অভিমানী চাঁদ পৃথিবী থেকে দূরে সরে যাচ্ছে?
নতুন পয়গাম:
আগেকার দিনে মজা করে কচিকাঁচা শিশুদেরকে চাঁদ চেনাতে কোলে তুলে নিয়ে আকাশের দিকে তাকিয়ে বলা হত, চাঁদ মামা চাঁদ মামা আয়, বাবুর কপালে টিপ দিয়ে যা। চাঁদকে বাঙালিরা মামা সম্বোধন করে বরাবর। চাঁদের আলো মুগ্ধ করে না, এমন মানুষ পাওয়া ভার। চাঁদের প্রতি মানুষের স্নেহ-ভালবাসা চিরকাল নিখাদ। কিন্তু এও বলা হয় যে, চাঁদেরও কলঙ্ক আছে। অর্থাৎ চাঁদ একেবারেই নিষ্কলুষ নয়।
যাহোক, এখন শোনা যাচ্ছে পৃথিবী থেকে ক্রমেই দূরত্ব বাড়াচ্ছে পৃথিবীর এই উপগ্রহ। পৃথিবী একটা গ্রহ, আর চাঁদ হল তার উপগ্রহ। তবুও তার এত সাহস বা স্পর্ধা হয় কীভাবে? তবে কি মানুষের ভালবাসা কমে যাওয়ায় চাঁদের অভিমান হয়েছে? না, তা-ও নয়। বিজ্ঞানীরা বলছেন, চাঁদ নীরবে প্রতি বছর একটু একটু করে পৃথিবী থেকে দূরে সরে যাচ্ছে! তাঁদের মহাজাগতিক হিসেব বলছে, গড়ে প্রতি বছর প্রায় দেড় ইঞ্চি করে চাঁদ দূরে চলে যাচ্ছে। শুনে আজব লাগলেও, বাস্তবে এটি একেবারেই ধীরে এবং প্রাকৃতিক প্রক্রিয়া।
লেজার প্রযুক্তির সাহায্যে বিজ্ঞানীরা এই পরিমাপ করেছেন। নাসার পর্যবেক্ষণ অনুযায়ী, চাঁদের কক্ষপথ পুরোপুরি গোল নয়। ফলে কখনও এটি কাছে আসে, আবার কখনও দূরে সরে যায়। তবে এই দূরে সরে যাওয়ার প্রক্রিয়াটি স্থায়ী এবং এর কারণ পৃথিবীর জোয়ার-ভাটা ও মাধ্যাকর্ষণ বল। সমুদ্রের ঢেউ চাঁদের প্রতি টান তৈরি করে, আর চাঁদের টান পৃথিবীর ঘূর্ণনকে ধীরে ধীরে কমিয়ে দেয়।
বিজ্ঞানীরা বলছেন, কয়েকশো কোটি বছর আগে চাঁদ পৃথিবীর অনেক কাছাকাছি ছিল। তখন চাঁদ আকাশে অনেক বড় ও উজ্জ্বল দেখাত। পৃথিবীর দিনের দৈর্ঘ্যও তখন অনেক কম ছিল। সময়ের সঙ্গে সঙ্গে এই দূরত্ব বৃদ্ধি পেয়েছে এবং আহ্নিক গতির ফসল দিনও কিছুটা দীর্ঘ হয়েছে, যা চাঁদের টানের প্রাকৃতিক ফলাফল। তবে এই পরিবর্তন অত্যন্ত ধীরে ঘটছে। প্রতি বছর দূরত্ব বাড়ছে মাত্র ০.০০০০০০০১ শতাংশ! তাই খুব তাড়াতাড়ি এর কোন বড় প্রভাব পড়বে না। তবে কয়েক লক্ষ বছর পরে চাঁদ অনেকটাই দূরে সরে যাবে, কিন্তু পৃথিবী-চাঁদের ভারসাম্য বজায় থাকবে।
মহাকাশ বিজ্ঞানীরা বলছেন, সেই অনাগত ভবিষ্যতের কথা চিন্তা করলে, সূর্য যখন ধীরে ধীরে প্রসারিত হবে এবং পৃথিবীর জল শুকিয়ে যাবে, তখন চাঁদও প্রভাবিত হবে। তবে সেটি ঘটবে কয়েক কোটি বছর পরে। তাই এখনই ভয়ের কোন কারণ নেই। চাঁদ-পৃথিবীর সম্পর্ক এখন আপাতত সম্পূর্ণ নিরাপদ। অর্থাৎ, মহাজাগতিক কারণে চাঁদ ধীরে ধীরে পৃথিবী থেকে দূরে সরে যাচ্ছে বটে, কিন্তু সে একেবারে চিরতরে হারিয়ে যাচ্ছে না। পুরো বিষয়টি চলছে প্রাকৃতিক ছন্দে। আর প্রকৃতির লাগাম রয়েছে মহান সৃষ্টিকর্তার হাতে। তাই এসব ক্ষেত্রে মানুষ বা বিজ্ঞানীদের করণীয় কিছু নেই।








