবে। সম্মেলন শেষে যৌথ ঘোষণাপত্রে বলা হয়েছে, “ইসরাইলকে অবিলম্বে গাজায় সামরিক অভিযান বন্ধ করতে হবে এবং পাশাপাশি বন্দি ইসরাইলী জিম্মিদের মুক্তি নিশ্চিত করতে হবে।”
পাশাপাশি গাজায় স্থায়ী যুদ্ধবিরতি ঘোষণা করতে হবে, ইসরাইলের কারাগারে বন্দি ফিলিস্তিনিদের মুক্তি দিতে হবে এবং গাজা ছাড়াও পশ্চিম তীরে ক্ষমতাসীন ফিলিস্তিনি কর্তৃপক্ষের নেতৃত্বে গাজা উপত্যকা ও পশ্চিম তীরের সমন্বয়ে একটি স্বাধীন-সার্বভৌম ফিলিস্তিন রাষ্ট্র গঠনের ব্যাপারে একমত হয়েছে সম্মেলনে অংশ নেওয়া দেশগুলো। তাই এখন থেকে পশ্চিম তীর ইসরাইলের জন্য রেড লাইন। পশ্চিম তীরে যে কোনো ধরনের সম্প্রসারণ কার্যক্রম ইসরাইলের জন্য খারাপ পরিণতি ডেকে আনবে এবং বর্তমানে ইসরাইলের সঙ্গে যেসব দেশের চুক্তি চুক্তি রয়েছে, সেগুলোকে ঝুঁকির মধ্যে ফেলবে।”
যৌথ ঘোষণাপত্রে গাজা উপত্যকা নিয়ন্ত্রণকারী হামাসকে অস্ত্র সমর্পণ ও গাজার প্রশাসন থেকে বিদায় নেওয়ার আহ্বানও জানানো হয়েছে। প্রায় দু’মাস ধরে প্রস্তুতির পর গত সোমবার নিউইয়র্কে রাষ্ট্রসংঘের সাধারণ পরিষদের ৮০তম বার্ষিক অধিবেশন শুরু হয়। এখনও যা চলছে। বিভিন্ন দিনে বিভিন্ন দেশের রাষ্ট্রপ্রধানরা বক্তব্য রাখছেন। এর মধ্যেই রবিবার ব্রিটেন, কানাডা, অস্ট্রেলিয়া এবং পর্তুগাল ফিলিস্তিনকে স্বাধীন রাষ্ট্রের মর্যাদা ঘোষণা করেছে। তারপর বেলজিয়াম, ফ্রান্স, লুক্সেমবার্গ, অ্যান্ডোরা, মোনাকো একই পথ অনুসরণ করে। এই নিয়ে বিগত সাড়ে সাত দশকে স্বাধীন ফিলিস্তিন রাষ্ট্র গঠনের লক্ষ্যে প্রায় ১৬০টি দেশ ঘোষণা দিল।
গত সপ্তাহে রাষ্ট্রসংঘের জেনারেল অ্যাসেম্বলিতে এই সংক্রান্ত প্রস্তাব বিপুল ভোটে পাস হয়। ভারতও প্রস্তাবের পক্ষে ভোট দেয়। তারপর প্রস্তাবটি নিরাপত্তা পরিষদে গেলে ৪ স্থায়ী সদস্য দেশ এবং ১০ অস্থায়ী সদস্য দেশ পক্ষে ভোট দিলেও শুধুমাত্র আমেরিকা ভেটো দেওয়ায় প্রস্তাবটি বাতিল হয়ে যায়।
এদিকে একসঙ্গে একঝাঁক দেশের তরফে ফিলিস্তিনকে স্বাধীন রাষ্ট্রের মর্যাদা দেওয়ায় ফুঁসছে ইসরাইল সরকার। প্রধানমন্ত্রী নেতানিয়াহু বলেছেন, ইউরোপের দেশগুলো সন্ত্রাসবাদী হামাসকে অক্সিজেন জোগাচ্ছে। স্বাধীন ফিলিস্তিন কখনোই হতে দেওয়া হবে না। কারণ, তাহলে তা হবে ইসরাইলের জন্য হুমকি ও কঠিন চ্যালেঞ্জের বিষয়। রাষ্ট্রসংঘে নিযুক্ত ইসরাইলের দূত ড্যানি ড্যানন বৈশ্বিক এই সম্মেলকে ‘সার্কাস’ বলে উল্লেখ করে বলেছেন, “এই সম্মেলনে আদৌ কোনো কাজ হবে না। আমরা মনে করি, সন্ত্রাসবাদকে পুরস্কৃত করতে এই সম্মেলন করা হয়েছে। ফ্রান্সের প্রেসিডেন্ট এমানুয়েল ম্যাক্রোঁ বলেছেন, “আমরা চাই মধ্যপ্রাচ্যে শান্তি ফেরাতে পাশাপাশি দু’টি রাষ্ট্র থাকবে। একটি রাষ্ট্র হবে ইসরাইল, যা ফিলিস্তিনকে স্বীকৃতি দেবে; অপর রাষ্ট্রটি হবে ফিলিস্তিন, যা ইসরাইলকে স্বীকৃতি দেবে। ট্রাম্পকে উদ্দেশ্য করে তিনি বলেছেন, শান্তিতে নোবেল পুরস্কার পেতে হলে ইসরাইলকে যুদ্ধবিরতিতে রাজি করাতে হবে এবং ফিলিস্তিনিদের স্বতন্ত্র অধিকার দিতে হবে।”
রাষ্ট্রসংঘের অধিবেশনে ফরাসি প্রেসিডেন্ট ম্যাক্রোঁ বলেছেন, ‘এখন শান্তির সময় এসেছে এবং গাজায় চলমান যুদ্ধকে আর কিছুতেই মেনে নেওয়া যায় না।’ এদিকে ফিলিস্তিনকে স্বাধীন রাষ্ট্র হিসেবে একঝাঁক দেশ স্বীকৃতি দেওয়ায় ক্রমেই কোণঠাসা বা একঘরে হয়ে পড়ছে ইসরাইল। নাকে ঝামা ঘষা হয়েছে আমেরিকারও। সব মিলিয়ে গাজায় চলমান মানবিক সংকট এবং পশ্চিম তীরে বসতি নির্মাণের কারণে ইসরাইলের ওপর আন্তর্জাতিক চাপ বাড়ছে।








