গাজাকে যুদ্ধের ল্যাবরেটরি বানিয়েছে ইসরাইল: মামদানির বাবা
নতুন পয়গাম, নিউ ইয়র্ক:
নিউ ইয়র্কের নতুন মেয়র জোহরান মানদানির বাবা প্রখ্যাত লেখক ও বুদ্ধিজীবী মাহমুদ মামদানি বলেছেন, ফিলিস্তিনের গাজা উপত্যকাকে যুদ্ধের ল্যাবরেটরি বানিয়েছে ইসরাইল। নেতানিয়াহুর নেতৃত্বে ইসরাইল একটি আগ্রাসী শক্তি। দেশটির রাষ্ট্রীয় নীতি হল সন্ত্রাসবাদ ও গণহত্যা, যেখানে মানবতার লেশমাত্র নেই। তারা গাজায় যে ধ্বংসযজ্ঞ চালিয়ে যাচ্ছে, এটিকে আত্মরক্ষামূলক পদক্ষেপ বলার যৌক্তিকতা নেই। এভাবেই ইসরাইল ও সে দেশের প্রধানমন্ত্রী নেতানিয়াহুকে তুলোধনা করলেন নিউইয়র্ক সিটির নবনির্বাচিত মেয়র জোহরান মামদানির বাবা মাহমুদ মামদানি।
তিনি আরো বলেছেন, গাজাকে ইসরাইল সমরাস্ত্র পরীক্ষার ক্ষেত্র বানিয়েছে। সেখানে তারা বিভিন্ন ধরনের অস্ত্রের পরীক্ষা চালিয়ে যাচ্ছে। এরপর সেসব অস্ত্র অন্যান্য দেশে রফতানি করছে। অথচ ইসরাইলের এসব পরীক্ষায় বিপুল সংখ্যক নিরীহ ফিলিস্তিনি নিহত হচ্ছে। কিন্তু এর জন্য নেতানিয়াহুকে কোথাও কোনো জবাবদিহি করতে হয়নি।
মাহমুদ মামদানির কথায়, ‘ইসরাইল লাগাতার বলে চলেছে, গাজা যুদ্ধের মধ্য দিয়ে তারা আত্মরক্ষার চেষ্টা করছে। আর এই যুক্তিতেই পশ্চিমা বিশ্ব ইসরাইলের পৈশাচিকতা, বর্বরতা ও যুদ্ধাপরাধকে মেনে নিয়েছে। এবং তাই চুপ করে রয়েছে গোটা বিশ্ব।’
মঙ্গলবার আল জাজিরা নিউজকে এক সাক্ষাৎকারে এসব বিস্ফোরক মন্তব্য করেন মামদানি। তিনি আরো বলেন, আন্তর্জাতিক মহল ইসরাইলকে সব অপরাধের ক্ষেত্রে ওয়াকওভার দিয়ে চলেছে। পশ্চিমারা ইসরাইলের মানবতাবিরোধী অপরাধ দেখেও দেখে না। গণহত্যাকারী ইসরাইল সরকারকে কাঠগড়ায় দাঁড় করায় না। তাই ইসরাইলের যাবতীয় অপরাধ বিশ্বের দরবারে ক্লিনচিট পাচ্ছে। তাঁর কথায়, পশ্চিমারা মধ্যপ্রাচ্যের ব্যাপারে নৈতিকতাকে এক কল্পিত মিথের উপর দাঁড় করিয়েছে। তারা দাবি করে, দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধ ও হলোকাস্টের সময় চরম নির্মমতার শিকার হয়েছে ইহুদিরা। সেজন্য তারা আত্মরক্ষার্থে গাজায় যুদ্ধ চালিয়ে যাচ্ছে। অথচ এটা কখনো যুক্তি হতে পারে না।
কারণ, ৮ দশক আগে জার্মানি তথা ইউরোপের দেশে দেশে ইহুদিদের ওপর যে অকথ্য নির্যাতন হয়েছে, তার জন্য তো ফিলিস্তিনি বা গাজাবাসী দায় নয়! বরং ইউরোপের নারকীয় অত্যাচার থেকে বাঁচাতে ইহুদিদেরকে আশ্রয় দিয়েছিলে ফিলিস্তিনিরা। অথচ সেই ফিলিস্তিনিদেরকে উৎখাত করে নিজভূমে পরবাসী বানিয়েছে ইসরাইলিরা।








